আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

২- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪৬
- নামাযের অধ্যায়
নামাযরত অবস্থায় কাঁকর সরিয়ে স্থান সমতল করা অবাঞ্ছিত কাজ এবং তা মাকরূহ।
১৪৬। আলী ইবনে আব্দুর রহমান আল-মুআবী (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) আমাকে নামাযের মধ্যে অযথা কাঁকড় নাড়াচাড়া করতে দেখলেন। আমি নামায থেকে অবসর হলে তিনি আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ নামাযে যেরূপ করেছেন, তুমিও তদ্রূপ করো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ কিরূপ করতেন? তিনি বলেন, নামাযের মধ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন বসতেন, তখন তাঁর ডান হাতের তালু তাঁর ডান উরুর উপর রাখতেন এবং তিন আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে রেখে বৃদ্ধাংগুলির নিকটতম (শাহাদাত) আঙ্গুল দিয়ে (তাশাহ্হুদ পড়ার সময়) ইশারা করতেন, আর বাম হাতের তালু বাম উরুর উপর রাখতেন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এবং ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই কর্মপন্থা গ্রহণ করেছি । অবশ্য নামাযে একবার কাঁকর সরানোতে কোন দোষ নেই, তবে তা না করাই উত্তম। ইমাম আবু হানীফারও এই মত।
أبواب الصلاة
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَاوِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: رَآنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَعْبَثُ بِالْحَصَى فِي الصَّلاةِ، فَلَمَّا انْصَرَفْتُ نَهَانِي، وَقَالَ: اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ، فَقُلْتُ: كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ؟ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا، وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ، وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِصَنِيعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْخَذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، فَأَمَّا تَسْوِيَةُ الْحَصَى فَلا بَأْسَ بِتَسْوِيَتِهِ مَرَّةً وَاحِدَةً، وَتَرْكُهَا أَفْضَلُ وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** তাশাহ্হুদ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পড়ার সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল উঠিয়ে আল্লাহর একত্বের প্রতি ইঙ্গিত করতেন (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, বায়হাকী, দারিমী; রাবীঃ ইবনে উমার, ইবনে যুবায়ের, ওয়াইল ইবনে হুজর এবং আবু হুরায়রা (রা)। আরও দ্র. বিবিধ প্রসঙ্গ অধ্যায়, ১৪ নস্বর টীকা) (অনুবাদক)।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বৈঠকে কালেমা শাহাদাত পাঠের পর তর্জনী উঠানো এবং ইশারা করার বিষয়টি শুধু হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) থেকে নয় বরং অপরাপর সাহাবী সূত্রেও বর্ণিত আছে। নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ ﷺ তা করেছেন বলে প্রমাণিত। এর দ্বারা বাহ্যিক উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসল্লী যখন 'আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্' (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই) পাঠ করে, আল্লাহর অদ্বিতীয় একক সত্তার সাক্ষ্য দেয় তখন তার অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সুদৃঢ় বিশ্বাস জন্মে তখন তার একটি বিশেষ আঙ্গুল উচিয়ে শরীর দিয়েও সাক্ষ্য দেয়। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) বর্ণিত এ হাদীসের অন্যান্য সূত্রে এটুকু অতিরিক্ত রয়েছে যে তর্জনী উঠানোর সাথে সাথে চোখ দ্বারাও ইশারা করতেন وأتبعها بصره উক্ত ইশারার ব্যাপারে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) নবী কারীম ﷺ এর নিম্নোক্ত বাণী উল্লেখ করেন- لهي أشد على الشيطان من الحديد "আঙ্গুল দ্বারা ইশারা লোহা দ্বারা (ধারাল ছুরি বা তলোয়ারের আঘাত) অপেক্ষাও শয়তানের কাছে অধিক ভয়াবহ।" (মুসনাদে আহমাদের বরাতে মিশকাত)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)