শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৬৭৫
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১০. যে বিক্রয়ে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা তার অংশ নয়
৫৬৭৫। মুহাম্মাদ ইবন নু'মান বলেন নাফে' হযরত ইবন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি একথা অপছন্দ করতেন যে, কোন ব্যক্তি কোন বাঁদীকে এ শর্তে ক্রয় করবে যে, সে না তাকে বিক্রয় করতে পারবে, আর না হিবা করতে পারবে।
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রকাশ পায় যে, হযরত উমার (রাযিঃ) হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাযিঃ)-এর নিকট বিক্রয় করাকে বাতিল করে দেন। এবং আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ বিরোধিতা না করে তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন । অথচ, তাঁর বিরোধিতা করার অধিকার ছিল। কারণ, এটা হযরত উমার (রাযিঃ) এর নির্দেশ ছিল না, ছিল ফতোয়া। আর আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) এর স্ত্রীও তা মেনে নিয়েছেন। অথচ তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর একজন সাহাবিয়া ছিলেন। আর হযরত ইবন উমার (রাযিঃ) তাদের সকলের অনুসরণ করেছেন। অথচ হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর ব্যাপারে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) কে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি বলেছিলেন তা তিনি জানতেন যা আমরা তাঁর থেকে এ অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছি।
অতএব এটা প্রমাণ করে যে, হযরত ইবন উমার (রাযিঃ)-এর মতে এ হাদীসের অর্থ ঐ অর্থের বিপরীত, যা তাঁর হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশকারীরা গ্রহণ করেছেন। আর যে কয়েকজন সাহাবা কিরামের আমরা উল্লেখ করেছি তারা ছাড়া আর কেউ হযরত উমার (রাযিঃ) ও তাঁর অনুবর্তীদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এ অর্থকেই মূল এবং সাহাবা-ই কিরামের ইজমা ও সর্বসম্মত মত বিবেচনা করা সঙ্গত এবং বিপরীত কোন মত পোষণ না করা উচিত। হাদীসের আলোকে এটাই হলো আলোচ্য বিষয়ের ব্যাখ্যা।
নযর ও যুক্তি
আর এ বিষয়ে যুক্তিগত বক্তব্য এই যে, আমরা একটা সর্বসম্মত নীতি দেখেছি যে, বিক্রয় দ্রব্যে কখনো কখনো কিছু বিশুদ্ধ শর্ত আরোপ করা হয়, যেমন বিক্রেতা ও ক্রেতার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইখতিয়ার কার শর্ত। সুতরাং এ শর্তে এর বিক্রয় করা জায়িয। অনুরূপভাবে ক্রয় করা বস্তুর মূল্য পরিশোধের জন্য কোন কোন সময় ক্রেতা নির্দিষ্ট সময়ের শর্ত করে থাকে, তখন নির্দিষ্টভাবে জানা হলে এ সময়ের মধ্যে উক্ত বস্তুর মূল্য পরিশোধ করা অপরিহার্য হবে এবং ক্রয় করা বস্তু ক্রেতার দায়িত্বভূক্ত হবে।
অপর পক্ষে এটাও দেখেছি যে, বিক্রয় চুক্তিতে শর্তকৃত মেয়াদ যদি ফাসিদ হয়, তাহলে বিক্রয় ফাসিদ হবে। এমন হয় না যে, বিক্রয় সাব্যস্ত হলো, আর শর্তটি রহিত হয়ে গেলো। অতঃপর বিক্রয় দ্রব্যের মূল্যের সাথে যুক্ত এই সকল শর্তের সাথে যখন সহীহ হওয়া এবং ফাসিদ হওয়ার ক্ষেত্রে বিক্রয় চুক্তি আব্দ্ধ হয়। অর্থাৎ ঐসব শর্ত জায়িয হলে بيع জায়িয হয় এবং তা ফাসিদ হলে بيع ফাসিদ হয়। অতঃপর বিক্রয় দ্রব্য যদি গোলাম হয়, আর এই শর্তে বিক্রয় হয় যে, এক মাস যাবত উক্ত গোলাম বিক্রেতার খিদমত করবে, তাহলে তো বিক্রতা ক্রেতাকে তার গোলামের এই শর্তে মালিক করে দিল যে, ক্রেতা বিক্রেতাকে এক হাজার দিরহাম ও এক মাসের জন্য গোলামের খিদমতের মালিক করে দিবে। অথচ ক্রেতা তখন গোলামের মালিক নয়, এবং তার খিদমতেরও মালিক নয়। কারণ সে তো গোলামের মালিক হবে, বিক্রয় পূর্ণ হবার পর। সুতরাং এই বিক্রয় সাব্যস্ত হলো মালের বিনিময়ে ও এমন এক গোলামের খিদমতের বিনিময়ে, যার তখন পর্যন্ত ক্রেতা মালিকই হতে পারেনি। অথচ আমরা এ বিষয়টি দেখেছি যে, যদি কেউ এমন এক বাঁদীর খিদমতের বিনিময়ে কোন গোলাম ক্রয় করে, যে বাঁদীর তখন পর্যন্ত সে মালিকই নয়, তবে এ ক্রয়-বিক্রয় ফাসিদ হবে। অতএব যুক্তির দাবী এটাই হবে যে, এই বিক্রয়ের হুকুমও এমন হবে, যখন গোলামের খেদমতের বিনিময়ে বিক্রয়ের চুক্তি করবে, যার সে এই আকদ'-এর পূর্বে মালিক হয়নি (অর্থাৎ উপরোল্লেখিত ক্ষেত্রে যেমন ক্রেতার জন্য ক্রয় করা নাজায়িয, বিক্রেতার জন্য বিক্রয়ও নাজায়িয হবে।) কারণ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঐ জিনিস বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যা তোমার নিকট মওজুদ নেই।
আর মূল্য যখন বিশুদ্ধ মেয়াদ এবং ফাসিদ মেয়াদের সাথে দায়বদ্ধ হয় তখন মূল্য ধার্যকৃত বিক্রয় বিক্রয় দ্রব্যও বিশুদ্ধ শর্ত ও ফাসিদ শর্তের সাথে দায়বদ্ধ হবে (ফলে ফাসিদ শর্তের কারণে বিক্রয় ফাসিদ হবে এবং বিশুদ্ধ শর্তের কারণে বিক্রয় শুদ্ধ হবে।) সুতরাং এ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, যে بيع এর মধ্যে ফাসিদ শর্ত করা হবে তা শর্ত ফাসিদ হবার কারণে ফাসিদ হবে। যেমন আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। অতএব যারা একথা বলেন যে, بيع তো صحيح হবে, কিন্তু শর্ত বাতিল হবে, তাদের মত অপ্রমাণিত হলো। অনুরূপভাবে তাদের মত অশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হলো, যারা বলেন, শর্তও বহাল থাকবে এবং বিক্রয়ও বহাল থাকবে। আর তৃতীয় মত হলো যখন بيع -এর মধ্যে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা কোন ভাবে بيع এর অংশ নয়, তবে সে ক্ষেত্রে শর্ত বাতিল হবার কারণে بيع বাতিল হবে। যখন প্রথম দু'টি মত বাতিল প্রমাণিত হলো তখন শেষ মতই সঠিক বলে সাব্যস্ত হলো। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাযিঃ)-এর মত।
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রকাশ পায় যে, হযরত উমার (রাযিঃ) হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাযিঃ)-এর নিকট বিক্রয় করাকে বাতিল করে দেন। এবং আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ বিরোধিতা না করে তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন । অথচ, তাঁর বিরোধিতা করার অধিকার ছিল। কারণ, এটা হযরত উমার (রাযিঃ) এর নির্দেশ ছিল না, ছিল ফতোয়া। আর আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) এর স্ত্রীও তা মেনে নিয়েছেন। অথচ তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর একজন সাহাবিয়া ছিলেন। আর হযরত ইবন উমার (রাযিঃ) তাদের সকলের অনুসরণ করেছেন। অথচ হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর ব্যাপারে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) কে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি বলেছিলেন তা তিনি জানতেন যা আমরা তাঁর থেকে এ অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছি।
অতএব এটা প্রমাণ করে যে, হযরত ইবন উমার (রাযিঃ)-এর মতে এ হাদীসের অর্থ ঐ অর্থের বিপরীত, যা তাঁর হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশকারীরা গ্রহণ করেছেন। আর যে কয়েকজন সাহাবা কিরামের আমরা উল্লেখ করেছি তারা ছাড়া আর কেউ হযরত উমার (রাযিঃ) ও তাঁর অনুবর্তীদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এ অর্থকেই মূল এবং সাহাবা-ই কিরামের ইজমা ও সর্বসম্মত মত বিবেচনা করা সঙ্গত এবং বিপরীত কোন মত পোষণ না করা উচিত। হাদীসের আলোকে এটাই হলো আলোচ্য বিষয়ের ব্যাখ্যা।
নযর ও যুক্তি
আর এ বিষয়ে যুক্তিগত বক্তব্য এই যে, আমরা একটা সর্বসম্মত নীতি দেখেছি যে, বিক্রয় দ্রব্যে কখনো কখনো কিছু বিশুদ্ধ শর্ত আরোপ করা হয়, যেমন বিক্রেতা ও ক্রেতার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইখতিয়ার কার শর্ত। সুতরাং এ শর্তে এর বিক্রয় করা জায়িয। অনুরূপভাবে ক্রয় করা বস্তুর মূল্য পরিশোধের জন্য কোন কোন সময় ক্রেতা নির্দিষ্ট সময়ের শর্ত করে থাকে, তখন নির্দিষ্টভাবে জানা হলে এ সময়ের মধ্যে উক্ত বস্তুর মূল্য পরিশোধ করা অপরিহার্য হবে এবং ক্রয় করা বস্তু ক্রেতার দায়িত্বভূক্ত হবে।
অপর পক্ষে এটাও দেখেছি যে, বিক্রয় চুক্তিতে শর্তকৃত মেয়াদ যদি ফাসিদ হয়, তাহলে বিক্রয় ফাসিদ হবে। এমন হয় না যে, বিক্রয় সাব্যস্ত হলো, আর শর্তটি রহিত হয়ে গেলো। অতঃপর বিক্রয় দ্রব্যের মূল্যের সাথে যুক্ত এই সকল শর্তের সাথে যখন সহীহ হওয়া এবং ফাসিদ হওয়ার ক্ষেত্রে বিক্রয় চুক্তি আব্দ্ধ হয়। অর্থাৎ ঐসব শর্ত জায়িয হলে بيع জায়িয হয় এবং তা ফাসিদ হলে بيع ফাসিদ হয়। অতঃপর বিক্রয় দ্রব্য যদি গোলাম হয়, আর এই শর্তে বিক্রয় হয় যে, এক মাস যাবত উক্ত গোলাম বিক্রেতার খিদমত করবে, তাহলে তো বিক্রতা ক্রেতাকে তার গোলামের এই শর্তে মালিক করে দিল যে, ক্রেতা বিক্রেতাকে এক হাজার দিরহাম ও এক মাসের জন্য গোলামের খিদমতের মালিক করে দিবে। অথচ ক্রেতা তখন গোলামের মালিক নয়, এবং তার খিদমতেরও মালিক নয়। কারণ সে তো গোলামের মালিক হবে, বিক্রয় পূর্ণ হবার পর। সুতরাং এই বিক্রয় সাব্যস্ত হলো মালের বিনিময়ে ও এমন এক গোলামের খিদমতের বিনিময়ে, যার তখন পর্যন্ত ক্রেতা মালিকই হতে পারেনি। অথচ আমরা এ বিষয়টি দেখেছি যে, যদি কেউ এমন এক বাঁদীর খিদমতের বিনিময়ে কোন গোলাম ক্রয় করে, যে বাঁদীর তখন পর্যন্ত সে মালিকই নয়, তবে এ ক্রয়-বিক্রয় ফাসিদ হবে। অতএব যুক্তির দাবী এটাই হবে যে, এই বিক্রয়ের হুকুমও এমন হবে, যখন গোলামের খেদমতের বিনিময়ে বিক্রয়ের চুক্তি করবে, যার সে এই আকদ'-এর পূর্বে মালিক হয়নি (অর্থাৎ উপরোল্লেখিত ক্ষেত্রে যেমন ক্রেতার জন্য ক্রয় করা নাজায়িয, বিক্রেতার জন্য বিক্রয়ও নাজায়িয হবে।) কারণ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঐ জিনিস বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যা তোমার নিকট মওজুদ নেই।
আর মূল্য যখন বিশুদ্ধ মেয়াদ এবং ফাসিদ মেয়াদের সাথে দায়বদ্ধ হয় তখন মূল্য ধার্যকৃত বিক্রয় বিক্রয় দ্রব্যও বিশুদ্ধ শর্ত ও ফাসিদ শর্তের সাথে দায়বদ্ধ হবে (ফলে ফাসিদ শর্তের কারণে বিক্রয় ফাসিদ হবে এবং বিশুদ্ধ শর্তের কারণে বিক্রয় শুদ্ধ হবে।) সুতরাং এ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, যে بيع এর মধ্যে ফাসিদ শর্ত করা হবে তা শর্ত ফাসিদ হবার কারণে ফাসিদ হবে। যেমন আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। অতএব যারা একথা বলেন যে, بيع তো صحيح হবে, কিন্তু শর্ত বাতিল হবে, তাদের মত অপ্রমাণিত হলো। অনুরূপভাবে তাদের মত অশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হলো, যারা বলেন, শর্তও বহাল থাকবে এবং বিক্রয়ও বহাল থাকবে। আর তৃতীয় মত হলো যখন بيع -এর মধ্যে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা কোন ভাবে بيع এর অংশ নয়, তবে সে ক্ষেত্রে শর্ত বাতিল হবার কারণে بيع বাতিল হবে। যখন প্রথম দু'টি মত বাতিল প্রমাণিত হলো তখন শেষ মতই সঠিক বলে সাব্যস্ত হলো। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাযিঃ)-এর মত।
كتاب البيوع و الصرف
5675 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النُّعْمَانِ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ، الرَّجُلُ الْأَمَةَ , عَلَى أَنْ لَا يَبِيعَ وَلَا يَهَبَ فَقَدْ أَبْطَلَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , بَيْعَ عَبْدِ اللهِ , وَتَابَعَهُ عَبْدُ اللهِ عَلَى ذَلِكَ , وَلَمْ يُخَالِفْهُ فِيهِ. وَقَدْ كَانَ لَهُ خِلَافُهُ , أَنْ لَوْ كَانَ يَرَى خِلَافَ ذَلِكَ , لِأَنَّ مَا كَانَ مِنْ عُمَرَ , لَمْ يَكُنْ عَلَى جِهَةِ الْحُكْمِ , وَإِنَّمَا كَانَ عَلَى جِهَةِ الْفُتْيَا. وَتَابَعَتْهُمَا زَيْنَبُ , امْرَأَةُ عَبْدِ اللهِ عَلَى ذَلِكَ , وَلَهَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُحْبَةٌ. وَتَابَعَهُمْ عَلَى ذَلِكَ , عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا , وَقَدْ عَلِمَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ مِنْ قَوْلِهِ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا فِي أَمْرِ بَرِيرَةَ , عَلَى مَا قَدْ رَوَيْنَاهُ عَنْهُ فِي هَذَا الْبَابِ. فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّ مَعْنَاهُ , كَانَ عِنْدَهُ , عَلَى خِلَافِ مَا حَمَلَهُ عَلَيْهِ الَّذِينَ احْتَجُّوا بِحَدِيثِهِ , وَلَمْ نَعْلَمْ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرَ مَنْ ذَكَرْنَا , ذَهَبَ فِي ذَلِكَ إِلَى غَيْرِ مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ , وَمَنْ تَابَعَهُ عَلَى ذَلِكَ , مِمَّنْ ذَكَرْنَا فِي هَذِهِ الْآثَارِ. فَكَانَ يَنْبَغِي أَنْ يَجْعَلَ هَذَا أَصْلًا وَإِجْمَاعًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَضِيَ عَنْهُمْ , وَلَا يُخَالِفُ. فَهَذَا وَجْهُ هَذَا الْبَابِ مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. [ص:48] وَأَمَّا وَجْهُهُ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّا رَأَيْنَا الْأَصْلَ الْمُجْتَمَعَ عَلَيْهِ , أَنَّ شُرُوطًا صِحَاحًا , قَدْ تُعْقَدُ فِي الشَّيْءِ الْمَبِيعِ , مِثْلُ الْخِيَارِ إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ , لِلْبَائِعِ وَلِلْمُبْتَاعِ , فَيَكُونُ الْبَيْعُ عَلَى ذَلِكَ جَائِزًا. وَكَذَلِكَ الْأَثْمَانُ , قَدْ تُعْقَدُ فِيهَا آجَالٌ يَشْتَرِطُهَا الْمُبْتَاعُ , فَتَكُونُ لَازِمَةً إِذَا كَانَتْ مَعْلُومَةً وَيَكُونُ الْبَيْعُ بِهَا مُضَمَّنًا. وَرَأَيْنَا ذَلِكَ الْأَجَلَ , لَوْ كَانَ فَاسِدًا , فَسَدَ بِفَسَادِهِ الْبَيْعُ , وَلَمْ يَثْبُتِ الْبَيْعُ , وَيَنْتَفِي هُوَ إِذَا كَانَ مَعْقُودًا فِيهِ. فَلَمَّا جُعِلَ الْبَيْعُ مُضَمَّنًا بِهَذِهِ الشَّرَائِطِ الْمَشْرُوطَةِ فِي ثَمَنِهِ , فِي صِحَّتِهَا وَفَسَادِهَا , فَجُعِلَ جَائِزًا بِجَوَازِهَا , وَفَاسِدًا بِفَسَادِهَا , ثُمَّ كَانَ الْبَيْعُ إِذَا وَقَعَ عَلَى الْمَبِيعِ , وَكَانَ عَبْدًا , عَلَى أَنْ يَخْدُمَ الْبَائِعَ شَهْرًا , فَقَدْ مَلَّكَ الْبَائِعُ الْمُشْتَرِيَ عَبْدَهُ عَلَى أَنْ مَلَّكَهُ الْمُشْتَرِي أَلْفَ دِرْهَمٍ وَخِدْمَةَ الْعَبْدِ شَهْرًا وَالْمُشْتَرِي حِينَئِذٍ , غَيْرُ مَالِكٍ لِلْخِدْمَةِ , وَلَا لِلْعَبْدِ , لِأَنَّ مِلْكَهُ لِلْعَبْدِ إِنَّمَا يَكُونُ بَعْدَ تَمَامِ الْبَيْعِ , فَصَارَ الْبَيْعُ وَاقِعًا بِمَالٍ وَبِخِدْمَةِ عَبْدٍ , لَا يَمْلِكُهُ الْمُشْتَرِي فِي وَقْتِ ابْتِيَاعِهِ بِالْمَالِ , وَبِخِدْمَتِهِ , وَقَدْ رَأَيْنَاهُ لَوِ ابْتَاعَ عَبْدًا لِخِدْمَةِ أَمَةٍ , لَا يَمْلِكُهَا , كَانَ الْبَيْعُ فَاسِدًا. فَالنَّظَرُ عَلَى ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ الْبَيْعُ أَيْضًا كَذَلِكَ إِذَا عَقَدَ لِخِدْمَةِ مَنْ لَمْ يَكُنْ تَقَدَّمَ مِلْكُهُ لَهُ قَبْلَ ذَلِكَ الْعَقْدِ , لِأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ نَهَى عَنْ بَيْعِ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ. وَلَمَّا كَانَتِ الْأَثْمَانُ مُضَمَّنَةً بِالْآجَالِ الصَّحِيحَةِ وَالْفَاسِدَةِ , عَلَى مَا قَدْ ذَكَرْنَا , كَانَ كَذَلِكَ , الْأَشْيَاءُ الْمَثْمُونَةُ , أَيْضًا الْمُضَمَّنَةُ بِالشَّرَائِطِ الْفَاسِدَةِ وَالصَّحِيحَةِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ الْبَيْعَ , لَوْ وَقَعَ وَاشْتُرِطَ فِيهِ شَرْطٌ مَجْهُولٌ , أَنَّ الْبَيْعَ يَفْسُدُ بِفَسَادِ ذَلِكَ الشَّرْطِ عَلَى مَا قَدْ ذَكَرْنَا. فَقَدِ انْتَفَى قَوْلُ مَنْ قَالَ «يَجُوزُ الْبَيْعُ وَيَبْطُلُ الشَّرْطُ» وَقَوْلُ مَنْ قَالَ «يَجُوزُ الْبَيْعُ , وَيَثْبُتُ الشَّرْطُ» . وَلَمْ يَكُنْ فِي هَذَا الْبَابِ قَوْلٌ غَيْرُ هَذَيْنِ الْقَوْلَيْنِ , وَغَيْرُ الْقَوْلِ الْآخَرِ «إِنَّ الْبَيْعَ يَبْطُلُ إِذَا اشْتُرِطَ فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ» . فَلَمَّا انْتَفَى الْقَوْلَانِ الْأَوَّلَانِ , ثَبَتَ هَذَا الْقَوْلُ الْآخَرُ , وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ