আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৫৪
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
সুন্নত তালাকের বর্ণনা।
৫৫৪। আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাযিঃ)-কে পাঠ করতে শুনেছিঃ “হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও, তখন তাদেরকে তাদের ইদ্দাত সামনে রেখে কিছু পূর্বে তালাক দাও।”**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, সুন্নত পন্থার তালাক এই যে, ইদ্দাতকে সামনে রেখে তালাক দিবে। অর্থাৎ হায়েয হওয়ার পর এবং সংগমের পূর্বে তুহর (পাক) অবস্থায় এক তালাক দিবে। অতঃপর আর সংগম করবে না। অতঃপর দ্বিতীয় তুহরে দ্বিতীয় তালাক দিবে এবং তৃতীয় তুহরে তৃতীয় তালাক দিবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب الطلاق
بَابُ: طَلاقِ السُّنَّةِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقْرَأُ: «يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِقُبُلِ عِدَّتِهِنَّ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: طَلاقُ السُّنَّةِ أَنْ يُطَلِّقَهَا لِقُبُلِ عِدَّتِهَا طَاهِرًا مِنْ غَيْرِ جِمَاعٍ حِينَ تَطْهُرُ مِنْ حَيْضِهَا قَبْلَ أَنْ يُجَامِعَهَا، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** আয়াতের মূল পাঠ নিম্নরূপঃ

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ

“হে নবী! তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দিবে, তখন তাদেরকে তাদের ইদ্দাতের জন্য তালাক দাও” (সূরা তালাকঃ ১)।

কিন্তু সহীহ মুসলিমে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অপর কিরাআতে لِعِدَّتِهِنَّ স্থলে لقبل عِدَّتِهِنَّ উল্লেখ আছে। আর يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ বলে এখানে মুমিনদের সম্বোধন করা হয়েছে। তাই ইবনে উমার (রা) يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ স্থলে يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا পড়েছেন।
‘ইদ্দাতের জন্য তালাক দাও' কথাটির দু'টি অর্থ হতে পারে। একঃ ইদ্দাত শুরু করার জন্য তালাক দাও। অন্য কথায়, এমন সময় তালাক দিবে যখন থেকে তাদের ইদ্দাত গণনা শুরু হতে পারে। সূরা বাকারার ২২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর তালাকের পর তিনটি মাসিক ঋতু অতিক্রান্ত হওয়ার সময়টাই হলো তার ইদ্দাত। একথাটি সামনে রেখে চিন্তা করলে সহজেই বুঝা যায়, 'ইদ্দাত শুরু করার জন্য তালাক দেয়ার' অর্থ এটাই হতে পারে যে, ‘স্ত্রীকে তার মাসিক ঋতু চলাকালে কখনো তালাক দিও না। কেননা যে ঋতুতে তাকে তালাক দেয়া হয়েছে সেই ঋতু থেকে তার ইদ্দাত গণনা শুরু হতে পারে না। কারণ এই ঋতুর পরও তাকে তিনটি পূর্ণ ঋতুকাল ইদ্দাত পালন করতে হলে ইদ্দাতের সময়সীমা দাঁড়ায় চারটি ঋতুকাল। আর তা আল্লাহর বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
দুইঃ যে তুহরে স্ত্রী-সহবাস হবে সে তুহরে তালাক দিও না। কারণ এক্ষেত্রে সঙ্গমের ফলে স্ত্রীর গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা নিশ্চিতভাবে কারো জানা থাকে না। এ সময় তালাক দিলে ইদ্দাত পালন কোন নিয়মে শুরু করা হবে, তা স্থির করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তখন এটা ঠিক করা যায় না যে, স্ত্রীলোকটি কি তিন হায়েযকাল ইদ্দাত পালন করবে, না ধরে নেয়া হবে যে, তার গর্ভসঞ্চার হয়েছে, তাই সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত ইদ্দাত পালন করবে।
অতএব আল্লাহর এই নির্দেশের একইসঙ্গে দু'টি তাৎপর্য হতে পারে। (এক) স্ত্রীকে তার হায়েয অবস্থায় তালাক দিবে না। (দুই) তালাক হয় সেই তুহরে দিবে, যে তুহরে সহবাস হয়নি অথবা সেই অবস্থায় তালাক দিবে, যখন নিশ্চিত জানা যাবে যে, স্ত্রী গর্ভবতী।
প্রসিদ্ধ তাফসীরকারগণ আয়াতটির এ অর্থই করেছেন। ইবনে মাসউদ (রা) বলেছেন, 'ইদ্দাতের জন্য তালাক দেয়া' বলতে বুঝায় তুহর অবস্থায় স্ত্রী-সঙ্গম না করে তালাক দেয়া। ইবনে উমার (রা), আতা, মুজাহিদ, মুকাতিল, দাহ্‌হাক প্রমুখ তাফসীরকারদেরও এই মত বর্ণিত হয়েছে (ইবনে কাছীর)। ইকরিমা এর তাৎপর্য বলেছেন, তালাক এমন অবস্থায় দিতে হবে যখন নিশ্চিত জানা যাবে যে, স্ত্রী গর্ভবতী, এমন অবস্থায় দিবে যখন তার সাথে সঙ্গম করা হয়েছে এবং তার গর্ভসঞ্চার হয়েছে কি না তা নিশ্চিত জানা যায়নি (ইবনে কাছীর)। হাসান বসরী ও ইবনে সীরীন বলেছেন, যে তুহরে স্ত্রী-সঙ্গম হয়নি সেই তুহরে তালাক দিতে হবে অথবা স্ত্রীর গর্ভবতী হওয়ার কথা প্রকাশ পাবার পর তালাক দিবে (ইবনে জারীর)। গর্ভাবস্থায় তালাক দেয়া হলে সন্তান প্রসবের সাথে সাথে ইদ্দাত শেষ হয়ে যায়। তা মাত্র দুই-তিন ঘণ্টাই হোক না কেন (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ - হাদীস নং ৫৫৪ | মুসলিম বাংলা