আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

২- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২০৯
- নামাযের অধ্যায়
সফররত অবস্থায় যান-বাহনের উপর নামায পড়া।
২০৯। সাঈদ ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এক সফরে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ)-র সফরসঙ্গী ছিলেন। (রাবী বলেন) আমি তার সাথে কথা বলছিলাম আর পথ চলছিলাম। আমি ফজর হয়ে যাওয়ার আশংকা করে তার পিছনে সরে এসে বাহন থেকে নীচে নেমে বেতের নামায পড়লাম। অতঃপর বাহনে উঠে তার সাথে মিলিত হলাম । ইবনে উমার (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান! আমি বাহন থেকে নীচে নেমে বেতের নামায পড়েছি। কেননা আমি ফজর হয়ে যাওয়ার আশংকা করছি। তিনি বলেন, তোমার জন্য কি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর মধ্যে উত্তম আদর্শ নেই? আমি বলাম, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আছে। তিনি বলেন, তাহলে শুনো, রাসূলুল্লাহ ﷺ পানাহার উটের পিঠে 'বেতের নামায পড়তেন।**
أبواب الصلاة
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ سَعِيدًا أَخْبَرَهُ , أَنَّهُ كَانَ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِي سَفَرٍ، فَكُنْتُ أَسِيرُ مَعَهُ وَأَتَحَدَّثُ مَعَهُ، حَتَّى إِذَا خَشِيتُ أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرَ تَخَلَّفْتُ، فَنَزَلْتُ فَأَوْتَرْتُ، ثُمَّ رَكِبْتُ، فَلَحِقْتُهُ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: أَيْنَ كُنْتَ؟ فَقُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، نَزَلْتُ فَأَوْتَرْتُ وَخَشِيتُ أَنْ أُصْبِحَ، فَقَالَ: أَلَيْسَ لَكَ فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ؟ فَقُلْتُ: بَلَى وَاللَّهِ، قَالَ: فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ «يُوتِرُ عَلَى الْبَعِيرِ»

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** এই হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম মালেক, শাফিঈ, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ (র) প্রমুখ ফিবিদগণ বলেছেন, বেতের নামায সুন্নাত ওয়াজিব নয়। যদি তাই না হতো, তবে বিশেষ কোন ওজর ছাড়া এই নামায বাহনের উপর পড়া জায়েয হতো না। তাছাড়া একটি হাদীসে বেতের সুন্নাত নামায হিসাবে উল্লেখ আছে। যেমন হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ

الوتر ليس بحتم كصلوتكم المكتوبة ولكن سن رسول اللہ ﷺ قال إن الله وتر يحب الوتر فأوتروا يا أهل القرآن

“বেতের নামায তোমাদের ফরজ নামাযগুলোর মতো বাধ্যতামূলক নয়, বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ এটাকে সুন্নাত হিসাবে ধার্য করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বেজোড়, তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন। অতএব হে কুরআনের অধিকারীগণ! তোমরা বেতের নামায পড়ো” (তিরমিযী)।
আবু মুহাইরীয (র) থেকে বর্ণিত। কিনানা গোত্রের মাখদাজী নামের এক ব্যক্তি সিরিয়ায় আবু মুহাম্মাদ নামে এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, বেতের নামায ওয়াজিব ( ★★)। মাখদাজী বলেন, আমি উবাদা ইবনুস সামিত (রা)-র কাছে এসে তাকে এ সম্পর্কে অবহিত করলাম। উবাদা (রা) বলেন, আবু মুহাম্মাদ মিথ্যা বলেছে। আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছিঃ পাঁচটি নামায রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উপর ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা হালকা মনে না করে বরং গুরুত্বপূর্ণ মনে | আদায় করবে, তার জন্য আল্লাহর কাছে একটি শ্রুতি রয়েছে যে, তিনি তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি তা আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে এ ধরনের কোন প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন, আর ইচ্ছা করলে বেহেশতেও প্রবেশ করাতে পারেন (আবু দাউদ)।
অপরদিকে ইমাম আবু হানীফা (র) বলেছেন, বেতের নামায ওয়াজিব। যেমন রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ

ان الله زادكم صلوة الا وهي الوتر

“আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর একটি নামায বর্ধিত করেছেন। জেনে রাখো, তা হচ্ছে বেতের” (তিরমিযী, আবু দাউদ, তাবারানী, মুসনাদে আহমাদ, দারু কুতনী)। রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেনঃ

الوتر حق واجب على كل مسلم

“বেতের প্রত্যেক মুসলমানের উপর বাধ্যতামূলক এবং ওয়াজিব" (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজা ও মুসনাদে আহমাদ গ্রন্থে আবু আইউব আনসারী (রা)-র সূত্রে মারফূ রিওয়ায়াতরূপে সংকলিত)।

عن عبد الله بن بريدة عن أبيه قال سمعت رسول اللہ ﷺ يقول الوتر حق فمن لم يوتر فليس منا الوتر حق لمن لم يوتر فليس منا الوتر حق فمن لم يوثر فليس منا

“আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছিঃ “বেতের পড়া বাধ্যতামূলক। যে ব্যক্তি বেতের পড়ে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বেতের পড়া বাধ্যতামূলক। যে ব্যক্তি বেতের পড়ে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বেতের পড়া বাধ্যতামূলক। যে ব্যক্তি বেতের পড়ে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়” (আবু দাউদ, হাকেম)।
সহীহ মুসলিমে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা)-র সূত্রে উল্লেখ আছে, "রাসূলুল্লাহ ﷺ ভোর হওয়ার পূর্বেই বেতের নামায পড়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন"।
অপর এক হাদীসে উল্লেখ আছে, মুআয ইবনে জাবাল (রা) সিরিয়ায় গিয়ে দেখলেন, সেখানকার লোকজন বেতের নামায পড়ে না। তিনি আমীর মুআবিয়া (রা)-র দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কি ব্যাপার! আমি যে সিরিয়ার লোকজনকে বেতের নামায পড়তে দেখছি না? মুআবিয়া (রা) বলেন, ★★ (তা কি তাদের উপর ওয়াজিব)? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছিঃ

زادنی ربى صلوة وهي الوتر ووقتها ما بين العشاء إلى طلوع الفجر

“আল্লাহ তাআলা আমার উপর আরো একটি নামায বর্ধিত করেছেন। তা হচ্ছে বেতের। এর ওয়াক্ত হচ্ছে এশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়” (মুসনাদে আহমাদ)।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেনঃ

النعم وهي الوتر فجعلها لكم ان الله تعالى قد أمدكم بصلوة وهي خيرأ فيما بين العشاء إلى طلوع الفجر

“নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা একটি নামাযের দ্বারা তোমাদের সাহায্য করেছেন। তা তোমাদের জন্য লাল উটের চেয়েও অধিক কল্যাণকর। তা হচ্ছে বেতের নামায। তিনি তোমাদের জন্য এশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়কে এর ওয়াক্ত হিসাবে নির্ধারণ করেছেন” (আবু দাউদ, তিরমিযী)।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেনঃ

من نام عن الوتر أو نسيه فليصل اذا ذكر واستيقظ

“যে ব্যক্তি বেতের না পড়ে ঘুমিয়ে গেছে অথবা তা পড়তে ভুলে গেছে সে যেন তা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে বা ঘুম ভাঙ্গার পরপরই পড়ে নেয়” (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজা)। এসব হাদীসের ভাষা ও বক্তব্য থেকে বেতের নামায ওয়াজিব প্রমাণিত হয় (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)