শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৬৬৩
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১০. যে বিক্রয়ে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা তার অংশ নয়
৫৬৬৩। ইউনুস বলেন, …… উরওয়া ইবন যুবাইর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর স্ত্রী হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার হযরত বারীরা (রাহঃ) তাঁর নিকট এসে বললো, আমি আমার মনীবদের সহিত প্রতি বছর এক উকিয়া পরিশোধ করার শর্তে (এভাবে নয় বছরে) নয় উকিয়ার বিনিময়ে আযাদ হবার চুক্তি করেছি। অতএব আপনি আমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করুন। আর তখন তিনি (বারীরা রা) চুক্তির কিছুই পরিশোধ করেননি। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তাকে বললেন, তুমি তোমার মনীবদের কাছে যাও। তারা যদি পছন্দ করে যে, আমি সবটাই পরিশোধ করে দেই এবং তোমার 'ওয়ালা' হবে আমার, তবে আমি তোমার কিতাবাত চুক্তির অর্থ আদায় করব। হযরত বারীরা (রাযিঃ) তাঁর মনীবদের নিকট গমন করেন এবং তাদের নিকট এ প্রস্তাব পেশ করেন। কিন্তু তারা এ প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করে বললো, তিনি যদি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করে ছাওয়াবের আশায় তোমার 'বাদালে কিতাবাত’ আদায় করেন, তবে তা করতে পারেন। ওয়ালা হবে আমাদের। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) এ কথা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট আলোচনা করলে তিনি বললেন,, “তাদের এই শর্ত যেন তোমাকে এ কাজ হতে বিরত না রাখে। তুমি তাকে ক্রয় কর এবং আযাদ করে দাও। ওয়ালা তারই হবে, যে আযাদ করবে।” তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোক সমাবেশে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্ পাকের হামদ ও ছানার পর বললেন, “ঐ সমস্ত লোকের কি হলো যে, তারা এমন সব শর্ত আরোপ করে যা কিতাবুল্লাহর মধ্যে নেই। যে শর্ত কিতাবুল্লাহর মধ্যে নেই তা বাতিল। একশবার শর্ত করলেও তা বাতিল। আল্লাহর ফায়সালা অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং আল্লাহর শর্তই অধিকতর মযবুত ও শক্তিশালী। ওয়ালা তারই, যে আযাদ করবে।"
এ হাদীসের মধ্যে ক্রেতার আযাদ করা ও আযাদকৃত (গোলাম বাঁদী) এর ওয়ালা বিক্রেতার হবে, এ শর্তে বিক্রয় করা যে মুবাহ, তার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু যখন এরূপ ঘটনা সংঘটিত হবে, তখন বিক্রয় তো হয়ে যাবে, কিন্তু শর্ত বাতিল হবে এবং ওয়ালা হবে তারই যে আযাদ করবে। হযরত উরওয়া (রাহঃ) কর্তৃক হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে উল্লেখ আছে, হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তাকে বললেন, আমি তোমার 'বাদালে কিতাবাত' একবারই আদায় করে দেই, তোমার মনীবরা এটা পছন্দ করলে আমি তা-ই করব এবং সে ক্ষেত্রে ওয়ালা হবে আমার। কিন্তু হযরত বারীরা (রাযিঃ) যখন তাদের নিকট এ প্রস্তাব পেশ করলেন, তখন তারা বললো, তিনি যদি সাওয়াবের উদ্দেশ্যে এ কাজ করতে চান, করতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-কে বললেন, তাদের একথা যেন তোমাকে একাজ করতে বিরত না রাখে। তুমি তাকে ক্রয় কর, এবং আযাদ করে দাও, ওয়ালা হবে তার-ই যে আযাদ করবে।
এ হাদীসে হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর মনীবদের পক্ষ হতে ওয়ালা-এর যে শর্ত করা হয়েছে, তা তাদের বিক্রয়ের ব্যাপারে নয়, বরং হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর পক্ষ হতে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) যে 'বাদালে কিতাব' আদায় করবেন, তারা সে ক্ষেত্রে তাদের জন্য ওয়ালা-এর শর্ত আরোপ করেছে, তাদের জন্য ওয়ালা-এর শর্ত মেনে নেয়া না হলে তারা কিতাবাত চুক্তি হতে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে। অতঃপর হযরত আয়েশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি তাঁকে বললেন, তাদের এরূপ শর্ত আরোপ করা যেন তোমাকে তোমার একাজ হতে বিরত না রাখে। অর্থাৎ বারীরা (রাযিঃ)-কে আযাদ করে সাওয়াব হাসিল করার যে নিয়ত তুমি করেছ তা হতে তুমি এ কারণে বিরত থেকনা। বরং তুমি তাকে ক্রয় কর এবং আযাদ করে দাও। বস্তুতঃ ওয়ালা তারই হবে, যে আযাদ করবে।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, হযরত বারীরা (রাযিঃ)-কে ক্রয়ের কথা প্রথম রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-ই বলেছেন, হযরত আয়েশা (রাযিঃ) ও বারীরা (রাযিঃ)-এর মনীবদের মধ্যে পূর্বে এ ব্যাপারে কোন আলোচনাই হয়নি। আর এর পরেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করলেন, তিনি বললেন, সে সব লোকদের কি হলো, যারা এমন সব শর্ত আরোপ করে, যা কিতাবুল্লাহর মধ্যে নেই। যে সব শর্ত কিতাবুল্লাহর মধ্যে নেই তা বাতিল, যদিও তা একশ বারই করা হোক না কেন। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) যে (হযরত বারীরা রা এর) ওয়ালা দাবী করেছিলেন, অথচ মালিক হিসাবে তার সাথে কিতাবাত চুক্তি করেছে অন্য লোক। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ কারণেই হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-এর ওয়ালা-এর দাবী অপসন্দ করে একথা বলেছেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে সতর্ক করে শিক্ষা দিয়েছেন যে, 'ওয়ালা'-এর মালিক হবে সে-ই ব্যক্তি, যে তাকে আযাদ করেছে। অর্থাৎ মুকাতাব যখন বাদালে কিতাবাত আদায়ের পর আযাদ হবে তখন তার মনীব যে তাকে 'বাদালে কিতাবও গ্রহণ করে আযাদ করেছে, সে-ই তার ওয়ালা-এর মালিক হবে।
এ হাদীসে পূর্ববর্তী হাদীসসমূহের বিপরীত কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ হাদীসে বিক্রয়ের সময় ولاء এর শর্ত আরোপ করা হলে তার হুকুম কি হবে, বিক্রয় ফাসিদ হবে, না কি ফাসিদ হবে না, এ বিষয়ের কোন দলীল নেই।
যদি কেউ এ প্রশ্ন করে, হিশাম ইবন উরওয়া তার পিতা হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তার মধ্যে কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
আমরা তাকে বলব, আপনি সত্যই বলেছেন।
এ হাদীসের মধ্যে ক্রেতার আযাদ করা ও আযাদকৃত (গোলাম বাঁদী) এর ওয়ালা বিক্রেতার হবে, এ শর্তে বিক্রয় করা যে মুবাহ, তার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু যখন এরূপ ঘটনা সংঘটিত হবে, তখন বিক্রয় তো হয়ে যাবে, কিন্তু শর্ত বাতিল হবে এবং ওয়ালা হবে তারই যে আযাদ করবে। হযরত উরওয়া (রাহঃ) কর্তৃক হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে উল্লেখ আছে, হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তাকে বললেন, আমি তোমার 'বাদালে কিতাবাত' একবারই আদায় করে দেই, তোমার মনীবরা এটা পছন্দ করলে আমি তা-ই করব এবং সে ক্ষেত্রে ওয়ালা হবে আমার। কিন্তু হযরত বারীরা (রাযিঃ) যখন তাদের নিকট এ প্রস্তাব পেশ করলেন, তখন তারা বললো, তিনি যদি সাওয়াবের উদ্দেশ্যে এ কাজ করতে চান, করতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-কে বললেন, তাদের একথা যেন তোমাকে একাজ করতে বিরত না রাখে। তুমি তাকে ক্রয় কর, এবং আযাদ করে দাও, ওয়ালা হবে তার-ই যে আযাদ করবে।
এ হাদীসে হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর মনীবদের পক্ষ হতে ওয়ালা-এর যে শর্ত করা হয়েছে, তা তাদের বিক্রয়ের ব্যাপারে নয়, বরং হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর পক্ষ হতে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) যে 'বাদালে কিতাব' আদায় করবেন, তারা সে ক্ষেত্রে তাদের জন্য ওয়ালা-এর শর্ত আরোপ করেছে, তাদের জন্য ওয়ালা-এর শর্ত মেনে নেয়া না হলে তারা কিতাবাত চুক্তি হতে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে। অতঃপর হযরত আয়েশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি তাঁকে বললেন, তাদের এরূপ শর্ত আরোপ করা যেন তোমাকে তোমার একাজ হতে বিরত না রাখে। অর্থাৎ বারীরা (রাযিঃ)-কে আযাদ করে সাওয়াব হাসিল করার যে নিয়ত তুমি করেছ তা হতে তুমি এ কারণে বিরত থেকনা। বরং তুমি তাকে ক্রয় কর এবং আযাদ করে দাও। বস্তুতঃ ওয়ালা তারই হবে, যে আযাদ করবে।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, হযরত বারীরা (রাযিঃ)-কে ক্রয়ের কথা প্রথম রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-ই বলেছেন, হযরত আয়েশা (রাযিঃ) ও বারীরা (রাযিঃ)-এর মনীবদের মধ্যে পূর্বে এ ব্যাপারে কোন আলোচনাই হয়নি। আর এর পরেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করলেন, তিনি বললেন, সে সব লোকদের কি হলো, যারা এমন সব শর্ত আরোপ করে, যা কিতাবুল্লাহর মধ্যে নেই। যে সব শর্ত কিতাবুল্লাহর মধ্যে নেই তা বাতিল, যদিও তা একশ বারই করা হোক না কেন। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) যে (হযরত বারীরা রা এর) ওয়ালা দাবী করেছিলেন, অথচ মালিক হিসাবে তার সাথে কিতাবাত চুক্তি করেছে অন্য লোক। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ কারণেই হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-এর ওয়ালা-এর দাবী অপসন্দ করে একথা বলেছেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে সতর্ক করে শিক্ষা দিয়েছেন যে, 'ওয়ালা'-এর মালিক হবে সে-ই ব্যক্তি, যে তাকে আযাদ করেছে। অর্থাৎ মুকাতাব যখন বাদালে কিতাবাত আদায়ের পর আযাদ হবে তখন তার মনীব যে তাকে 'বাদালে কিতাবও গ্রহণ করে আযাদ করেছে, সে-ই তার ওয়ালা-এর মালিক হবে।
এ হাদীসে পূর্ববর্তী হাদীসসমূহের বিপরীত কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ হাদীসে বিক্রয়ের সময় ولاء এর শর্ত আরোপ করা হলে তার হুকুম কি হবে, বিক্রয় ফাসিদ হবে, না কি ফাসিদ হবে না, এ বিষয়ের কোন দলীল নেই।
যদি কেউ এ প্রশ্ন করে, হিশাম ইবন উরওয়া তার পিতা হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তার মধ্যে কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
আমরা তাকে বলব, আপনি সত্যই বলেছেন।
كتاب البيوع و الصرف
5663 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ: ثنا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ , مِنْهُمْ يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ , وَاللَّيْثُ , عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: جَاءَتْ بَرِيرَةُ إِلَيَّ , فَقَالَتْ: يَا عَائِشَةُ , إِنِّي قَدْ كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ , فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ , فَأَعِينِينِي , وَلَمْ تَكُنْ قَضَتْ مِنْ كِتَابَتِهَا شَيْئًا. فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ: ارْجِعِي إِلَى أَهْلِكَ , فَإِنْ أَحَبُّوا أَنْ أُعْطِيَهُمْ ذَلِكَ جَمِيعًا , وَيَكُونَ وَلَاؤُكَ لِي فَعَلْتُ. فَذَهَبَتْ إِلَى أَهْلِهَا , فَعَرَضَتْ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ , فَأَبَوْا وَقَالُوا: إِنْ شَاءَتْ أَنْ تَحْتَسِبَ عَلَيْكَ فَلْتَفْعَلْ , وَيَكُونَ وَلَاؤُكَ لَنَا. فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «لَا يَمْنَعُكَ ذَلِكَ مِنْهَا ابْتَاعِي وَأَعْتِقِي , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» . [ص:44] وَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاسِ , فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ , فَمَا بَالُ نَاسٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللهِ , فَهُوَ بَاطِلٌ , وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ , قَضَاءُ اللهِ أَحَقُّ , وَشَرْطُ اللهِ أَوْثَقُ , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ غَيْرُ مَا فِي الْأَحَادِيثِ الْأُوَلِ , وَذَلِكَ أَنَّ فِي الْأَحَادِيثِ الْأُوَلِ , أَنَّ أَهْلَ بَرِيرَةَ , أَرَادُوا أَنْ يَبِيعُوهَا عَلَى أَنْ تُعْتِقَهَا عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , وَيَكُونَ وَلَاؤُهَا لَهُمْ , فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَا يَمْنَعُكَ ذَلِكَ , اشْتَرِيهَا فَأَعْتِقِيهَا , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» . فَكَانَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ إِبَاحَةُ الْبَيْعِ , عَلَى أَنْ يُعْتِقَ الْمُشْتَرِي , وَعَلَى أَنْ يَكُونَ وَلَاءُ الْمُعْتَقِ لِلْبَائِعِ , فَإِذَا وَقَعَ ذَلِكَ , ثَبَتَ الْبَيْعُ , وَبَطَلَ الشَّرْطُ , وَكَانَ الْوَلَاءُ لِلْمُعْتِقِ. وَفِي حَدِيثِ عُرْوَةَ , عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تعالى عَنْهَا , أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا قَالَتْ لَهَا: إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكَ أَنْ أُعْطِيَهُمْ ذَلِكَ تُرِيدُ الْكِتَابَةَ صَبَّةً وَاحِدَةً فَعَلْتُ , وَيَكُونَ وَلَاؤُكَ لِي. فَلَمَّا عَرَضَتْ عَلَيْهِمْ بَرِيرَةُ ذَلِكَ قَالُوا: إِنْ شَاءَتْ أَنْ تَحْتَسِبَ عَلَيْكَ فَلْتَفْعَلْ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا لَا يَمْنَعُكَ ذَلِكَ مِنْهَا , اشْتَرِيهَا فَأَعْتِقِيهَا , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ. فَكَانَ الَّذِي فِي هَذَا الْحَدِيثِ , مِمَّا كَانَ مِنْ أَهْلِ بَرِيرَةَ , مِنِ اشْتِرَاطِ الْوَلَاءِ , لَيْسَ فِي بَيْعٍ , وَلَكِنْ فِي أَدَاءِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا إِلَيْهِمِ الْكِتَابَةَ عَنْ بَرِيرَةَ , وَهُمْ تَوَلَّوْا عَقْدَ تِلْكَ الْكِتَابَةِ , وَلَمْ يَكُنْ تَقَدَّمَ ذَلِكَ الْأَدَاءُ مِنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا , مِلْكٌ [ص:45] فَذَكَرَتْ ذَلِكَ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ «لَا يَمْنَعُكِ ذَلِكَ مِنْهَا» أَيْ: لَا تَرْجِعِينَ لِهَذَا الْمَعْنَى , عَمَّا كُنْتِ نَوَيْتِ فِي عَتَاقِهَا مِنَ الثَّوَابِ «اشْتَرِيهَا فَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» . فَكَانَ ذِكْرُ ذَلِكَ الشِّرَاءِ هَاهُنَا ابْتِدَاءً , مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ مِمَّا كَانَ قَبْلَ ذَلِكَ , بَيْنَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا , وَبَيْنَ أَهْلِ بَرِيرَةَ , فِي شَيْءٍ. ثُمَّ كَانَ «قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَطَبَ فَقَالَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللهِ , فَهُوَ بَاطِلٌ , وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ» إِنْكَارًا مِنْهُ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا , فِي طَلَبِهَا وَلَاءَ مَنْ تَوَلَّى غَيْرُهَا كِتَابَتَهَا بِحَقِّ مِلْكِهِ عَلَيْهَا ثُمَّ نَبَّهَهَا وَعَلَّمَهَا بِقَوْلِهِ «فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» أَيْ أَنَّ الْمُكَاتَبَ إِذَا أُعْتِقَ بِأَدَاءِ الْكِتَابَةِ , فَمُكَاتِبُهُ هُوَ الَّذِي أَعْتَقَهُ , فَوَلَاؤُهُ لَهُ. فَهَذَا حَدِيثٌ فِيهِ , ضِدُّ مَا فِي غَيْرِهِ مِنَ الْأَحَادِيثِ الْأُوَلِ , وَلَيْسَ فِيهِ دَلِيلٌ عَلَى اشْتِرَاطِ الْوَلَاءِ فِي الْبَيْعِ كَيْفَ حُكْمُهُ؟ هَلْ يَجِبُ بِهِ فَسَادُ الْبَيْعِ أَمْ لَا؟ فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَإِنَّ هِشَامَ بْنَ عُرْوَةَ , قَدْ رَوَاهُ عَنْ أَبِيهِ , فَزَادَ فِيهِ شَيْئًا. قُلْنَا لَهُ: صَدَقْتَ ,