শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৫১৬
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
৩. আমদানি মাল ধরা
৫৫১৬। ইবনে আবী আদী বলেন, ইউসুফ ইবনে আদী ..... হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তােমরা বাইরে থেকে আনা মালের দিকে যেওনা। কোন স্থানীয় ব্যক্তি গ্রাম্য ব্যক্তির মাল যেন বিক্রয় না করে। আর বিক্রেতা যখন বাজারে প্রবেশ করবে তখন তার ইখতিয়ার থাকবে।
মােট কথা, এ সকল হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমদানি মাল’ পথে ধরে ফেলতে নিষেধ করেছেন। তারপর এ ক্ষেত্রে বিক্রেতাকে বাজারে প্রবেশ করার পর ইখতিয়ারও প্রদান করেছেন। আর ইখতিয়ার তাে কেবল বিশুদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যেই হয়ে থাকে। কারণ ক্রয়-বিক্রয় যদি জায়িযই না হত, তবে বিক্রেতা ও ক্রেতাকে তাদের ক্রয়-বিক্রয় রহিত করার জন্য বাধ্য করা হত এবং তাদের পক্ষে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় থাকত না। অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিক্রেতাকে এ ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন, তখন বিক্রয়ের এ যুক্তি যে শুদ্ধ হয়েছে, তা প্রমাণিত হয়। যদিও বহিরাগত মাল ও বাণিজ্যিক কাফেলাকে পথে ধরে ফেলা নিষিদ্ধ ছিল।
যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, আপনারা তাে যে বিক্রেতাকে পথে ধরে মাল ক্রয় করা হয়েছে, তার জন্য ইখতিয়ার সাব্যস্ত করেন না অথচ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে উল্লেখিত এ হাদীসে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন। তবে আল্লাহর নিকট তাওফীক প্রার্থনা করে আমরা তাকে এই জবাব দিব, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত البيعان بالخيار ما لم يتفرقا অর্থাৎ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে, যাবত না তারা পৃথক হবে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুতাওয়াতির সূত্রে এ হাদীস বর্ণিত। আমরা ইনশাআল্লাহু এই কিতাবেই যথাস্থানে এর উল্লেখ করব। এ হাদীস দ্বারা আমরা জানতে পারলাম যে, ক্রেতা ও বিক্রেতা পৃথক হবার পর আর তাদের কোন ইখতিয়ার থাকে না।
যদি কেউ এ প্রশ্ন করে যে, আপনি তাে সেই ব্যক্তির জন্য ইখতিয়ার সাব্যস্ত করেন, যে ব্যক্তি না দেখে কোন বস্তু ক্রয় করে, তারপর সে দেখার পর রাজী হলেই তার ক্রয় সম্পন্ন হয়। অতএব ঐ বিক্রেতার জন্যও অনুরূপ ইখতিয়ার হতে পারে, যাকে শহরের বাইরে ধরে ফেলে তার থেকে ক্রয় করা হয়েছেঃ
এ প্রশ্নের জবাবে তাকে বলা হবে, خيار الرؤية (না দেখে ক্রয় করা মাল দেখার পর ক্রেতাকে যে
ইখতিয়ার দেয়া হয়) আমরা কিয়াস দ্বারা সাব্যস্ত করিনি। বরং আমরা সাহাবা-ই কিরামকে সর্বসম্মতিক্রমে এই ইখতিয়ার সাব্যস্ত করতে দেখেছি। তারা এ ব্যাপারে কোন মতবিরােধ করেননি। আর এ ব্যাপারে বিরােধ এসেছে সাহাবা কিরামের পরে। অতএব আমরা এ বিষয়টিকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর এ হাদীস البيعان بالخيار ما لم يتفرقا থেকে বহির্ভূত করেছি। তদুপরি আমরা একথা জানতে পেরেছি যে, তিনি এ হাদীসে এ বিষয়টি উদ্দেশ্যও করেননি। কারণ এ বিষয়টি যে এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়, এ ব্যাপারে তাদের ইজমা ও ঐক্যমত রয়েছে। যেমন, بيع سلم জায়িয হবার ব্যাপারে সাহাবা-ই কিরামের ইজমা দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি যে, ‘সালাম বিক্রয়’ ঐ হাদীসে অন্তর্ভুক্ত নয়, যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ বস্তু বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যা তােমার কাছে নেই।
এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, خيار رؤية -এর ব্যাপারে আপনারা সাহাবা-ই কিরাম হতে কি কোন হাদীস বর্ণনা করেছেন? তবে তাকে বলা হবে, হ্যাঁ।
মােট কথা, এ সকল হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমদানি মাল’ পথে ধরে ফেলতে নিষেধ করেছেন। তারপর এ ক্ষেত্রে বিক্রেতাকে বাজারে প্রবেশ করার পর ইখতিয়ারও প্রদান করেছেন। আর ইখতিয়ার তাে কেবল বিশুদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যেই হয়ে থাকে। কারণ ক্রয়-বিক্রয় যদি জায়িযই না হত, তবে বিক্রেতা ও ক্রেতাকে তাদের ক্রয়-বিক্রয় রহিত করার জন্য বাধ্য করা হত এবং তাদের পক্ষে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় থাকত না। অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিক্রেতাকে এ ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন, তখন বিক্রয়ের এ যুক্তি যে শুদ্ধ হয়েছে, তা প্রমাণিত হয়। যদিও বহিরাগত মাল ও বাণিজ্যিক কাফেলাকে পথে ধরে ফেলা নিষিদ্ধ ছিল।
যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, আপনারা তাে যে বিক্রেতাকে পথে ধরে মাল ক্রয় করা হয়েছে, তার জন্য ইখতিয়ার সাব্যস্ত করেন না অথচ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে উল্লেখিত এ হাদীসে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন। তবে আল্লাহর নিকট তাওফীক প্রার্থনা করে আমরা তাকে এই জবাব দিব, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত البيعان بالخيار ما لم يتفرقا অর্থাৎ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে, যাবত না তারা পৃথক হবে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুতাওয়াতির সূত্রে এ হাদীস বর্ণিত। আমরা ইনশাআল্লাহু এই কিতাবেই যথাস্থানে এর উল্লেখ করব। এ হাদীস দ্বারা আমরা জানতে পারলাম যে, ক্রেতা ও বিক্রেতা পৃথক হবার পর আর তাদের কোন ইখতিয়ার থাকে না।
যদি কেউ এ প্রশ্ন করে যে, আপনি তাে সেই ব্যক্তির জন্য ইখতিয়ার সাব্যস্ত করেন, যে ব্যক্তি না দেখে কোন বস্তু ক্রয় করে, তারপর সে দেখার পর রাজী হলেই তার ক্রয় সম্পন্ন হয়। অতএব ঐ বিক্রেতার জন্যও অনুরূপ ইখতিয়ার হতে পারে, যাকে শহরের বাইরে ধরে ফেলে তার থেকে ক্রয় করা হয়েছেঃ
এ প্রশ্নের জবাবে তাকে বলা হবে, خيار الرؤية (না দেখে ক্রয় করা মাল দেখার পর ক্রেতাকে যে
ইখতিয়ার দেয়া হয়) আমরা কিয়াস দ্বারা সাব্যস্ত করিনি। বরং আমরা সাহাবা-ই কিরামকে সর্বসম্মতিক্রমে এই ইখতিয়ার সাব্যস্ত করতে দেখেছি। তারা এ ব্যাপারে কোন মতবিরােধ করেননি। আর এ ব্যাপারে বিরােধ এসেছে সাহাবা কিরামের পরে। অতএব আমরা এ বিষয়টিকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর এ হাদীস البيعان بالخيار ما لم يتفرقا থেকে বহির্ভূত করেছি। তদুপরি আমরা একথা জানতে পেরেছি যে, তিনি এ হাদীসে এ বিষয়টি উদ্দেশ্যও করেননি। কারণ এ বিষয়টি যে এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়, এ ব্যাপারে তাদের ইজমা ও ঐক্যমত রয়েছে। যেমন, بيع سلم জায়িয হবার ব্যাপারে সাহাবা-ই কিরামের ইজমা দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি যে, ‘সালাম বিক্রয়’ ঐ হাদীসে অন্তর্ভুক্ত নয়, যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ বস্তু বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যা তােমার কাছে নেই।
এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, خيار رؤية -এর ব্যাপারে আপনারা সাহাবা-ই কিরাম হতে কি কোন হাদীস বর্ণনা করেছেন? তবে তাকে বলা হবে, হ্যাঁ।
كتاب البيوع و الصرف
5516 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عَدِيٍّ، قَالَ: ثنا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَا تَسْتَقْبِلُوا الْجَلَبَ , وَلَا يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ , وَالْبَائِعُ بِالْخِيَارِ إِذَا دَخَلَ السُّوقَ» فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنْ تَلَقِّي الْجَلَبِ , ثُمَّ جَعَلَ لِلْبَائِعِ فِي ذَلِكَ الْخِيَارَ , إِذَا دَخَلَ السُّوقَ , وَالْخِيَارُ لَا يَكُونُ إِلَّا فِي بَيْعٍ صَحِيحٍ , لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ فَاسِدًا , لَأُجْبِرَ بَائِعُهُ وَمُشْتَرِيهِ عَلَى فَسْخِهِ , وَلَمْ يَكُنْ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا , الْإِبَاءُ عَنْ ذَلِكَ. فَلَمَّا جَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْخِيَارَ فِي ذَلِكَ لِلْبَيِّعِ , ثَبَتَ بِذَلِكَ صِحَّتُهُ , وَإِنْ كَانَ مَعَهُ تَلَقٍّ مَنْهِيٌّ عَنْهُ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَأَنْتُمْ لَا تَجْعَلُونَ الْخِيَارَ لِلْبَائِعِ الْمُتَلَقَّى , كَمَا جَعَلَهُ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ. فَجَوَابُنَا لَهُ فِي ذَلِكَ , وَبِاللهِ التَّوْفِيقُ , أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَبَتَ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ , مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا» وَتَوَاتَرَتْ عَنْهُ الْآثَارُ بِذَلِكَ , وَسَنَذْكُرُهَا فِي مَوْضِعِهَا مِنْ هَذَا الْكِتَابِ , إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى. فَعَلِمْنَا بِذَلِكَ , أَنَّهُمَا إِذَا تَفَرَّقَا , فَلَا خِيَارَ لَهُمَا. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَأَنْتَ قَدْ جَعَلْتَ لِمَنِ اشْتَرَى , مَا لَمْ يَرَ , خِيَارَ الرُّؤْيَةِ , حَتَّى يَرَاهُ فَيَرْضَاهُ , فِيمَا أَنْكَرْتَ أَنْ يَكُونَ خِيَارُ الْتَلَقِّي كَذَلِكَ أَيْضًا؟ قِيلَ لَهُ: إِنَّ خِيَارَ الرُّؤْيَةِ , لَمْ نُوجِبْهُ قِيَاسًا , وَإِنَّمَا وَجَدْنَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَثْبَتُوهُ وَحَكَمُوا بِهِ , وَأَجْمَعُوا عَلَيْهِ , وَلَمْ يَخْتَلِفُوا فِيهِ. وَإِنَّمَا جَاءَ الِاخْتِلَافُ فِي ذَلِكَ مِمَّنْ بَعْدَهُمْ , فَجَعَلْنَا ذَلِكَ خَارِجًا مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ حَتَّى يَتَفَرَّقَا» وَعَلِمْنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَعْنِ ذَلِكَ , لِإِجْمَاعِهِمْ عَلَى خُرُوجِهِ مِنْهُ , كَمَا عَلِمْنَا بِإِجْمَاعِهِمْ عَلَى تَجْوِيزِ السَّلَمِ , أَنَّهُ خَارِجٌ مِنْ نَهْيِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ. [ص:10] فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: وَهَلْ رَوَيْتُمْ عَنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خِيَارِ الرُّؤْيَةِ شَيْئًا؟ قِيلَ لَهُ: نَعَمْ ,