শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৭৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৪৮
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১৩. জীব-জন্তু ঋণ গ্রহণ প্রসঙ্গ
৫৭৪৭-৪৮। হুসাইন ইবন নসর বলেন,..... সালামা ইবন আব্দির রহমান হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ - এর উপর এক ব্যক্তির ঋণ ছিলো। লোকটি তাঁর নিকট তার ঋণ পরিশোধর জন্য দাবী জানালো এবং তার সহিত কঠিন ভাষা ব্যবহার করলো। ফলে সাহাবা-ই কিরাম লোকটির দিকে অগ্রসর হলেন এবং তাকে শাস্তি দিতে ইচ্ছা করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাকে তোমরা ছেড়ে দাও। পাওনাদারের কিছু বলার অধিকার আছে। তার জন্য একটি উট ক্রয় করে আনো এবং তাকে প্রদান করো। তারা এসে বললেন, আমরা তার উট অপেক্ষা উত্তম উট ব্যতীত তো পাই না? তিনি বললেন, তা-ই ক্রয় করে আনো এবং তাকে প্রদান করো। তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে-ই, যে উত্তম রূপে পরিশোধ করে।


হুসাইন বলেন, ..... সালামা তার সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তার বর্ণনায় اشتروا এর স্থানে اُطلبوا রয়েছে।
আলোচনাঃ
আবু জাফর বলেন: উলামা-ই কিরামের একটি দল* জীব-জন্তুর ঋণ করা জায়েয আছে বলে মত প্রকাশ করেন। আর এ ব্যাপারে তারা উল্লেখিত এসব হাদীস প্রমান হিসেবে পেশ করেন। অপরপক্ষে উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল** এর বিপরীত মত পোষন করেন। তারা বলেন, জীব-জন্তুর ঋণ গ্রহণ করা জায়েয নয়। তারা বলেন, উল্লেখিত হাদীসের মাধ্যমে যে জীব-জন্তুর ঋণ জায়েয বলে প্রমান পাওয়া যায়, হতে পারে এটা সুদ হারাম হবার পূর্বের ঘটনা। পরবর্তীতে যখন সুদ হারাম করা হয়, তখন এমন সব ঋণও হারাম করা হয় যা দ্বারা কোন উপকার বা ফায়দা হাসিল হয় । আর কেবল এমন সব বস্তুরই ঋণ গ্রহণ করা বৈধ হয় যার মিসল বা সদৃশ পাওয়া যায়। অতএব যার مثل নেই তার ঋণ গ্রহণও জায়েয নেই। সুদ হারাম ঘোষিত হবার পূর্বে জীব-জন্তুর বিনিময়ে জীব-জন্তুর বাকী ক্রয়-বিক্রয় জায়েয ছিলো। তাদের এ মতের দলীল হলোঃ
كتاب البيوع و الصرف
5747 - حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: ثنا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ لِرَجُلٍ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَيْنٌ فَتَقَاضَاهُ فَأَغْلَظَ عَلَيْهِ. فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهَمُّوا بِهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَرُوهُ , فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالًا , اشْتَرُوا لَهُ سِنًّا فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ» , فَقَالُوا: إِنَّا لَا نَجِدُ إِلَّا سِنًّا هُوَ خَيْرٌ مِنْ سِنِّهِ , قَالَ: «فَاشْتَرُوهُ فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ , فَإِنَّ خَيْرَكُمْ , أَوْ مِنْ خَيْرِكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً» [ص:60]

5748 - حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ قَالَ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ , عَنْ سَلَمَةَ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ , إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَقُلْ «اشْتَرُوا لَهُ» وَقَالَ «اطْلُبُوا» . قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى إِجَازَةِ اسْتِقْرَاضِ الْحَيَوَانِ , وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذِهِ الْآثَارِ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ , فَقَالُوا: لَا يَجُوزُ اسْتِقْرَاضُ الْحَيَوَانِ. وَقَالُوا: يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ هَذَا , كَانَ قَبْلَ تَحْرِيمِ الرِّبَا , ثُمَّ حُرِّمَ الرِّبَا بَعْدَ ذَلِكَ , وَحُرِّمَ كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً , وَرُدَّتِ الْأَشْيَاءُ الْمُسْتَقْرَضَةُ إِلَى أَمْثَالِهَا , فَلَمْ يَجُزِ الْقَرْضُ إِلَّا فِيمَا لَهُ مِثْلٌ , وَقَدْ كَانَ أَيْضًا، قَبْلَ نَسْخِ الرِّبَا، يَجُوزُ بَيْعُ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ , نَسِيئَةً. وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

* আল্লামা আইনী (র) বলেন, এসব উলামা-ই কিরাম দ্বারা আওযাঈ, সাইদ ইবন সা'দ, মালেক, শাফেঈ, আহমদ ও ইসহাক উদ্দেশ্য।

** আল্লামা আইনী (র) বলেন, উলামা-ই কিরামের এ দলটি দ্বারা ছাওরী, হাসান ইবন ছালেহ, ইমাম আবূ হানীফা, আবূ ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং কুফার ফক্বীহগন উদ্দেশ্য।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে বরং তার আগে আরবে সাধারণ প্রচলিত প্রথা ছিল, এক ব্যক্তি তার প্রয়োজনে অন্য ব্যক্তি হতে উট কর্জ গ্রহণ করত। আর এটা টাকা পয়সার সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং এরূপে ধার্য হত যে, এর সমবয়সী এ জাতীয় অন্য উট-এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে। তাই রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রথানুযায়ী এক সময় কোন লোকের নিকট হতে উট কর্জ গ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত নির্ধারিত সময় এলে সে তাগাদা দিতে এসেছিল। সে শিষ্টাচার ও ভদ্রতার বিপরীতে কঠোর নীতি অবলম্বন করল। সাহাবীগণের মধ্যে যারা তখন উপস্থিত ছিলেন তাঁরা তার সাথে কঠোরতা অবলম্বনের ইচ্ছা করলেন। তিনি তাঁদের বললেন, তাকে কিছু বলো না। আমার প্রতি তার অধিকার রয়েছে। পাওনাদারের শক্ত কথা বলার অধিকার আছে। তবে তোমরা তার উটের ন্যায় একটি উট ক্রয় করে তাকে দিয়ে দাও। সাহাবীগণ অনুরূপ উট খুঁজলেন। কোথাও পেলেন না; তবে বয়স ও গঠনে সেটি থেকে বড় ও উত্তম পাওয়া যাচ্ছিল। তাঁরা ফেরত এসে নবী করীম ﷺকে একথাই বললেন। তিনি বললেন, যেটি বড় ও উত্তম সেটিই ক্রয় করে তাকে দাও। সাথে সাথে বললেন, যে ব্যক্তি অধিক ভাল ও শ্রেষ্ঠ পরিশোধ করে সেই অধিক উত্তম। আলোচ্য হাদীসে উন্মতের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে, তা কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না।
কোন প্রকারেই এটা জানা যায়নি যে, হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তি যে তাগাদা দিতে এসে শিষ্টাচার বিরোধী নীতি অবলম্বন করেছিল লোকটি কে ছিল? প্রবল ধারণা এটাই যে, কোন অমুসলিম ইয়াহুদী ইত্যাদি হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান