শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৭৬৭
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
সুদ প্রসঙ্গ
৫৭৬৭। ইবন দাউদ ….. আবু সাহিল আস্- সাম্মান বলেন, আমি হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ)- কে বললাম, আপনি 'সারফ' নিষেধ করেন অথচ, ইবন আব্বাস তা অনুমোদন করেন? তিনি বলেন, আমি তার সাথে সাক্ষাত করে তাকে জিজ্ঞাস করেছি صفر এর ব্যাপারে আপনি যে ফাতওয়া দিচ্ছেন, তা কি আপনি কিতাবুল্লাহর মধ্যে পেয়েছেন, না কি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট হতে শুনেছেন? তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুহবত ও সাহচর্য তো আপনারাই আমার পূর্বে লাভ করেছেন। আর আমি তো ঐ কুরআনই পাঠ করি যা আপনারাও পাঠ করেন। কিন্তু উসামা ইবন যায়দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: রিবা তো হয় শুধু ঋণের মধ্যে (যা যিম্মায় ওয়াজিব হয়)।
আলোচনা : আবু জাফর (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসের ভিত্তিতে উলামা-ই কিরামের একটি দল বলেন যে, রূপার বিনিময়ে সোনা বিক্রয় করা এবং সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রয় করা একগুনের বিনিময়ে দ্বিগুন জায়েয। তবে শর্ত হলো, তা নগদ হওয়া। আর তারা হযরত উসামা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করেন। যা তিনি নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেছেন।
আর উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল এ বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করে বলেন, রূপাকে রূপার বিনিময়ে এবং সোনাকে সোনার বিনিময়ে সমান সমান নগদ ব্যতীত বিক্রয় করা জায়েয নয়। তাদের দলীল হযরত উসামা (রাযিঃ) হতে হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় নিহিত, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর তা এই যে, [হযরত ইবন আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে যে 'রিবা'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত] রিবা যার মূল ছিলো نسينه ও বাকী বিক্রয়ের মধ্যে সীমিত। আর তা হলো এরূপ যে, এক ব্যক্তির তার এক সাথীর ওপর তার ঋণ ছিলো। কিন্তু ঋণগ্রস্ত তার উক্ত সাথী সময়মত পরিশোধ করতে না পেরে ঋণদাতাকে বললো, আপনি আমাকে অমুক অমুক তারিখ পর্যন্ত এত এত সোনা রূপার বিনিময়ে অবকাশ দান করুন। আপনার পাওনা যা আছে, তার ওপর আমি অতিরিক্ত প্রদান করবো।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ সমস্ত আলিম দ্বারা আবু মিজলাজ, লাহাক ইবন হুমায়দ, হাকাম ইবন উতায়বা, তাউস এবং হযরত ইবন আব্বাস ও উসামা ইবন যায়দ প্রমুখ (রাযিঃ) উদ্দেশ্য।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, জমহূর উসামা-ই কিরাম এ দলটির বিরোধিতা করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে তাবেঈ ও তারা অনুসারীগন। তাদের মধ্যে চার ইমাম ও তাদের সঙ্গীগনও রয়েছেন।
এভাবে যে মালের বিনিময়ে সময়টি ক্রয় করতো। আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতের মাধ্যমে তাদেরকে এমন করতে নিষেধ করছেন।
يٰٓايُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اتَّقُوْ اللّٰهَ وَذَرُوْا مَابَقِي مِنَ الرِّبٰوا اِنْ كُنْتُمْ مُوْمِنِيْنَ-
"হে ঈমানদারগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং যে অবশিষ্ট সুদ রয়ে গেছে তা তোমরা ত্যাগ করো। যদি তোমরা মুমিন হও।"
তারপর হাদীস ও সুন্নাহ এসেছে এবং স্বর্নের বিনিময়ে স্বর্ন এবং রূপার বিনিময়ে রূপার অতিরিক্ত লেনদেনের ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে এবং যাবতীয় মাপ ও ওজনী বস্তুর ও অতিরিক্ত লেনদেনের মাধ্যমে ক্রয় বিক্রয়ের মধ্যে সুদ হারাম হবার ঘোষণা দিয়েছে। যেমন হযরত উবাদাহ ইবনুল সামিত (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে বর্ণনা করেন। যেমন পূর্বে আমরা আমাদের এই কিতাবেই যবের বিনিময়ে গম বিক্রয় প্রসঙ্গে হযরত উবাদাহ ইবন সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছি। বস্তুত এটা রিবা ও সুদ, যা সুন্নত দ্বারা হারাম প্রমাণিত। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত। এমনকি এসব হাদীস দলীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
আর এসব রিওয়ায়াত ও হাদীসে যে 'রিবা' ও সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, তা যে হযরত উসামা (রাযিঃ) হতে হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত রিবা হতে পৃথক, তার প্রমাণ হলো হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) -এর হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের প্রতি প্রত্যাবর্তন করা, যা আমরা এ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করছি।
হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, অর্থের দিক থেকে তা যদি উসামা (রাযিঃ) - এর বর্ণিত হাদীসের অর্থ হতে অভিন্ন হতো, তবে হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস তার নিকট হযরত উসামা (রাযিঃ) এর হাদীস অপেক্ষা কি অধিক উত্তম হতো না? কিন্তু হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর হাদীস শ্রবনের পূর্বে জানতের না যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ প্রকার সুদও হারাম করেছেন, আর তখনই তিনি জানতে পেরেছিলেন যে, হযরত উসামা (রাযিঃ) তার নিকট যে হাদীস বর্ণনা করেছিলেন, তা যদি এ রিবা (সুদ) হতে ভিন্ন রিবা সম্পর্কে। হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তার অনুরূপ হাদীস এই ……
আলোচনা : আবু জাফর (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসের ভিত্তিতে উলামা-ই কিরামের একটি দল বলেন যে, রূপার বিনিময়ে সোনা বিক্রয় করা এবং সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রয় করা একগুনের বিনিময়ে দ্বিগুন জায়েয। তবে শর্ত হলো, তা নগদ হওয়া। আর তারা হযরত উসামা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করেন। যা তিনি নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেছেন।
আর উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল এ বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করে বলেন, রূপাকে রূপার বিনিময়ে এবং সোনাকে সোনার বিনিময়ে সমান সমান নগদ ব্যতীত বিক্রয় করা জায়েয নয়। তাদের দলীল হযরত উসামা (রাযিঃ) হতে হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় নিহিত, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর তা এই যে, [হযরত ইবন আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে যে 'রিবা'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত] রিবা যার মূল ছিলো نسينه ও বাকী বিক্রয়ের মধ্যে সীমিত। আর তা হলো এরূপ যে, এক ব্যক্তির তার এক সাথীর ওপর তার ঋণ ছিলো। কিন্তু ঋণগ্রস্ত তার উক্ত সাথী সময়মত পরিশোধ করতে না পেরে ঋণদাতাকে বললো, আপনি আমাকে অমুক অমুক তারিখ পর্যন্ত এত এত সোনা রূপার বিনিময়ে অবকাশ দান করুন। আপনার পাওনা যা আছে, তার ওপর আমি অতিরিক্ত প্রদান করবো।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ সমস্ত আলিম দ্বারা আবু মিজলাজ, লাহাক ইবন হুমায়দ, হাকাম ইবন উতায়বা, তাউস এবং হযরত ইবন আব্বাস ও উসামা ইবন যায়দ প্রমুখ (রাযিঃ) উদ্দেশ্য।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, জমহূর উসামা-ই কিরাম এ দলটির বিরোধিতা করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে তাবেঈ ও তারা অনুসারীগন। তাদের মধ্যে চার ইমাম ও তাদের সঙ্গীগনও রয়েছেন।
এভাবে যে মালের বিনিময়ে সময়টি ক্রয় করতো। আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতের মাধ্যমে তাদেরকে এমন করতে নিষেধ করছেন।
يٰٓايُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اتَّقُوْ اللّٰهَ وَذَرُوْا مَابَقِي مِنَ الرِّبٰوا اِنْ كُنْتُمْ مُوْمِنِيْنَ-
"হে ঈমানদারগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং যে অবশিষ্ট সুদ রয়ে গেছে তা তোমরা ত্যাগ করো। যদি তোমরা মুমিন হও।"
তারপর হাদীস ও সুন্নাহ এসেছে এবং স্বর্নের বিনিময়ে স্বর্ন এবং রূপার বিনিময়ে রূপার অতিরিক্ত লেনদেনের ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে এবং যাবতীয় মাপ ও ওজনী বস্তুর ও অতিরিক্ত লেনদেনের মাধ্যমে ক্রয় বিক্রয়ের মধ্যে সুদ হারাম হবার ঘোষণা দিয়েছে। যেমন হযরত উবাদাহ ইবনুল সামিত (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে বর্ণনা করেন। যেমন পূর্বে আমরা আমাদের এই কিতাবেই যবের বিনিময়ে গম বিক্রয় প্রসঙ্গে হযরত উবাদাহ ইবন সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছি। বস্তুত এটা রিবা ও সুদ, যা সুন্নত দ্বারা হারাম প্রমাণিত। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত। এমনকি এসব হাদীস দলীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
আর এসব রিওয়ায়াত ও হাদীসে যে 'রিবা' ও সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, তা যে হযরত উসামা (রাযিঃ) হতে হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত রিবা হতে পৃথক, তার প্রমাণ হলো হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) -এর হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের প্রতি প্রত্যাবর্তন করা, যা আমরা এ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করছি।
হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, অর্থের দিক থেকে তা যদি উসামা (রাযিঃ) - এর বর্ণিত হাদীসের অর্থ হতে অভিন্ন হতো, তবে হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস তার নিকট হযরত উসামা (রাযিঃ) এর হাদীস অপেক্ষা কি অধিক উত্তম হতো না? কিন্তু হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর হাদীস শ্রবনের পূর্বে জানতের না যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ প্রকার সুদও হারাম করেছেন, আর তখনই তিনি জানতে পেরেছিলেন যে, হযরত উসামা (রাযিঃ) তার নিকট যে হাদীস বর্ণনা করেছিলেন, তা যদি এ রিবা (সুদ) হতে ভিন্ন রিবা সম্পর্কে। হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তার অনুরূপ হাদীস এই ……
كتاب البيوع و الصرف
5767 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا قَيْسٌ وَهُوَ ابْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي سَعِيدٍ: أَنْتَ تَنْهَى عَنِ الصَّرْفِ , وَابْنُ عَبَّاسٍ يَأْمُرُ بِهِ. فَقَالَ: قَدْ لَقِيتُ ابْنَ عَبَّاسٍ , فَقُلْتُ: مَا هَذَا الَّذِي تُفْتِي بِهِ فِي الصَّرْفِ؟ أَشَيْءٌ وَجَدْتَهُ فِي كِتَابِ اللهِ , أَوْ شَيْءٌ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ . فَقَالَ: أَنْتُمْ أَقْدَمُ صُحْبَةً لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنِّي , وَمَا أَقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا مَا تَقْرَءُونَ , وَلَكِنْ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ «لَا رِبَا إِلَّا فِي الدَّيْنِ» [ص:65] قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ بَيْعَ الْفِضَّةِ بِالْفِضَّةِ , وَالذَّهَبِ بِالذَّهَبِ , مِثْلَيْنِ بِمِثْلٍ , جَائِزٌ , إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِمَا رَوَيْنَاهُ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: لَا يَجُوزُ بَيْعُ الْفِضَّةِ بِالْفِضَّةِ , وَلَا الذَّهَبِ بِالذَّهَبِ , إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ , سَوَاءً بِسَوَاءٍ , يَدًا بِيَدٍ. وَكَانَتِ الْحُجَّةُ لَهُمْ فِي تَأْوِيلِ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا , عَنْ أُسَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , الَّذِي ذَكَرْنَا فِي الْفَصْلِ الْأَوَّلِ أَنَّ ذَلِكَ الرِّبَا إِنَّمَا عَنَى بِهِ رِبَا الْقُرْآنِ , الَّذِي كَانَ أَصْلُهُ فِي النَّسِيئَةِ , وَذَلِكَ أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ يَكُونُ لَهُ عَلَى صَاحِبِهِ الدَّيْنُ , فَيَقُولُ لَهُ: أَجِّلْنِي مِنْهُ إِلَى كَذَا وَكَذَا بِكَذَا وَكَذَا دِرْهَمًا أَزِيدُكَهَا فِي دَيْنِكَ , فَيَكُونُ مُشْتَرِيًا لِأَجَلٍ بِمَالٍ , فَنَهَاهُمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْ ذَلِكَ بِقَوْلِهِ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [البقرة: 278] ثُمَّ جَاءَتِ السُّنَّةُ بَعْدَ ذَلِكَ بِتَحْرِيمِ الرِّبَا فِي التَّفَاضُلِ , فِي الذَّهَبِ بِالذَّهَبِ , وَالْفِضَّةِ بِالْفِضَّةِ , وَسَائِرِ الْأَشْيَاءِ , الْمَكِيلَاتِ وَالْمَوْزُونَاتِ , عَلَى مَا ذَكَرَهُ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا رَوَيْنَاهُ عَنْهُ , فِيمَا تَقَدَّمَ مِنْ كِتَابِنَا هَذَا فِي «بَابِ بَيْعِ الْحِنْطَةِ بِالشَّعِيرِ» فَكَانَ ذَلِكَ رِبًا حُرِّمَ بِالسُّنَّةِ وَتَوَاتَرَتْ بِهِ الْآثَارُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى قَامَتْ بِهَا الْحُجَّةُ وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ الرِّبَا الْمُحَرَّمَ فِي هَذِهِ الْآثَارِ , هُوَ غَيْرُ الرِّبَا , وَالَّذِي رَوَاهُ ابْنُ عَبَّاسٍ , عَنْ أُسَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ , عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رُجُوعُ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا إِلَى مَا حَدَّثَهُ بِهِ أَبُو سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّا قَدْ ذَكَرْنَاهُ فِي هَذَا الْبَابِ. فَلَوْ كَانَ مَا حَدَّثَهُ بِهِ أَبُو سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , مِنْ ذَلِكَ , فِي الْمَعْنَى الَّذِي كَانَ أُسَامَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ حَدَّثَهُ بِهِ إِذًا , لَمَا كَانَ حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ عِنْدَهُ بِأَوْلَى مِنْ حَدِيثِ أُسَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ. وَلَكِنَّهُ لَمْ يَكُنْ عَلِمَ بِتَحْرِيمِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا الرِّبَا , حَتَّى حَدَّثَهُ بِهِ أَبُو سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ. فَعَلِمَ أَنَّ مَا كَانَ حَدَّثَهُ بِهِ أُسَامَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي رِبًا غَيْرِ ذَلِكَ الرِّبَا. فَمِمَّا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَحْوِ مَا ذَكَرَهُ أَبُو سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ,