শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৭. শুফআ এবং ইজারা অধ্যায়

হাদীস নং: ৬০৩৪
শুফআ এবং ইজারা অধ্যায়
তালীমুল কুরআন-এর ওপর উজরাত গ্রহণ কি জায়েয, এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে যা বর্ণিত
৬০৩৪। আবু বাকরা ও ইবরাহীম ইব্‌ন মারযূক ….. আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইব্‌নুল আস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তােমরা আমার নিকট হতে কিতাবুল্লাহর একটি আয়াত হলেও তা পৌছে দাও। আর বনী ইসরাঈল হতে তােমরা বর্ণনা কর, এতে কোন অসুবিধা নেই। আর আমার ওপর যে ইচ্ছা পূর্বক মিথ্যা আরােপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আসন করে নেয়।

এ হাদীসের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) তাঁর উম্মতের ওপর তাঁর নিকট হতে অন্যের কাছে পৌছে দেয়া ওয়াজিব করেছেন এবং তাঁর নিকট হতে অন্যের নিকট হাদীস পৌঁছে দেয়া এবং অন্যের কথা পৌঁছে দেয়ার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, তােমরা বনী ইসরাঈল হতে বর্ণনা কর, কিন্তু তাদের নিকট হতে বর্ণনা না করায় ও তাদের কথা অন্যের নিকট পৌঁছে না দেয়ায় কোন ক্ষতি নেই। তাবলীগের এই কাজের মজুরী গ্রহণ করা বস্তুত ফরয কাজের ওপর মজুরী গ্রহণ করা। আর আল্লাহ্ তা'আলা যা ফরয করেছেন, তার ওপর যে ব্যক্তি মজুরী গ্রহণ করে, এটা তার ওপর হারাম। কারণ এ কাজ সে তার নিজের জন্যই করে, যার মাধ্যমে সে তার ওপর অর্পিত ফরয পালন করে। আর যে ব্যক্তি এমন কাজের মজুরী গ্রহণ করে, যা সে অন্যের জন্য করে, চাই তা কোন তাবীয হােক কিংবা অন্য কিছু, যদিও তা কুরআনের মাধ্যমে হােক না কেন, কিংবা চিকিৎসা কিংবা অনুরূপ কিছু, তার জন্য তা জায়েয এবং তার মজুরী গ্রহণ করাও হালাল। আমরা যে আলােচনা করলাম, তা দ্বারা রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে نهى ও اباحت সম্বলিত যে সব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তার সঠিক অর্থ বুঝা যাবে এবং পারস্পরিক সাংঘর্ষিক হবে না। এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত।
كتاب الشفعة و الإجارات
6034 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ جَمِيعًا قَالَا: ثنا أَبُو عَاصِمٍ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي كَبْشَةَ السَّلُولِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ قَالَ: قَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللهِ وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ فِي ذَلِكَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» فَأَوْجَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَلَى أُمَّتِهِ التَّبْلِيغَ عَنْهُ. ثُمَّ قَدْ فَرَّقَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ التَّبْلِيغِ عَنْهُ وَالْحَدِيثِ عَنْ غَيْرِهِ فَقَالَ وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ أَيْ: وَلَا حَرَجَ عَلَيْكُمْ فِي أَنْ لَا تُحَدِّثُوا عَنْهُمْ فِي ذَلِكَ. فَالِاسْتِجْعَالُ عَلَى ذَلِكَ اسْتِجْعَالٌ عَلَى الْفَرْضِ وَمَنِ اسْتَجْعَلَ جُعْلًا عَلَى عَمَلٍ يَعْمَلُهُ فِيمَا افْتَرَضَ اللهُ عَمَلَهُ عَلَيْهِ فَذَلِكَ عَلَيْهِ حَرَامٌ لِأَنَّهُ إِنَّمَا يَعْمَلُهُ لِنَفْسِهِ لِيُؤَدِّيَ بِهِ فَرْضًا عَلَيْهِ. وَمَنِ اسْتَجْعَلَ جُعْلًا عَلَى عَمَلٍ يَعْمَلُهُ لِغَيْرِهِ مِنْ رُقْيَةٍ أَوْ غَيْرِهَا وَإِنْ كَانَتْ بِقُرْآنٍ أَوْ عِلَاجٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ فَذَلِكَ جَائِزٌ وَالِاسْتِجْعَالُ عَلَيْهِ حَلَالٌ. فَيَصِحُّ بِمَا ذَكَرْنَا مَعَانِي مَا قَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْبَابِ مِنَ النَّهْيِ وَمِنَ الْإِبَاحَةِ وَلَا يَتَضَادَّ ذَلِكَ فَيَتَنَافَى. [ص:129] وَهَذَا كُلُّهُ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান