শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৬৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ৫৬৬৫
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১০. যে বিক্রয়ে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা তার অংশ নয়
৫৬৬৪-৬৫। ইসমাঈল ইবন ইয়াহ্ইয়া বলেন, হিশাম ইবন উরওয়া (রাহঃ) তার পিতা হতে, তিনি হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার বারীরা (রাযিঃ) আমার নিকট এসে বললো, আমি আমার মনীবদের সহিত নয় উকিয়ার উপর প্রতি বছরে এক উকিয়ার শর্তে কিতাবাত চুক্তি করেছি, সুতরাং আপনি এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন। তখন হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তাকে বললেন, তোমার মনীবরা যদি পছন্দ করে, আমি একবারই তাদেরকে সব উকিয়া প্রদান করব এবং তোমার ولاء আমার হবে, তবে আমি তা-ই করব। অতঃপর হযরত বারীরা (রাযিঃ) তাঁর মনীবদের নিকট গমন করে তাদেরকে একথা বললে তারা তা অস্বীকার করে । তিনি তার মনীবীদের নিকট হতে পুনরায় হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-এর নিকট প্রত্যাবর্তন করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেখানে বসা ছিলেন।
হযরত বারীরা এসে বললেন, আমি তাদের নিকট প্রস্তাব পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা ব্যতীত এ প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে। তার এ বক্তব্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) শ্রবণ করে বিষয়টি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তাঁকে বিস্তারিত জানালেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তাকে গ্রহণ কর এবং তাদের শর্ত মেনে নাও। বস্তুতঃ ولاء তারই হবে, যে তাকে আযাদ করবে। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তেমনই করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোক সমাবেশে বললেন, অতঃপর যুহরী (রাহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করেন।

ইউনুস বলেন, ...... মালেক বলেন, অতঃপর তিনি স্বীয় সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
এ হাদীসে তা-ই বর্ণিত হয়েছে, যা যুহরী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ উভয় হাদীসেই রয়েছে যে, ولاء -এর শর্ত পেশ করেছিল হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর মনীবরা এবং হযরত আয়েশা (রাযিঃ) ولاء ব্যতীত হযরত বারারী (রাহঃ) এর بدل كتابت আদায় করতে অস্বীকার করেছেন। ইমাম যুহরী ও হিশাম উভয়ই এ বিষয়ে অভিন্ন রিওয়ায়াত করেন। এবং প্রথমে বর্ণিত হাদীসসমূহের রাবীদের থেকে ভিন্ন রিওয়ায়াত করেছেন। তবে হিশাম, ইমাম যুহরী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের উপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর এ বক্তব্য خذيها واشترطي (তুমি তাকে গ্রহণ কর এবং তাদের শর্ত মেনে নাও)। বস্তুত, ولاء তো তারই হবে যে তাঁকে আযাদ করবে। অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। হিশাম (রাহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এরূপ বর্ণিত হয়েছে। অথচ ইমাম যুহরী (রাহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এখানে ابتاعي وأعتقي (তুমি তাকে ক্রয় কর এবং আযাদ করে দাও)। বস্তুতঃ ولاء তো তারই হবে, যে তাকে আযাদ করবে, বর্ণিত হয়েছে। এই স্থানে হিশাম ও ইমাম যুহরী ভিন্ন রিওয়ায়াত করেছেন। (এ দুজনের রিওয়ায়াতের মধ্য হতে কার রিওয়াত গ্রহণযোগ্য হবে।) এ ব্যাপারে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠী যদি ضبط ও حفظ (হাদীস সংরক্ষণের যোগ্যতা) হয়, তবে যিনি এর যোগ্যতর ব্যক্তি, তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়াতই গ্রহণ করা এবং অন্যদের রিওয়ায়াত পরিত্যাগ করা হবে। এ বিবেচনায় এখানে ইমাম যুহরী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসই গ্রহণযোগ্য। কারণ তিনি হিশাম অপেক্ষা অধিকতর ضبط ও حفظ অধিকারী। আর যদি تاويل ও ব্যাখ্যা নিরিখে বিবেচনা করা হয় তবে হিশাম (রাহঃ) কর্তৃক হাদীসে خذيها যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কখনও এর অর্থ ابتاعيا (তুমি তাকে ক্রয় কর) ও হতে পারে। যেমন এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করল بكم آخذ هذا العبد যার অর্থ হয় بكم أبتاع هذا العبد (এ গোলামটি কতমূল্যে সে ক্রয় করেছে?) তদ্রূপ কেউ কাউকে বললো خذ هذا العبد بألف درهم এর অর্থ হয় এ গোলামটি তুমি এক দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় কর। (অর্থাৎ الاخذ শব্দটি কোন কোন সময় ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়) خذيها বলার পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) اشترطي (তুমি শর্ত কর) বললেন। অথচ তিনি হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-কে একথা বলেননি যে, তিনি কি শর্ত করবেন। অতএব এখানে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-কে বলেছেন, বিশুদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়ে যে সব শর্ত আরোপ করা হয়, তুমি সেই সব শর্ত আরোপ কর। অতএব হযরত হিশাম কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের যখন এরূপ ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে, এবং তার অর্থ স্পষ্ট হবে, তখন আর তা হযরত যুহরী (রাহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হবেনা। তবে এ হাদীসে একথার কোন উল্লেখ নেই যে, যখন ক্রয়-বিক্রয়ে এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হবে, তখন ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম কি হবে? ফাসিদ হবে, না কি জায়িয হবে?
যে সমস্ত উলামা-ই কিরাম শর্ত আরোপের কারণে ক্রয়-বিক্রয়কে ফাসিদ বলেন, তারা দলীল হিসেবে এসব হাদীস বর্ণনা করেনঃ
كتاب البيوع و الصرف
5664 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ , عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ , عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ , عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: جَاءَتْنِي بَرِيرَةُ فَقَالَتْ: إِنِّي كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ , فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ , فَأَعِينِينِي. فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ: إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكَ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ , عَدَدْتُهَا لَهُمْ , وَيَكُونُ وَلَاؤُكَ لِي , فَعَلْتُ. فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا , فَقَالَتْ لَهُمْ ذَلِكَ , فَأَبَوْا عَلَيْهَا. فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِ أَهْلِهَا وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ فَقَالَتْ: إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَبَوْا إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ. فَسَمِعَ بِذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهَا , فَأَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ فَقَالَ: «خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ , ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاسِ , " فَذَكَرَ مِثْلَ مَا فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ

5665 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ , مِثْلُ مَا فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ أَنَّ الَّذِي كَانَ فِيهِ الِاشْتِرَاطُ مِنْ أَهْلِ بَرِيرَةَ , أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ وَإِبَاءُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهَا هُوَ أَدَاءُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا , عَنْ بَرِيرَةَ الْكِتَابَةَ. فَقَدِ اتَّفَقَ الزُّهْرِيُّ وَهِشَامٌ عَلَى هَذَا , وَخَالَفَا فِي ذَلِكَ أَصْحَابَ الْأَحَادِيثِ الْأُوَلِ , وَزَادَ هِشَامٌ عَلَى الزُّهْرِيِّ , قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» هَكَذَا فِي حَدِيثِ هِشَامٍ [ص:46] وَمَوْضِعُ هَذَا الْكَلَامِ فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ «ابْتَاعِي وَأَعْتِقِي , فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» . فَفِي هَذَا اخْتَلَفَ هِشَامٌ وَالزُّهْرِيُّ. فَإِنْ كَانَ الَّذِي يُعْتَبَرُ فِي هَذَا , هُوَ الضَّبْطُ وَالْحِفْظُ , فَيُؤْخَذُ بِمَا رَوَى أَهْلُهُ , وَيَتْرُكُ مَا رَوَى الْآخَرُونَ , فَإِنَّ مَا رَوَى الزُّهْرِيُّ أَوْلَى , لِأَنَّهُ أَتْقَنُ وَأَضْبَطُ وَأَحْفَظُ , مِنْ هِشَامٍ. وَإِنْ كَانَ الَّذِي يُعْتَبَرُ فِي ذَلِكَ , هُوَ التَّأْوِيلُ , فَإِنَّ قَوْلَهُ «خُذِيهَا» قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَاهُ: ابْتَاعِيهَا , كَمَا يَقُولُ الرَّجُلُ لِصَاحِبِهِ «بِكَمْ آخُذُ هَذَا الْعَبْدَ» يُرِيدُ بِذَلِكَ «بِكَمْ أَبْتَاعُ هَذَا الْعَبْدَ؟» . وَكَمَا يَقُولُ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ «خُذْ هَذَا الْعَبْدَ بِأَلْفِ دِرْهَمٍ» يُرِيدُ بِذَلِكَ الْبَيْعَ. ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاشْتَرِطِي «فَلَمْ يُبَيِّنْ مَا تَشْتَرِطُ. فَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ أَرَادَ» وَاشْتَرِطِي مَا يُشْتَرَطُ فِي الْبِيَاعَاتِ الصِّحَاحِ " فَلَيْسَ فِي حَدِيثِ هِشَامٍ هَذَا لَمَّا كَشَفَ مَعْنَاهُ , خِلَافٌ لِشَيْءٍ مِمَّا فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ , وَلَا بَيَانٌ فِيهِمَا كَيْفَ حُكْمُ الْبَيْعِ إِذَا وَقَعَ فِيهِ مِثْلُ هَذَا الشَّرْطِ , هَلْ يَكُونُ فَاسِدًا , أَوْ هَلْ يَكُونُ جَائِزًا؟ وَأَمَّا مَا احْتَجَّ بِهِ الَّذِينَ أَفْسَدُوا الْبَيْعَ بِذَلِكَ الشَّرْطِ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান