আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়

হাদীস নং: ৬২৮
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
দুধপান সম্পর্কিত বর্ণনা।
৬২৮। ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তাকে বড়োদের দুধপান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বলেন, উরওয়া ইবনুয যুবায়ের আমাকে অবহিত করেছেন যে, আবু হুযায়ফা ইবনে উতবা ইবনে রবীআ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর সাহাবী ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সালেমকে পালক পুত্র বানিয়েছিলেন—যেমন রাসূলুল্লাহ ﷺ যায়েদ ইবনে হারিছা (রাযিঃ)-কে পালক পুত্র বানিয়েছিলেন। সালেমকে আবু হুযায়ফা (রাযিঃ)-র মুক্তদাস বলা হতো। আবু হুযায়ফা (রাযিঃ) তার ভাই ওলীদ ইবনে উতবা ইবনে রবীআর কন্যা ফাতিমার সাথে তাকে বিবাহ করান এবং তিনি সালেমকে নিজের পুত্র মনে করতেন। ফাতিমা (রাযিঃ) প্রথম দলের সাথে হিজরত করেন এবং সমসাময়িক কুরাইশ মহিলাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিতা ছিলেন। যায়েদ ইবনে হারিছা (রাযিঃ) সম্পর্কে যখন নাযিল হলোঃ “তোমরা মুখডাকা পুত্রদেরকে তাদের পিতাদের সাথে সম্পর্ক সূত্রে ডাকো, এটা আল্লাহর নিকট অধিক ইনসাফের কথা” (সূরা আহযাবঃ ৫)— তখন থেকে মুখডাকা পুত্রদের নিজ নিজ পিতার সাথে সম্পর্কিত করে ডাকা হয়। যদি তাদের কারো পিতার নাম জানা সম্ভব না হতো, তবে তাকে নিজ মনিবের সাথে সম্পর্কিত করে ডাকা হতো। আমের গোত্রের কন্যা এবং আবু হুযায়ফা (রাযিঃ)-র স্ত্রী সাহলা বিনতে সুহাইল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে এলেন। (রাবী বলেন), আমরা জানতে পেরেছি যে, তিনি বলেছেন, আমরা সালেমকে আপন সন্তান মনে করতাম এবং সে আমার কাছে আসা-যাওয়া করতো, আর আমরা তখন পর্দাহীন অবস্থায় থাকতাম। আমাদের একটি মাত্র ঘর আছে। এ সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই। (রাবী বলেন), আমরা জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে বলেছেনঃ “তাকে পাঁচবার তোমার স্তনের দুধ পান করাও। তাহলে সে দুধপান জনিত কারণে তোমার মাহরাম হয়ে যাবে।”
অতএব সাহলা (রাযিঃ) সালেমকে নিজের দুধপুত্র মনে করতেন। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) এ হাদীসকে নিজ মতের সপক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তিনি যে পুরুষলোককে চাইতেন যে, সে তার ঘরে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করুক— তার সম্পর্কে তিনি উম্মে কুলছূম এবং নিজের ভ্রাতুষ্পুত্রীদের নির্দেশ দিতেন—তাকে তোমার স্তনের দুধ পান করাও। কিন্তু নবী ﷺ -এর আর সব স্ত্রীগণ এ ধরনের দুধপুত্রদের তাদের কাছে আসতে অনুমতি অস্বীকৃতি জানান। তারা সকলে আয়েশা (রাযিঃ)-কে বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ ﷺ দুধ সম্পর্কের ব্যাপারে সালহা বিনতে সুহাইলকে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন – তা কেবল সালেমের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিলো। আল্লাহর শপথ! এ ধরনের দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে কোন ব্যক্তি আমাদের কাছে আসা-যাওয়ার অনুমতি পাবে না। বয়স্কদের দুধ পান করানোর ব্যাপারে নবী ﷺ -এর স্ত্রীদের এটাই ছিলো চূড়ান্ত অভিমত।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، وَسُئِلَ عَنْ رَضَاعَةِ الْكَبِيرِ؟ فَقَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ أَبَا حُذَيْفَةَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهِدَ بَدْرًا، وَكَانَ تَبَنَّى سَالِمًا الَّذِي يُقَالُ لَهُ: مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ، كَمَا كَانَ تَبَنَّى رَسُولُ اللَّهِ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ، فَأَنْكَحَ أَبُو حُذَيْفَةَ سَالِمًا وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ ابْنُهُ أَنْكَحَهُ ابْنَةَ أَخِيهِ فَاطِمَةَ بِنْتَ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ، وَهِيَ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلِ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ مِنْ أَفْضَلِ أَيَامَى قُرَيْشٍ، فَلَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي زَيْدٍ مَا أَنْزَلَ: {ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ} [الأحزاب: 5] رُدَّ كُلُّ أَحَدٍ تُبُنِّيَ إِلَى أَبِيهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ يُعْلَمُ أَبُوهُ رُدَّ إِلَى مَوَالِيهِ، فَجَاءَتْ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ امْرَأَةُ أَبِي حُذَيْفَةَ وَهِيَ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا بَلَغَنَا، فَقَالَتْ: كُنَّا نُرَى سَالِمًا وَلَدًا، وَكَانَ يَدْخُلُ عَلَيَّ وَأَنَا فُضْلٌ وَلَيْسَ لَنَا إِلا بَيْتٌ وَاحِدٌ، فَمَا تَرَى فِي شَأْنِهِ؟ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا بَلَغَنَا: «أَرْضِعِيهِ خَمْسَ رَضَعَاتٍ، فَيَحْرُمَ بِلَبَنِكَ، أَوْ بِلَبَنِهَا» ، وَكَانَتْ تَرَاهُ ابْنًا مِنَ الرَّضَاعَةِ، فَأَخَذَتْ بِذَلِكَ عَائِشَةُ فِيمَنْ تُحِبُّ أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْهَا مِنَ الرِّجَالِ، فَكَانَتْ تَأْمُرُ أُمَّ كُلْثُومٍ، وَبَنَاتِ أَخِيهَا يُرْضِعْنَ مَنْ أَحْبَبْنَ أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْهَا، وَأَبَى سَائِرُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْهِمْ بِتِلْكَ الرَّضَاعَةِ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ، وَقُلْنَ لِعَائِشَةَ: وَاللَّهِ مَا نَرَى الَّذِي أَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَهْلَةَ بِنْتَ سُهَيْلٍ إِلا رُخْصَةً لَهَا فِي رَضَاعَةِ سَالِمٍ وَحْدَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لا يَدْخُلُ عَلَيْنَا بِهَذِهِ الرَّضَاعَةِ أَحَدٌ، فَعَلَى هَذَا كَانَ رَأْيُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَضَاعَةِ الْكَبِيرِ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান