আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৮১
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
গর্ভবতী স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হলে বা স্বামী মারা গেলে তার ইদ্দাত।
৫৮১। ইবনে উমার (রাযিঃ) বলেন, যে ব্যক্তিই নিজ স্ত্রীর সাথে ঈলা (সঙ্গম না করার শপথ) করে এবং এ অবস্থায় চার মাস অতীত হয়ে যায়, তাকে বিচারকের সামনে স্ত্রীকে তালাক দেয়ার জন্য অথবা রুজু করার জন্য বাধ্য করতে হবে। চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তালাক হবে না, যতোক্ষণ তাকে বিচারকের সামনে উপস্থিত না করা হবে।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ), উছমান ইবনে আফ্ফান (রাযিঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এবং যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) সম্পর্কে জানতে পেরেছি যে, তারা বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে ঈলা করার পর ঈলা ভঙ্গের পূর্বে চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তার স্ত্রী এক বায়েন তালাক হয়ে যায়। সে বিবাহের প্রস্তাবকদের মধ্যে গণ্য হয় (অর্থাৎ প্রস্তাব পাঠানোর মাধ্যমে তাকে নতুনভাবে বিবাহ করতে হবে)। চার মাস পার হয়ে যাবার পর তারা স্বামীর উপর চাপ প্রয়োগের কোন প্রয়োজনীয়তা মনে করেন না। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ
لِلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَاءُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
“যেসব লোক নিজেদের স্ত্রীদের সাথে ঈলা (সম্পর্ক না রাখার প্রতিজ্ঞা) করে, তাদের জন্য চার মাসের অবকাশ আছে। যদি তারা এথেকে প্রত্যাবর্তন করে তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াময়। আর যদি তারা তালাক দেয়ারই সিদ্ধান্ত করে থাকে, তবে জেনে রাখা দরকার যে, আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু জানেন” (সূরা বাকারাঃ ২২৬ ২২৭)।
(ইবনে আব্বাসের ব্যাখ্যা), الفيء অর্থ 'চার মাসের মধ্যে সঙ্গম করা' আর عزيمة الطلاق অর্থ 'চার মাস পার হয়ে যাওয়া'। চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাবার পর স্ত্রী এক বায়েন তালাক হয়ে যায়। এরপর আর স্বামীর উপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) অন্যদের তুলনায় কুরআনের ব্যাখ্যা সম্পর্কে অধিক অবহিত ছিলেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এই মত।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ), উছমান ইবনে আফ্ফান (রাযিঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এবং যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) সম্পর্কে জানতে পেরেছি যে, তারা বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে ঈলা করার পর ঈলা ভঙ্গের পূর্বে চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তার স্ত্রী এক বায়েন তালাক হয়ে যায়। সে বিবাহের প্রস্তাবকদের মধ্যে গণ্য হয় (অর্থাৎ প্রস্তাব পাঠানোর মাধ্যমে তাকে নতুনভাবে বিবাহ করতে হবে)। চার মাস পার হয়ে যাবার পর তারা স্বামীর উপর চাপ প্রয়োগের কোন প্রয়োজনীয়তা মনে করেন না। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ
لِلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَاءُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
“যেসব লোক নিজেদের স্ত্রীদের সাথে ঈলা (সম্পর্ক না রাখার প্রতিজ্ঞা) করে, তাদের জন্য চার মাসের অবকাশ আছে। যদি তারা এথেকে প্রত্যাবর্তন করে তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াময়। আর যদি তারা তালাক দেয়ারই সিদ্ধান্ত করে থাকে, তবে জেনে রাখা দরকার যে, আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু জানেন” (সূরা বাকারাঃ ২২৬ ২২৭)।
(ইবনে আব্বাসের ব্যাখ্যা), الفيء অর্থ 'চার মাসের মধ্যে সঙ্গম করা' আর عزيمة الطلاق অর্থ 'চার মাস পার হয়ে যাওয়া'। চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাবার পর স্ত্রী এক বায়েন তালাক হয়ে যায়। এরপর আর স্বামীর উপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) অন্যদের তুলনায় কুরআনের ব্যাখ্যা সম্পর্কে অধিক অবহিত ছিলেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এই মত।**
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «أَيُّمَا رَجُلٍ آلَى مِنِ امْرَأَتِهِ فَإِذَا مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرُ وُقِفَ حَتَّى يُطَلِّقَ، أَوْ يَفِيءَ، وَلا يَقَعُ عَلَيْهَا طَلاقٌ، وَإِنْ مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرُ حَتَّى يُوقَفَ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: بَلَغَنَا، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّهُمْ قَالُوا: إِذَا آلَى الرَّجُلُ مِنِ امْرَأَتِهِ فَمَضَتْ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ قَبْلَ أَنْ يَفِيءَ فَقَدْ بَانَتْ بِتَطْلِيقَةٍ بَائِنَةٍ، وَهُوَ خَاطِبٌ مِنَ الْخُطَّابِ وَكَانُوا لا يَرَوْنَ أَنْ يُوقَفَ بَعْدَ الأَرْبَعَةِ، وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي تَفْسِيرِ هَذِهِ الآيَةِ: {لِلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَاءُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [البقرة: 226] ، {وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلاقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 227] ، قَالَ: الْفَيْءُ: الْجِمَاعُ فِي الأَرْبَعَةِ الأَشْهُرِ، وَعَزِيمَةُ الطَّلاقِ: انْقِضَاءُ الأَرْبَعَةِ الأَشْهُرِ، فَإِذَا مَضَتْ بَانَتْ بِتَطْلِيقَةٍ، وَلا يُوقَفُ بَعْدَهَا، وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ أَعْلَمَ بِتَفْسِيرِ الْقُرْآنِ مِنْ غَيْرِهِ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** ঈলা (ايلا) শব্দের অর্থ শপথ করা। স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে, আল্লাহর শপথ! আমি চার মাসের মধ্যে তোমার কাছে যাবো না (সহবাস করবো না), এরূপ প্রতিজ্ঞা করাকে ঈলা বলে। ঈলা সম্পর্কিত আয়াতে (সূরা বাকারাঃ ২২৬) প্রতিজ্ঞা বা শপথ করার কথা উল্লেখ থাকাতে হানাফী ও শাফিঈ মাযহাবের ফিকহবিদগণ মনে করেন, স্বামী যখন স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক না রাখার প্রতিজ্ঞা করবে, কেবল তখনই ঈলা সম্পর্কিত নির্দেশ কার্যকর হবে। আর প্রতিজ্ঞা না করে যদি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ত্যাগ করা হয় তাহলে এ অবস্থায় যতো কালই অতিবাহিত হোক, সেখানে ঈলা সম্পর্কিত আয়াতের নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। মালিকী মাযহাবের ফিকহবিদদের মতে, শপথ করা হোক বা না হোক, উভয় অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক না রাখার ব্যাপারে এই চার মাস সময়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট।
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, মাকতূল, যুহরী প্রমুখ ইমামদের মতে, চার মাস শেষ হওয়ার পর স্ত্রী আপনা আপনিই এক রিজঈ তালাক হয়ে যাবে। কিন্তু হযরত আয়েশা (রা), আবু দারদা (রা) এবং মদীনার অধিকাংশ ফিকহবিদের মতে, চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে ব্যাপারটি আদালতে উত্থাপন করতে হবে। বিচারক হয় স্ত্রীকে গ্রহণ করতে, না হয় সম্পূর্ণ তালাক দিতে স্বামীকে নির্দেশ দিবেন। ইমাম মালেক (র) ও শাফিঈ (র) এই মত গ্রহণ করেছেন (অনুবাদক)।
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, মাকতূল, যুহরী প্রমুখ ইমামদের মতে, চার মাস শেষ হওয়ার পর স্ত্রী আপনা আপনিই এক রিজঈ তালাক হয়ে যাবে। কিন্তু হযরত আয়েশা (রা), আবু দারদা (রা) এবং মদীনার অধিকাংশ ফিকহবিদের মতে, চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে ব্যাপারটি আদালতে উত্থাপন করতে হবে। বিচারক হয় স্ত্রীকে গ্রহণ করতে, না হয় সম্পূর্ণ তালাক দিতে স্বামীকে নির্দেশ দিবেন। ইমাম মালেক (র) ও শাফিঈ (র) এই মত গ্রহণ করেছেন (অনুবাদক)।