শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৯. শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান

হাদীস নং: ৬২৫৮
আন্তর্জাতিক নং: ৬২৫৯
শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
যে ব্যক্তি أيام عشر-এ কুরবানী করা ওয়াজিব করেছে অথবা কুরবানী করবে বলে সংকল্প গ্রহণ করেছে, তার জন্য কি নিজের চুল কিংবা নখ কাটা জায়েয হবে।
৬২৫৮-৫৯। ইবরাহীম ইব্ন মারযুক ..... সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখে কুরবানী করার ইচ্ছা করবে, সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে যাবত না সে কুরবানী করবে।

রাবী আল-জীযী ..... সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন, নবী (ﷺ) -এর স্ত্রী হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ) অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন।
আবুল লাইস (রাহঃ) বলেন, এ হাদীস তাে এরূপ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু বেশীর ভাগ লােক এর বিপরীত মত পােষণ করেন।
আবু জাফর [তাহাভী (রাহঃ)] বলেন, একদল উলামা-ই কিরাম এ হাদীসের অনুসরণ করেছেন এবং এ হাদীসকেই তারা মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা মুহাম্মাদ ইব‌্ন সীরীন, আওযাঈ, ইসহাক, আহমদ ও আবু সাওর উদ্দেশ্য।
অপরদিকে অন্য এক দল উলামা-ই কিরাম এ ব্যাপারে তাদের বিরােধিতা করেছেন। তারা বলেন, যে ব্যক্তি কুরবানী করার সংকল্প গ্রহণ করেছে এবং যে সংকল্প গ্রহণ করেনি, তাদের জন্য নখ ও চুল কাটায় কোন অসুবিধা নেই।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা আতা ইবন ইয়াসার, আবু বকর ইব‌্ন আব্দুর রহমান, আবু বকর ইব‌্ন সুলায়মান, সাওরী, আবু হানীফা, মালিক, শাফিঈ, আবু ইউসূফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ) উদ্দেশ্য।
আর এ বিষয়ে আমরা হজ্জ পর্বে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে যে হাদীস বর্ণনা করেছি, তা দ্বারা তারা দলীল পেশ করেন। তিনি বলেন :كُنْتُ أَفْتِلُ قَلَائِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَبْعَثُ بِهَا , ثُمَّ يُقِيمُ فِينَا حَلَالًا , لَا يَجْتَنِبُ شَيْئًا مِمَّا يَجْتَنِبُهُ الْمُحْرِمُ , حَتَّى يَرْجِعَ النَّاسُ
অর্থাৎ আমি রাসূলুল্লাহ‌্ (ﷺ) -এর কুরবানীর পশু (যা তিনি হারাম শরীফে পাঠাবেন)-এর কিলাদার রশি পাকিয়ে দিতাম। তারপর তিনি তা (হারাম শরীফে) পাঠিয়ে দিতেন এবং তিনি নিজে আমাদের মধ্যে অবস্থান করতেন। মক্কা হতে লােকজনের ফিরে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তিনি সে সব জিনিস হতে বিরত থাকতেন না যে সব জিনিস হতে মুহরিম বিরত থাকে। প্রথম হাদীস যে বিষয়কে নিষিদ্ধ বলেছে, এ হাদীসে তার মুবাহ হবার দলীল রয়েছে। এছাড়া হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত অপেক্ষা উত্তম। কারণ হযরত আয়েশা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত কিন্তু হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস তেমন নয়। বরং মালিক (রাহঃ) কর্তৃক বর্ণিত সনদে طعن ও অভিযােগ উত্থাপন করা হয়েছে। কেড কেউ বলেন, হাদীসটি হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ)-এর ওপর মাউকুফ, মারফু নয়।
كتاب الصيد والذبائح والأضاحي
بَابُ مَنْ أَوْجَبَ أُضْحِيَّةً فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ أَوْ عَزَمَ عَلَى أَنْ يُضَحِّيَ , هَلْ لَهُ أَنْ يَقُصَّ شَعْرَهُ أَوْ أَظْفَارَهُ؟
6258 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ الْبَزَّارُ قَالَ: ثنا شُعْبَةُ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ , عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ , عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ , عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ , وَأَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ , فَلَا يَأْخُذْ مِنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ , حَتَّى يُضَحِّيَ»

6259 - حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْجِيزِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو صَالِحٍ، قَالَ: ثنا اللَّيْثُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ، أَنَّهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ مِثْلَهُ. قَالَ اللَّيْثُ: قَدْ جَاءَ هَذَا , وَأَكْثَرُ النَّاسِ عَلَى غَيْرِهِ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ , فَقَلَّدُوهُ , وَجَعَلُوهُ أَصْلًا. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ , فَقَالُوا: لَا بَأْسَ بِقَصِّ الْأَظْفَارِ وَالشَّعْرِ , فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ , لِمَنْ عَزَمَ عَلَى أَنْ يُضَحِّيَ , وَلِمَنْ لَمْ يَعْزِمْ عَلَى ذَلِكَ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ , بِمَا قَدْ ذَكَرْنَاهُ فِي كِتَابِ الْحَجِّ , عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: كُنْتُ أَفْتِلُ قَلَائِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَبْعَثُ بِهَا , ثُمَّ يُقِيمُ فِينَا حَلَالًا , لَا يَجْتَنِبُ شَيْئًا مِمَّا يَجْتَنِبُهُ الْمُحْرِمُ , حَتَّى يَرْجِعَ النَّاسُ. فَفِي ذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى إِبَاحَةِ مَا قَدْ حَظَرَهُ الْحَدِيثُ الْأَوَّلُ. وَمَجِيءُ حَدِيثِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَحْسَنُ مِنْ مَجِيءِ حَدِيثِ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , لِأَنَّهُ جَاءَ مَجِيئًا مُتَوَاتِرًا. وَحَدِيثُ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , لَمْ يَجِئْ كَذَلِكَ , بَلْ قَدْ طُعِنَ فِي إِسْنَادِ حَدِيثِ مَالِكٍ , فَقِيلَ: إِنَّهُ مَوْقُوفٌ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

প্রকৃতপক্ষে যিলহজ্জের প্রথম দশক হজ্জের দিন এবং এদিনে অনেক বিশেষ করণীয় কাজ রয়েছে। কিন্তু হজ্জ পালন করতে হয় মক্কা শরীফে গিয়ে। তাই সামর্থ্যবানের উপর জীবনে কেবল একবার তা আদায় ফরয করা হয়েছে। যে লোক সেখানে গিয়ে হজ্জ পালন করে সেই প্রকৃত অর্থে বিশেষ বরকত লাভ করে। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক মু'মিনকে এ রহমত লাভের সুযোগ করে দিয়েছেন এভাবে যে, হজ্জের দিনসমূহে যেন তারা স্ব-স্ব স্থানে থেকে হজ্জ এবং হাজীর কাজসমূহের সাথে সম্পৃক্ত কাজে অংশগ্রহণ করে এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে নেয়। ঈদুল আযহার কুরবানীর মূলে এটাই বিশেষ রহস্য। হাজীগণ ১০ই যিলহজ্জ তারিখে মিনায় আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজ নিজ কুরবানী করে থাকেন। তবে বিশ্বের যে সকল মুসলমান হজ্জে অংশগ্রহণ করেন নি তাঁদের জন্য নির্দেশ হল, তারা যেন নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করে। হাজীগণ যেভাবে ইহরাম বাঁধার পর চুল ও নখ কাটেন না তদ্রুপ যে সকল মুসলমান কুরবানী করতে ইচ্ছুক তারাও যেন যিলহাজ্জের চাঁদ দেখার পর চুল অথবা নখ না কাটে। এভাবে যেন তারা হাজীদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে। কতই না চমৎকার দিক নির্দেশনা। যার উপর আমল করে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের সকল মুসলমান হজ্জের বরকত ও নূর লাভ করে ধন্য হতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ৬২৫৮ | মুসলিম বাংলা