শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৫৪৬
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
৪. প্রসঙ্গ ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার যাবত না তারা প্রথক হয়
৫৫৪৬। ইব্র্রাহীম ইব্ন মারযূক বলেন,.... সামুরা ইব্ন জুন্দুব (রাযিঃ) হতে বর্নিত, নবী(সা.) ইরশাদ করেন, ক্রতা- বিক্রেতা উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে যাবত না তারা পৃথক হবে এবং যাতে তারা রাজী তা গ্রহন করবে।
বিশ্লেষন
আবু জা‘ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বানী البيعان بالخيار ما لم يتفرقا এর ব্যাখ্যা প্রসংগে উলামাই কিরামের মতপার্থক্য হয়েছে।একদল উলামা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এ বাণীর মধ্যে ক্রেতা – বিক্রেতার যে পৃথক হবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার অর্থ ক্রয়-বিক্রিয়ের মৌখিক চুক্তি হতে পৃথক হওয়া।অতএব বিক্রেতা যখন বললো, “আমি তোমার নিকটে এ মাল বিক্রি করলাম।” আর ক্রেতাও বললো “এ মাল আমি তোমার নিকট হতে গ্রহন করলাম ।” এতেই চুক্তি করার পর পৃথক হওয়া সাব্যস্ত হলো এবং তাদের ইখতিয়ার শেষ হয়ে গেল । তারা বলেন, তাদের ইখতিয়ার অর্থ হরো বিক্রেতা ক্রেতাকে যে বলেছিল, আমি তোমার নিকট এ গোলামটি এক হাজার দিরহামে বিক্র করেছি, ক্রেতার তা গ্রহণ করার পূর্বেই তা বাতিল করা। কিন্তু ক্রেতা যদি তার বাতিল কররা পূর্বেই গ্রহন করে তবে তারা চুক্তি সম্পন্ন করে পৃথক হলো এবং তাদের ইখতিয়ার বাতিল হয়ে গেল। তারা বলেন,تفرق এর এই যে অর্থ তারা গ্রহন করেছেন, (অর্থাৎ মৌখিক ভাবে পৃথক হওয়া) আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তালাক এর আলোচনায় تفرق এর ঠিক এই অর্থই উদ্দেশ্য করেছেন। ইরশাদ হয়েছে وإن يتفرقا يغن الله كلا من سعته অর্থাৎ তারা (স্বামী-স্ত্রী) যদি পৃথক হয়ে তবে আল্লাহ তাআলা তার প্রাচুর্যের মাধ্যমে উভয়কে বে-নির্যায করে ‍দিবেন। স্বাম যখন স্ত্রীকে বরলো, আমি তোমাকে এত এত এর বিনিমযে তালাক দিলাম, তখন স্ত্রী বরলো, আমি গ্রহণ করলাম এতে তালাক বাযেন হয়ে গেল। এবং স্বামী স্ত্রীকে একে অন্যের থেকে পৃথক হয়ে গেল যদিও তারা দৈহিক দিক থেকে একই স্থানে অবস্থান করুক না কেন। ঠিক অনুরুপভাবে যদি কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বলে , আমি তোমার নিকট আমার এই গোলামটি এক হাজার দিরহামে বিক্রি করলাম অতঃপর ক্রেতা বললো, আমি কবুল করলাম, তবে এতেই তারা বেচা-কেনার চুক্তি হতে পৃথক হযেগেল। যদিও তারা দৈহিক দিক থেকে পৃথক হয়ে স্থান ত্যাগ না করে। যারা এ মন্তব্য করেছেন এবং تفرق এর এ ব্যাখ্যা পেশ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন, মুহাম্মাদ ইন হাসান(রাহঃ)।
‘ইসা ইব্ন্‌ আবান’ বলেন, যে فرقة(পৃথক হওয়া) এ সবে রিওয়ায়াতে উল্লেখিত খিয়ারকে ছিন্ন করে দেয় তা হলো স্থান ত্যাগের মাধ্যমে শারীরিকভাবে পৃথক হওয়া। অতএব যখন কেউ কাউকে বলে, “আমার এই গোলামটি তোমার নিকট এক হাজার দিরহামে বিক্র করলাম”, তখন একথা দ্বারা যাকে সম্বোধন করা হলো, তার ইখতিয়ার থাকবে যে, অর্থাৎ যতক্ষণ সে তার সাথী খেকে শারীরিকভাবে পৃথক না হবে, ততক্ষণ সে তার প্রাস্তাব গ্রহন করতে পারবে। কিন্তু উভয়ে পৃথক হয়ে যাওয়ার পর উক্ত প্রস্তাব গ্রহন করার ইখতিয়ার থাকবেনা।তারা বলেন, যদি আমরা এ হাদীস না পেতাম তাহলে আমরা জানতে পারতাম না যে, প্রতিপক্ষ তাকে সম্বোধ করে যে বিক্রয় প্রস্তাব করেছে, সম্বোধিত ব্যক্তির ঐ প্রস্তাবকে গ্রহন করার অধিকার কোন্ জিনিস কর্তন করে দেয় কিন্ত এই হাদীস দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি যে, ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাব দেযার পর তাদের শারীরকিভাবে পৃথক হয়ে যা্ওয়াটাই ঐ প্রস্তাব বা সম্বোধন কবুল করার অধিকার কর্তন করে দেয়। تفرق এর এ ব্যাখ্যা ইমাম আবু ইউসুফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। ঈসা বলেন, এ হাদীসের যে সব ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যে এটাই সর্বোওম ব্যাখ্যা। কারণ, আমরা فرقة (বা পৃথক হওয়ার) এর একটি সর্বসম্মত অর্থ পেয়েছি ‘ছারফ বিক্রয়’ –এর ক্ষে্ত্রে فرقة দ্বারা পূর্ববর্তী আক্দ’ অনিবার্যভাবে ফাসিদ হয়ে যায়।তা দ্বারা আকদ –এর সম্পন্নতা অনিবার্য হয়না। তো ক্রেতা ও বিক্রেতাকে প্রদত্ত ইভতিয়ারের ক্ষেত্রে যে فرقة শব্দটি হাদীসে এসেছে, সেটাকে যদি আমরা আমাদের কথিত শারীরিক প্রথক হওয়ার অর্থে গ্রহণ করি তাহলেই শুধু তা দ্বারা প্রস্তাবকারীর পূর্ববর্তী চুক্তি প্রস্তাব ফাসিদ হয়; পক্ষান্তরে যদি আমরা فرقة কে ঐ লোকদের কথিত অর্থে গ্রহন করি, যা فرقة الا بدان (শারীরিক ভাবে পৃথক হওয়া) কে বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার কারণ বরেছেন তাহলে সেটা সারফ বিক্রযের ক্ষেত্রে উল্লেখকৃত فرقة -এর সর্বসম্মত অর্থের বিপরীত হবে।তখন فرقة এর সর্বসম্মত মূল অর্থটি বিদ্যমান থাকবে না। কারণ فرقة–এর যে সর্বসম্মত অর্থ তা দ্বারা তার পুর্ববর্তী অকদ সম্পর্ণ না হওয়ার অবস্থায় তা ফাসিদ হযে যায়। অতএব আমাদের জন্য উত্তম হলো এই বিতর্কিত فرقة কে সর্বসম্মত فرقة এর ন্যায় করা। ফলে তাদ্বারা পুর্ববর্তী অসম্পূর্ণ আকদ (বা চুক্তি প্রস্তাব)ফাসিদ হওয়া অনিবার্য হবে । অতএব আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই সাব্যস্ত হলো। অন্য একদল উলামায়ে কিরাম বলেন, আলোচ্য এ হাদীসের فرقة (পৃথক হওয়া) দ্বারা শারীরিকভাবে স্থান ত্যাগ করা উদ্দেশ্য। তারা একথা এভাবে প্রমাণ করেন যে, হাদীসের মধ্যেمتبائعان (ক্রেতা-বিক্রেতা)শব্দটি (নিঃশর্ত)রূপে ব্যবহৃত হয়েছে, আর متبائعان কথাটি বলাই হবে তখন, যখন তাদের পরস্পরে ايجاب ও قبول সম্পন্ন হবে। এর পূর্বে তাদরেকে বলা হয় متساومان (ক্রয়-বিক্রয়ে আলেচনাকারী) بائع (ক্রেতা)এ নামটি ধারণই করবে عقد সম্পন্ন হবার পর। অতএব তার জন্য ইখতিয়ারও সাব্যস্ত হবে আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর (শারীরিকভাবে পৃথখ হওয়ার পূর্বে)।
তারা তাদের এ মতের পক্ষে হযরত ইবন উমার (রাযিঃ) হতে বর্নিত এ হাদীস দ্বারাও প্রমাণ পেশ করেন।আর তাহলো তিনি যখন কোন ব্যক্তির সহিত ক্রয়-বিক্রয় করতেন এবং اقاله (চুক্তি প্রত্যাহার) না করার ইচ্ছা হত, তখন তিনি স্থান ত্যাগ করে কিছুক্ষণ হাটতেন, অতঃপর পুনরায় ফিরে আসতেন । তারা বলেন হযরত ইবন উমার (রাযিঃ) নিজেই রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট হতে البيعان بالخيار ما لم يتفرقا এ হাদীস শুনেছেন । আর তার মতে تفرق এর অর্থ শারীরিকভাবে স্থান ত্যাগ করা । আর এর মাধ্যমেই ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়। এ দারা বুঝা যায় যে নবী সা. এর উদ্দেশ্যও এটাই। তারা হযরত আবু বারযা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্নিত হাদীসও দলীল হিসেবে পেশ করেন, যা আমরা এ অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছি। এবংতার নিকট যে দু ব্যক্তি মামলা পেশ করেছিল, তাদেরকে তিনি যে কথা বরেছিলেন, তা দ্বারাও দলীল পেশকরেন।তিনি তাদেরকে বলেছিলেন ,ما اراكما تفرقتما আমি তো মনে করিনা যে, তোমরা পৃথক হয়েছ।তার একথায় বুঝা যায় যে,تفرق দ্বারা তার মতে সশরীরে স্থান ত্যাগ করা উদ্দেশ্য আর ক্রয়-বিক্রয়ের স্থান হতে এ পৃথক হবার পূর্বে তার মতে ক্রয়-বিক্রয় পূর্ণ হয়নি।
যারা এই মত অবলম্বন করেন, তাদরে বিপরীত পূর্বে উল্লেখিত দুটি মত অবলম্বন কারী উলাময়ে কিরামের বক্তব্য হলো, এই শেষ মত অবলম্বনকারী উলামা গন যে বলেন, যাবত না তারাপ আকদ সম্পন্ন করবে তারা متبائعان (ক্রেতা-বিক্রেতা) হবেনা । বরং আকদ সম্পন্ন হবার পূর্বে তারা হলেন متساومان (ক্রয় বিক্রয়ের আলোচনাকারী) তারা متبائعان নয়। বস্তুতঃ এটা আরবী ভাষায় প্রশস্ততা সম্পর্কে তাদরে অজ্ঞতার ফসল। কারণ, তাদেরকে ক্রয়-বিক্রয়ের নিকটবর্তী হলেও متبائعان (ক্রেতা -বিক্রেতা) নামকরণ করা যেতে পারে। যদিও তারা তখন পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয়ের আকদ সম্পন্ন না করে তাকে। হযরত ইসহাক অথবা ইসমাঈল (আ) কে ذبيح (যবাহকৃত)নামকরণ করা হয়েছিল, কারণ তাকে যবাহ করার নিকটবর্তী করা হয়েছিল। যদিও তাকে যবাহ করা হয়নি। অনুরূপভাবে যে দু-ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা করে তারা আকদ সম্পন্ন না করে থাকলেও যখন তারা ক্রয় বিক্রয়ের নিকটবর্তী হয়েছে তখন তাদেরকে متبائعان (ক্রেতা-বিক্রেতা)বলা যায়। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন لا يسوم الرجل على سوم أخيه ও لا يبيع الرجل على بيع أخيه অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যেন তার ভায়ের ক্রয় বিক্রয়ের ওপর ক্রয় বিক্রয় না করে। এখানে দুটো হাদীসের অর্থই এক ও অভিন্ন্ (অথচ এক হাদীসেতে يسوم বা দরকরা ও অন্য হাদীসে يبيع বা বিক্রয় শব্দ ব্রবহার করা হয়েছে।) আর যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ হাদীসে مساوم (বিক্রয়ের আলোচনাকারী) কে ক্রয় বিক্রয়ের নিকটবর্তী হয়েছে দেখেছেন তখন তাকে متبائعان (ক্রেতা)না্মকরণ করেছেন। যদিও সে ক্রয়ের আকদ করেনি। সে ক্ষেত্রে এখানেও এ সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি (ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনাকরী দুব্যক্তিকে) متبائعان (ক্রতা-বিক্রেতা)নামকরণ করেছেন।কারণ তারা ক্রয়-বিক্রয়ের নিকটবর্তী হয়েছে। যদিও তারা আকদ করেনি। বস্তুত এটা হচ্ছে দুই হাদীসের বিশুদ্ধ معارضة (মুখোমুখিকরণ)
তারা হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রাযিঃ)এর কর্ম ও আচরণ দ্বারা যে فرقة (পৃথক হওয়া) দ্বারা নবী(সা.) এর উদ্দেশ্য কি, সে বিষয়ে দলীল পেশ করেছেন, সে বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, হযরত ইবন উমার(রাযিঃ) আচরণ দ্বারা যেমন তারা বলেছেন, তার যেমন সম্ভাবনা আছে, অনুরূপভাবে অন্য সম্ভাবনাও আছে। কারণ হযরত ইবন উমার (রাযিঃ) যে فرقة (পৃথক হওয়া) এর কথা নবী (সা.) হতে শুনেছেন, সম্ভাবত তার সঠিক অর্থ যে কি, তা তার নিকট অস্পষ্ট রয়েছে। অতএ তার মতে ঐ فرقة بالابدان (শারীরিকভাবে স্থান ত্যাগ করা) যেমন হওয়ার সম্ভবনা আছে, যা এই শেষ মত অবলম্বনকারীগণ বলেন, আর ঐ, فرقة بالابدان ও হতে পারে যে فرقة بالابدان অবলম্বনকারীদের উল্লেখ ইসা ইবন আবান করেছেন। আর فرقة দ্বারা فرقة بالاقوال উদ্দেশ্য হতে পারে, যা অন্য আর একটি দল গ্রহণ করেছেন। কিন্তু হযরত ইবন উমার (রাযিঃ)-এর নিকট এর কোন একটি মত অধিক উত্তম হবার কোন দলীল ছিলনা। অতএব তিনি অধিক সতর্কতার জন্য তার ক্রেতার নিকট হতে সরে দাড়াতেন । তবে তার এরূপ করার কারণ এও হতে পারে যে, কেউ কেউ মনে করতেন এরূপ না করলে, বেচা-কেনা পূর্নই হয় না। অথচ, তিনি কিন্তু এরূপ না করলেও তা পূর্ন হয় বলে বিশ্বাস করতেন, কিন্ত তার ইচ্ছা ছিলো, বিক্রয় চুক্তিটিকে বিতর্কের উর্ধ্বে নিয়ে যাওয়, যাতে প্রতিপক্ষ কোন মতেই তা নাকচ করতে না পারে। হযরত ইবন ‍উমার(রাযিঃ)হতে এমন হাদীসও বর্নিত আছে, যা প্রমান করে যে, বিক্রয় চুক্তি অনিবার্য হওয়ার জন্য فرقة بالابدان এর মত তিনি পোষন করতেন না। আর তাহলোঃ
كتاب البيوع و الصرف
5546 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا عَفَّانَ، قَالَ: ثنا هَمَّامٌ، قَالَ: ثنا قَتَادَةُ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ , مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا , وَيَأْخُذُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَا رَضِيَ مِنَ الْبَيْعِ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَاخْتَلَفَ النَّاسُ فِي تَأْوِيلِ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا» . فَقَالَ قَوْمٌ: هَذَا عَلَى الِافْتِرَاقِ بِأَقْوَالٍ , فَإِذَا قَالَ الْبَائِعُ: قَدْ بِعْتُ مِنْكَ، قَالَ الْمُشْتَرِي: قَدْ قَبِلْتُ، فَقَدْ تَفَرَّقَا وَانْقَطَعَ خِيَارُهُمَا. وَقَالُوا: الَّذِي كَانَ لَهُمَا مِنَ الْخِيَارِ , هُوَ مَا كَانَ لِلْبَائِعِ أَنْ يُبْطِلَ قَوْلَهُ لِلْمُشْتَرِي: قَدْ بِعْتُكَ هَذَا الْعَبْدَ بِأَلْفِ دِرْهَمٍ، قَبْلَ قَبُولِ الْمُشْتَرِي. فَإِذَا قِبَلَ الْمُشْتَرِي , فَقَدْ تَفَرَّقَ هُوَ وَالْبَائِعُ , وَانْقَطَعَ الْخِيَارُ. وَقَالُوا: هَذَا كَمَا ذَكَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي الطَّلَاقِ فَقَالَ {وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ} [النساء: 130] . [ص:14] فَكَانَ الزَّوْجُ إِذَا قَالَ لِلْمَرْأَةِ: قَدْ طَلَّقْتُكِ عَلَى كَذَا وَكَذَا، فَقَالَتِ الْمَرْأَةُ: قَدْ قَبِلْتُ، فَقَدْ بَانَتْ , وَتَفَرَّقَا بِذَلِكَ الْقَوْلِ , وَإِنْ لَمْ يَتَفَرَّقَا بِأَبْدَانِهِمَا. قَالُوا: فَكَذَلِكَ إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ: قَدْ بِعْتُكَ عَبْدِي هَذَا , بِأَلْفِ دِرْهَمٍ، فَقَالَ الْمُشْتَرِي: قَدْ قَبِلْتُ، فَقَدْ تَفَرَّقَا بِذَلِكَ الْقَوْلِ , وَإِنْ لَمْ يَتَفَرَّقَا بِأَبْدَانِهِمَا. وَمِمَّنْ قَالَ بِهَذَا الْقَوْلِ , وَفَسَّرَ بِهَذَا التَّفْسِيرَ , مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ. وَقَالَ عِيسَى بْنُ أَبَانَ: الْفُرْقَةُ الَّتِي تَقْطَعُ الْخِيَارَ الْمَذْكُورَ فِي هَذِهِ الْآثَارِ , هِيَ الْفُرْقَةُ بِالْأَبْدَانِ , وَذَلِكَ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا قَالَ لِلرَّجُلِ: قَدْ بِعْتُكَ عَبْدِي هَذَا بِأَلْفِ دِرْهَمٍ، فَلِلْمُخَاطَبِ بِذَلِكَ الْقَوْلِ , أَنْ يَقْبَلَ , مَا لَمْ يُفَارِقْ صَاحِبَهُ , فَإِذَا افْتَرَقَا , لَمْ يَكُنْ لَهُ بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ يَقْبَلَ. قَالَ: وَلَوْلَا أَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ جَاءَ , مَا عَلِمْنَا , مَا يَقْطَعُ مَا لِلْمُخَاطَبِ , مِنْ قَبُولِ الْمُخَاطَبَةِ الَّتِي خَاطَبَهُ بِهَا صَاحِبُهُ , وَأَوْجَبَ لَهُ بِهَا الْبَيْعَ. فَلَمَّا جَاءَ هَذَا الْحَدِيثُ , عَلِمْنَا أَنَّ افْتِرَاقَ أَبْدَانِهِمَا بَعْدَ الْمُخَاطَبَةِ بِالْبَيْعِ , يَقْطَعُ قَبُولَ تِلْكَ الْمُخَاطَبَةِ. وَقَدْ رُوِيَ هَذَا التَّفْسِيرُ , عَنْ أَبِي يُوسُفَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ. قَالَ عِيسَى: وَهَذَا أَوْلَى مَا حُمِلَ عَلَيْهِ تَفْسِيرُ تَأْوِيلِ هَذَا الْحَدِيثِ , لِأَنَّا رَأَيْنَا الْفُرْقَةَ الَّتِي لَهَا حُكْمٌ فِيمَا اتَّفَقُوا عَلَيْهِ , هِيَ الْفُرْقَةُ فِي الصَّرْفِ , فَكَانَتْ تِلْكَ الْفُرْقَةُ إِنَّمَا يَجِبُ بِهَا فَسَادُ عَقْدٍ مُتَقَدِّمٍ , وَلَا يَجِبُ بِهَا صَلَاحُهُ. فَكَانَتْ هَذِهِ الْفُرْقَةُ الْمَرْوِيَّةُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خِيَارِ الْمُتَبَايِعَيْنِ , إِذَا جَعَلْنَاهَا عَلَى مَا ذَكَرْنَا , فَسَدَ بِهَا مَا كَانَ تَقَدَّمَ مِنْ عَقْدِ الْمُخَاطَبِ. وَإِنْ جَعَلْنَاهَا عَلَى مَا قَالَ الَّذِينَ جَعَلُوا الْفُرْقَةَ بِالْأَبْدَانِ يَتِمُّ بِهَا الْبَيْعُ , كَانَتْ بِخِلَافِ فُرْقَةِ الصَّرْفِ وَلَمْ يَكُنْ لَهَا أَصْلٌ فِيمَا اتَّفَقُوا عَلَيْهِ , لِأَنَّ الْفُرْقَةَ الْمُتَّفَقَ عَلَيْهَا , إِنَّمَا يَفْسُدُ بِهَا مَا تَقَدَّمَهَا , إِذَا لَمْ يَكُنْ تَمَّ , حَتَّى كَانَتْ. فَأَوْلَى الْأَشْيَاءِ بِنَا أَنْ نَجْعَلَ هَذِهِ الْفُرْقَةَ الْمُخْتَلَفَ فِيهَا , كَالْفُرْقَةِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهَا , فَيُجْبَرُ بِهَا فَسَادُ مَا قَدْ تَقَدَّمَهَا , مِمَّا لَمْ يَكُنْ تَمَّ , حَتَّى كَانَتْ , فَثَبَتَ بِذَلِكَ , مَا ذَكَرْنَا. وَقَالَ آخَرُونَ: هَذِهِ الْفُرْقَةُ الْمَذْكُورَةُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ , هِيَ عَلَى الْفُرْقَةِ بِالْأَبْدَانِ , فَلَا يَتِمُّ الْبَيْعُ , حَتَّى تَكُونَ , فَإِذَا كَانَتْ , تَمَّ الْبَيْعُ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ , بِأَنَّ الْخَبَرَ , أَطْلَقَ ذِكْرَ الْمُتَبَايِعَيْنِ فَقَالَ الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ , مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا. قَالُوا: فَهُمَا قَبْلَ الْبَيْعِ مُتَسَاوِمَانِ , فَإِذَا تَبَايَعَا , صَارَا مُتَبَايِعَيْنِ , فَكَانَ اسْمُ الْبَائِعِ , لَا يَجِبُ لَهُمَا إِلَّا بَعْدَ الْعَقْدِ فَلَمْ يَجِبْ لَهُمَا الْخِيَارُ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ أَيْضًا , بِمَا رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ إِذَا بَايَعَ رَجُلًا شَيْئًا , فَأَرَادَ أَنْ لَا يَقْبَلَهُ , قَامَ فَمَشَى , ثُمَّ رَجَعَ. [ص:15] قَالُوا: وَهُوَ قَدْ سَمِعَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْلَهُ «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا» فَكَانَ ذَلِكَ عِنْدَهُ عَلَى التَّفَرُّقِ بِالْأَبْدَانِ , وَعَلَى أَنَّ الْبَيْعَ يَتِمُّ بِذَلِكَ. فَدَلَّ مَا ذَكَرْنَا , عَلَى أَنَّ مُرَادَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ كَذَلِكَ أَيْضًا. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ أَيْضًا بِحَدِيثِ أَبِي بَرْزَةَ الَّذِي قَدْ ذَكَرْنَاهُ عَنْهُ , فِي أَوَّلِ هَذَا الْبَابِ , وَبِقَوْلِهِ لِلرَّجُلَيْنِ اللَّذَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَيْهِ: مَا أَرَاكُمَا تَفَرَّقْتُمَا، فَكَانَ ذَلِكَ التَّفَرُّقُ عِنْدَهُ هُوَ التَّفَرُّقَ بِالْأَبْدَانِ , وَلَمْ يَتِمَّ الْبَيْعُ عِنْدَهُ , قَبْلَ ذَلِكَ التَّفَرُّقِ. فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عِنْدَنَا عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الْمَقَالَةِ , لِأَهْلِ الْمَقَالَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ , أَنَّ مَا ذَكَرُوا مِنْ قَوْلِهِمْ: لَا يَكُونَانِ مُتَبَايِعَيْنِ إِلَّا بَعْدَ أَنْ يَتَعَاقَدَا الْبَيْعَ , وَهُمَا قَبْلَ ذَلِكَ مُتَسَاوِمَانِ غَيْرُ مُتَبَايِعَيْنِ، فَذَلِكَ إِغْفَالٌ مِنْهُمْ لِسَعَةِ اللُّغَةِ , لِأَنَّهُ قَدْ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَا سُمِّيَا مُتَبَايِعَيْنِ , لِقُرْبِهِمَا مِنَ التَّبَايُعِ , وَإِنْ لَمْ يَكُونَا تَبَايَعَا , وَهَذَا مَوْجُودٌ فِي اللُّغَةِ قَدْ سُمِّيَ إِسْحَاقُ أَوْ إِسْمَاعِيلُ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ , ذَبِيحًا لِقُرْبِهِ مِنَ الذَّبْحِ , وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ذُبِحَ. فَكَذَلِكَ يُطْلَقُ عَلَى الْمُتَسَاوِمَيْنِ , اسْمُ الْمُتَبَايِعَيْنِ , إِذَا قَرُبَا مِنَ الْبَيْعِ , وَإِنْ لَمْ يَكُونَا تَبَايَعَا. وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَا يَسُومُ الرَّجُلُ عَلَى سَوْمِ أَخِيهِ» وَقَالَ «لَا يَبِيعُ الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ» وَمَعْنَاهُمَا وَاحِدٌ. فَلَمَّا سَمَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسَاوِمَ الَّذِي قَدْ قَرُبَ مِنَ الْبَيْعِ , مُتَبَايِعًا , وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ قَبْلَ عَقْدِهِ الْبَيْعَ , احْتَمَلَ أَيْضًا أَنْ يَكُونَ كَذَلِكَ الْمُتَسَاوِمَانِ , سَمَّاهُمَا مُتَبَايِعَيْنِ , لِقُرْبِهِمَا مِنَ الْبَيْعِ , وَإِنْ لَمْ يَكُونَا عَقَدَا عُقْدَةَ الْبَيْعِ , فَهَذِهِ مُعَارَضَةٌ صَحِيحَةٌ. وَأَمَّا مَا ذَكَرُوا , عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا , مِنْ فِعْلِهِ الَّذِي اسْتَدَلُّوا بِهِ , عَلَى مُرَادِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْفُرْقَةِ , فَإِنَّ ذَلِكَ قَدْ يَحْتَمِلُ عِنْدَنَا مَا قَالُوا , وَيَحْتَمِلُ غَيْرَ ذَلِكَ. قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا , أَشْكَلَتْ عَلَيْهِ تِلْكَ الْفُرْقَةُ , الَّتِي سَمِعَهَا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا هِيَ؟ فَاحْتَمَلَتْ عِنْدَهُ الْفُرْقَةَ بِالْأَبْدَانِ , عَلَى مَا ذَكَرَهُ أَهْلُ هَذِهِ الْمَقَالَةِ. وَاحْتَمَلَتْ عِنْدَهُ الْفُرْقَةَ بِالْأَبْدَانِ عَلَى مَا ذَكَرَهُ أَهْلُ هَذِهِ الْمَقَالَةِ , الَّتِي ذَهَبَ إِلَيْهَا عِيسَى. وَاحْتَمَلَتْ عِنْدَهُ الْفُرْقَةَ بِالْأَقْوَالِ , عَلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ الْآخَرُونَ , وَلَمْ يَحْضُرْهُ دَلِيلٌ يَدُلُّهُ أَنَّهُ بِأَحَدِهَا أَوْلَى مِنْهُ بِمَا سِوَاهُ مِنْهَا , فَفَارَقَ بَائِعَهُ بِبَدَنِهِ , احْتِيَاطًا. وَيُحْتَمَلُ أَيْضًا أَنْ يَكُونَ فَعَلَ ذَلِكَ , لِأَنَّ بَعْضَ النَّاسِ , يَرَى أَنَّ الْبَيْعَ لَا يَتِمُّ إِلَّا بِذَلِكَ , وَهُوَ يَرَى أَنَّ الْبَيْعَ يَتِمُّ بِغَيْرِهِ. فَأَرَادَ أَنْ يَتِمَّ الْبَيْعُ فِي قَوْلِهِ وَقَوْلِ مُخَالِفِهِ , حَتَّى لَا يَكُونَ لِبَائِعِهِ نَقْضُ الْبَيْعِ عَلَيْهِ , فِي قَوْلِهِ , وَلَا فِي قَوْلِ مُخَالِفِهِ. [ص:16] وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ , مَا يَدُلُّ أَنَّ رَأْيَهُ فِي الْفُرْقَةِ , كَانَ بِخِلَافِ مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ مَنْ ذَهَبَ , إِلَى أَنَّ الْبَيْعَ يَتِمُّ بِهَا
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান