শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৫৩৩
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
৩. আমদানি মাল ধরা
৫৫৩৩। ফাহাদ বলেন ...... আত, হাকীম ইবন আবী ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করেন। একবার তিনি এক প্রয়োজনে হাকীম ইবন ইয়াযীদ এর নিকট আগমন করেন, তখন তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা লেকদের ছেড়ে দাও, তারা যেন একে অন্যের নিকট হতে লাভকরে,আর যখন তোমাদের কেউ তার ভায়ের নিকট হতে সুপরামার্শ কামনা করে তখন সে যেন তাকে সুপরামর্শ দেয়।
এদ্বারা আমরা জানতে পারলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)যে স্থানীয় লোককে গ্রাম্য লোকের মাল বিক্রি করতে নিয়েধ করেছেন তার কারণ হলো স্থানীয় লোক বাজারের দরদাম সম্পর্কে অবগত। এ কারণে যে স্থানীয় ক্রেতাদের নিকট হতে পূর্ণ দাম আদায় করবে। আর একারণে তারা গ্রাম্য লোকদের নিকট হতে ক্রয় করে লাভবান হতে পারবেনা। আর গ্রাম্য লোকেরা যখন সরাসরি স্থানীয় লোকদের নিকট বিক্রি করবে তখন যেহেতু তারা বাজার দাম সম্পর্কে পুরাপুরি ওয়াকিফ হাল না হবার কারণে স্থানীয় লোকেরা তাদের নিকট হতে ক্রয় করে লাভবান হবে । (অথচ এতে বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্থও হবেনা)এ কারণে নবী (স.) স্থানীয় লোক ও গ্রাম হতে আগত লোকদেরকে ক্রয়-বিক্রয়কে ব্যাপারে স্বাধীন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং স্থানীয় লোকদেরকে এদের ক্রয়-বিক্রয় মধ্যে অনুপ্রবেশ করদে নিষেধ করেছেন। আমরা যে আলোচনা করলাম, বস্তবতা যখন এমনই এবং পূর্বে যেসব হাদীস বর্ণনা করেছি তা দ্বারা যখন ক্ষতিযুক্ত সাক্ষাত জায়েয হওয়া প্রমানিত, তখন গ্রাম হতে মাল নিয়ে আগত লোকদের সহিত সাক্ষাত করে মাল ক্রয় করা, বস্ততঃ গ্রাম্য ব্যক্তির নিকট হতে স্হানীয় ব্যক্তির মাল ক্রয় করার নামান্তর। অতএব এটা রাসূলূল্লাহ(সা.) এর বক্তব্য। دَعُوا النَّاسَ , يَرْزُقُ اللهُ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ (তোমরা মানুষকে স্বাধীন ছেড়ে দাও, আল্লহ্ তাআলা একের মাধ্যমে অন্যের রিযিকের ব্যবস্হা করেন।) এর অন্তর্ভুক্ত হলো। এবং এ ব্যাপারে বিক্রেতার ইখতিয়ারও বাতিল হলো। কারণ, এ ক্ষেত্রে যদি বিক্রেতার ত্রয়-বিক্রয়ের এ চুক্তি বাতিল করার ইখতিয়ার থাকে তবে ক্রেতার কোন লাভও হবেনা। কারণ, তার ইখতিয়ারের কারণে তো সে তার বিক্রয় রহিত করতে সক্ষম। অথবা বিক্রয় না করলেও তাকে ঐ পরিমাণ মূল্য পরিশোধ করেত হবে, যা শহরের লোক পারস্পরিকক ক্রয় বিক্রয়ে ঐ পরিমান মালের মূল্য পরিশোধ করে থাকে।
অতএব স্হানীয় লোকদেরকে গ্রাম্য লোকদের মাল বিক্রয় করে দিতে নিষেধ করা দ্বারা প্রমানিত হয় যে, স্হানীয় লোকদের গ্রাম হতে আগত লোকদের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে অনভিজ্ঞতার সুযোগ গ্রহন করে তাদের নিকট হতে মাল ক্রয় করা জায়েয। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা (রাযিঃ) আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত।
এদ্বারা আমরা জানতে পারলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)যে স্থানীয় লোককে গ্রাম্য লোকের মাল বিক্রি করতে নিয়েধ করেছেন তার কারণ হলো স্থানীয় লোক বাজারের দরদাম সম্পর্কে অবগত। এ কারণে যে স্থানীয় ক্রেতাদের নিকট হতে পূর্ণ দাম আদায় করবে। আর একারণে তারা গ্রাম্য লোকদের নিকট হতে ক্রয় করে লাভবান হতে পারবেনা। আর গ্রাম্য লোকেরা যখন সরাসরি স্থানীয় লোকদের নিকট বিক্রি করবে তখন যেহেতু তারা বাজার দাম সম্পর্কে পুরাপুরি ওয়াকিফ হাল না হবার কারণে স্থানীয় লোকেরা তাদের নিকট হতে ক্রয় করে লাভবান হবে । (অথচ এতে বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্থও হবেনা)এ কারণে নবী (স.) স্থানীয় লোক ও গ্রাম হতে আগত লোকদেরকে ক্রয়-বিক্রয়কে ব্যাপারে স্বাধীন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং স্থানীয় লোকদেরকে এদের ক্রয়-বিক্রয় মধ্যে অনুপ্রবেশ করদে নিষেধ করেছেন। আমরা যে আলোচনা করলাম, বস্তবতা যখন এমনই এবং পূর্বে যেসব হাদীস বর্ণনা করেছি তা দ্বারা যখন ক্ষতিযুক্ত সাক্ষাত জায়েয হওয়া প্রমানিত, তখন গ্রাম হতে মাল নিয়ে আগত লোকদের সহিত সাক্ষাত করে মাল ক্রয় করা, বস্ততঃ গ্রাম্য ব্যক্তির নিকট হতে স্হানীয় ব্যক্তির মাল ক্রয় করার নামান্তর। অতএব এটা রাসূলূল্লাহ(সা.) এর বক্তব্য। دَعُوا النَّاسَ , يَرْزُقُ اللهُ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ (তোমরা মানুষকে স্বাধীন ছেড়ে দাও, আল্লহ্ তাআলা একের মাধ্যমে অন্যের রিযিকের ব্যবস্হা করেন।) এর অন্তর্ভুক্ত হলো। এবং এ ব্যাপারে বিক্রেতার ইখতিয়ারও বাতিল হলো। কারণ, এ ক্ষেত্রে যদি বিক্রেতার ত্রয়-বিক্রয়ের এ চুক্তি বাতিল করার ইখতিয়ার থাকে তবে ক্রেতার কোন লাভও হবেনা। কারণ, তার ইখতিয়ারের কারণে তো সে তার বিক্রয় রহিত করতে সক্ষম। অথবা বিক্রয় না করলেও তাকে ঐ পরিমাণ মূল্য পরিশোধ করেত হবে, যা শহরের লোক পারস্পরিকক ক্রয় বিক্রয়ে ঐ পরিমান মালের মূল্য পরিশোধ করে থাকে।
অতএব স্হানীয় লোকদেরকে গ্রাম্য লোকদের মাল বিক্রয় করে দিতে নিষেধ করা দ্বারা প্রমানিত হয় যে, স্হানীয় লোকদের গ্রাম হতে আগত লোকদের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে অনভিজ্ঞতার সুযোগ গ্রহন করে তাদের নিকট হতে মাল ক্রয় করা জায়েয। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা (রাযিঃ) আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত।
كتاب البيوع و الصرف
5533 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: ثنا وُهَيْبٌ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، أَنَّهُ جَاءَهُ فِي حَاجَةٍ , قَالَ: فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «دَعُوا النَّاسَ , فَلْيُصِبْ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ , وَإِذَا اسْتَنْصَحَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ , فَلْيَنْصَحْ لَهُ» فَعَلِمْنَا بِذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا نَهَى الْحَاضِرَ أَنْ يَبِيعَ لِلْبَادِي , لِأَنَّ الْحَاضِرَ يَعْلَمُ أَسْعَارَ الْأَسْوَاقِ فَيَسْتَقْصِي عَلَى الْحَاضِرِينَ , فَلَا يَكُونُ لَهُمْ فِي ذَلِكَ رِبْحٌ , وَإِذَا بَاعَهُمُ الْأَعْرَابِيُّ عَلَى غِرَّتِهِ وَجَهْلِهِ , بِأَسْعَارِ الْأَسْوَاقِ , رَبِحَ عَلَيْهِ الْحَاضِرُونَ. فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُخَلَّى بَيْنَ الْحَاضِرِينَ وَبَيْنَ الْأَعْرَابِ فِي الْبُيُوعِ , وَمَنَعَ الْحَاضِرِينَ أَنْ يَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ. [ص:12] فَإِذَا كَانَ مَا وَصَفْنَا كَذَلِكَ , وَثَبَتَ إِبَاحَةُ التَّلَقِّي الَّذِي لَا ضَرَرَ فِيهِ , بِمَا وَصَفْنَا مِنَ الْآثَارِ الَّتِي ذَكَرْنَا , صَارَ شِرَى الْمُتَلَقِّي مِنْهُمْ , شِرَى حَاضِرٍ مِنْ بَادٍ , فَهُوَ دَاخِلٌ فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «دَعُوا النَّاسَ , يَرْزُقُ اللهُ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ» وَبَطَلَ أَنْ يَكُونَ فِي ذَلِكَ خِيَارٌ لِلْبَائِعِ , لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ لَهُ فِيهِ خِيَارٌ , إِذًا لَمَا كَانَ لِلْمُشْتَرِي فِي ذَلِكَ رِبْحٌ , وَلَا أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَاضِرًا أَنْ يَعْتَرِضَ عَلَيْهِ , وَلَا أَنْ يَتَوَلَّى الْبَيْعَ لِلْبَادِي مِنْهُ , لِأَنَّهُ يَكُونُ بِالْخِيَارِ فِي فَسْخِ ذَلِكَ الْبَيْعِ , أَوْ يَرُدُّ لَهُ ثَمَنَهُ , إِلَى الْأَثْمَانِ الَّتِي تَكُونُ فِي بِيَاعَاتِ أَهْلِ الْحَضَرِ , بَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ. فَفِي مَنْعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَاضِرِينَ مِنْ ذَلِكَ , إِبَاحَةُ الْحَاضِرِينَ الْتِمَاسَ غِرَّةِ الْبَادِينَ فِي الْبَيْعِ مِنْهُمْ , وَالشِّرَاءِ مِنْهُمْ. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ