শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৫৯৪
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
৬. অনুচ্ছেদঃ ফল পরিপক্ক হবার পূর্বে বিক্রয় করা প্রসঙ্গ
৫৫৯৪। ইব্‌ন মারযুক বলেন, ..... আমর ইব্‌ন মুররাহ আবুল বখতরী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হযরত ইব্‌ন উমার (রাযিঃ)-কে بيع سلم সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, হযরত উমার (রাযিঃ) গাছের ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যাবত না পরিপক্ক হয়।
উল্লেখিত এসব রিওয়ায়াত প্রমাণ করে যে, উপযোগিতা প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে কোন ফল বিক্রয় করা নিষিদ্ধ। কারণ এটা তো مسلم فيه (সালাম দ্রব্য) হওয়ার আগে (বা বিক্রয় দ্রব্য) রূপে বিবেচিত। তাই তা অস্তিত্ব লাভ করার এবং বিপদমুক্ত হওয়ার আগে তা থেকে নিষেধ করেছেন, তারপরে অবশ্য তাতে 'সালাম' করা বৈধ হবে। আপনি কি দেখছেন না যে, হযরত ইব্‌ন উমার (রাযিঃ)-এর নিকট যখন আবুল বখতরী গাছের খেজুরে مسلم সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি তাঁর জবাবে النهى عن بيع الثمار حتى تسلم (পরিপক্ক হবার পূর্বে ফল বিক্রয় করা নিষিদ্ধ) সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে, তা-ই বলেছিলেন। এ দ্বারা একথা বুঝা যায় যে, পূর্বে যে সব হাদীস আমরা উল্লেখ করেছি, তার মধ্যে যে بيع নিষিদ্ধ হবার কথা বলা হচ্ছে তা হলো সেই بيع যা কোন গাছে ফল অস্তিত্ব লাভ কারর পূর্বেই সংঘটিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর এ বাণী ارايت ان منع الله الخ কি আপনি দেখছেন না, বলত দেখি, যদি আল্লাহ তা'আলা গাছে ফল না দেন, তবে কিসের বিনিময়ে সে তার ভায়ের মাল গ্রহণ করবে। এতএব এ নিষেধাজ্ঞা কেবল ঐ ফল বিক্রয় করার ব্যাপারে প্রযোজ্য, যা অস্তিত্বই লাভ করবে না। আর এসব হাদীসে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে তা হলো অসময়ে ফল বিক্রয় করার ব্যাপারে। পক্ষান্তরে গাছে ফল 'প্রকাশিত' হওয়ার পর তা বিক্রয় করা আমাদের মতে জায়িয আছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে নিম্নে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা এর বৈধতা প্রমাণ করে :
كتاب البيوع و الصرف
5594 - حَدَّثَنَا ابْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: ثنا وَهْبٌ , قَالَ: ثنا شُعْبَةُ , عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنِ السَّلَفِ فِي الثَّمَرِ , فَقَالَ: نَهَى عُمَرُ عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ , حَتَّى يَصْلُحَ فَدَلَّتْ هَذِهِ الْآثَارُ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا , عَلَى أَنَّ الثِّمَارَ الْمَنْهِيَّ عَنْ بَيْعِهَا قَبْلَ بُدُوِّ صَلَاحِهَا , مَا هِيَ؟ فَإِنَّهَا الْمَبِيعَةُ قَبْلَ كَوْنِهَا الْمُسْلَفَ عَلَيْهَا. فَنَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ حَتَّى يَكُونَ وَيُؤْمَنَ عَلَيْهَا الْعَاهَةُ , فَحِينَئِذٍ يَجُوزُ السَّلَمُ فِيهَا. أَفَلَا تَرَى أَنَّ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا لَمَّا سَأَلَهُ أَبُو الْبَخْتَرِيِّ , عَنِ السَّلَمِ فِي النَّخْلِ , كَانَ جَوَابُهُ فِي ذَلِكَ , مَا ذَكَرَ فِي حَدِيثِهِ , عَنِ النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ , حَتَّى تُطْعَمَ. فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ النَّهْيَ , إِنَّمَا وَقَعَ فِي الْآثَارِ الَّتِي قَدَّمْنَا ذِكْرَهَا فِي هَذَا الْبَابِ , عَلَى بَيْعِ الثِّمَارِ , قَبْلَ أَنْ تَكُونَ ثِمَارًا. أَلَا تَرَى إِلَى قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَرَأَيْتَ إِنْ مَنَعَ اللهُ الثَّمَرَةَ , بِمَ يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ مَالَ أَخِيهِ؟» . فَلَا يَكُونُ ذَلِكَ إِلَّا عَلَى الْمَنْعِ , مِنْ ثَمَرَةٍ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَنْ تَكُونَ. وَإِنَّمَا الَّذِي فِي هَذِهِ الْآثَارِ , هُوَ النَّهْيُ عَنِ السَّلَمِ فِي الثِّمَارِ فِي غَيْرِ حِينِهَا , فَهَذِهِ الْآثَارُ تَدُلُّ عَلَى النَّهْيِ عَنْ ذَلِكَ. فَأَمَّا بَيْعُ الثِّمَارِ فِي أَشْجَارِهَا , بَعْدَمَا ظَهَرَتْ , فَإِنَّ ذَلِكَ عِنْدَنَا جَائِزٌ صَحِيحٌ. وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ , مَا جَاءَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান