আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
৯- কুরবানী,জবাই ও শিকারের বিধান
হাদীস নং: ৬৩৭
- কুরবানী,জবাই ও শিকারের বিধান
কোরবানী গোশত।
৬৩৭। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তিন দিনের পর কোরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি আবার বলেছেনঃ
“তোমরা তা খাও, জমা করে রাখো এবং সদাকা করো।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের উপর আমল করি। কোরবানীর গোশত (তিন দিনের পর) খাওয়া, জমা করে রাখা অথবা সদাকা করলে কোন দোষ নেই। তবে আমরা এটা পছন্দ করি না যে, কোন ব্যক্তি তার কোরবানীর গোশতের এক-তৃতীয়াংশেরও কম দান-খয়রাত করুক। কিন্তু তবুও কেউ যদি এক-তৃতীয়াংশেরও কম দান-খয়রাত করে তবে তাও জায়েয হবে।
“তোমরা তা খাও, জমা করে রাখো এবং সদাকা করো।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের উপর আমল করি। কোরবানীর গোশত (তিন দিনের পর) খাওয়া, জমা করে রাখা অথবা সদাকা করলে কোন দোষ নেই। তবে আমরা এটা পছন্দ করি না যে, কোন ব্যক্তি তার কোরবানীর গোশতের এক-তৃতীয়াংশেরও কম দান-খয়রাত করুক। কিন্তু তবুও কেউ যদি এক-তৃতীয়াংশেরও কম দান-খয়রাত করে তবে তাও জায়েয হবে।
كتاب الضحايا وما يجزئ منها
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ الْمَكِّيُّ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَهُ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ " يَنْهَى عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلاثٍ، ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: كُلُوا وَادَّخِرُوا وَتَصَدَّقُوا "، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، لا بَأْسَ بِأَنْ يَأْكُلَ الرَّجُلُ مِنْ أُضْحِيَتِهِ وَيَدَّخِرَ وَيَتَصَدَّقَ، وَمَا نُحِبُّ لَهُ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِأَقَلَّ مِنَ الثُّلُثِ، وَإِنْ تَصَدَّقَ بِأَقَلَّ مِنْ ذَلِكَ جَازَ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** এই বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস সিহাহ সিত্তাসহ প্রায় সকল হাদীস গ্রন্থেই উল্লেখ আছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর পরবর্তী বক্তব্য তাঁর পূর্বের বক্তব্যকে রহিত করেনি, বরং সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। অর্থাৎ মুসলিম সমাজে কখনো দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তার পূর্বেকার নির্দেশ কার্যকর হবে এবং পরের নির্দেশ স্থগিত থাকবে। আবার দুর্ভিক্ষ দূর হয়ে গেলে পরের নির্দেশ আবার কার্যকর হবে এবং পূর্বের নির্দেশ স্থগিত থাকবে। হাদীসের ভাব এবং ভাষা থেকেও তাই বুঝা যায়। যেমন তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “আমি তোমাদের কোরবানীর গোশত তিন দিনের অধিক রাখতে নিষেধ করেছিলাম—যাতে ধনী লোকেরা গরীব লোকদের পর্যন্ত তাদের গোশত পৌঁছাতে পারে।” হযরত আয়েশা (রা) বলেন, “যেসব লোক কোরবানী করতে সক্ষম নয়— তাদের পর্যন্ত কোরবানীর গোশত পৌঁছানোর জন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন” (তিরমিযী)। বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের বলেনঃ “আমি এজন্য নিষেধ করেছিলাম যে, সে বছর লোকজন আর্থিক অনটনের সম্মুখীন হয়েছিল।” এসব হাদীসের ভিত্তিতে বাংলাদেশের কথা চিন্তা করলে বলা যায়, এখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর পূর্বেকার নির্দেশ বলবৎ হবে। কারণ দেশের জনগণের বর্তমান আর্থিক অবস্থা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, অধিকাংশ পরিবারই কোরবানী করতে সক্ষম নয় (অনুবাদক)।