মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১১১৩
নামাযের অধ্যায়
(২) তারাবীহর সালাতের কারণ এবং মসজিদে তা জামায়াতে আদায় করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে
(১১০৯) আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মানুষেরা রমযান মাসের রাত্রিতে মসজিদে নববীতে বিচ্ছিন্ন জামাতে সালাত আদায় করতো। কারো কিছু কুরআন মুখস্ত থাকলে তখন তার সাথে পাঁচ জনের কিংবা ছয় জনের অথবা তার কিছু কম বা বেশী লোক এখানে সালাত আদায় করতো। আয়েশা (রা) বলেন, এমনি এক রাত্রিতে রাসূল (সা) আমাকে আমার গৃহের ফটকের সামনে একটি চাটাই বিছিয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন, আমি তাই করলাম, নবী (সা) এ সালাত আদায়ের পর উক্ত চাটাইয়ের দিকে গেলেন। তখন যারা মসজিদে ছিলেন তারা তাঁর কাছে সমবেত হলেন, নবী (সা) দীর্ঘ রাত পর্যন্ত তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সালাত থেকে চাটাইটি ঐ অবস্থায় রেখে গৃহে প্রবেশ করলেন। পরদিন সকাল হলে গত রাত্রে মসজিদবাসীদের নিয়ে রাসূল (সা)-এর সালাত বিষয়ে লোকজন বলাবলি করতে থাকল। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধ্যা হলে মসজিদে জনগণের সরব পদাচারণা শুরু হল। রাসূল (সা) তাদের নিয়ে এশার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি নিজ গৃহে প্রবেশ করলেন, কিন্তু মানুষেরা মসজিদে রয়ে গেল। তিনি বলেন, রাসূল (সা) আমাকে বললেন, হে আয়েশা। মানুষদের কি হয়েছে বলতো? তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। মানুষেরা গতরাতে যারা মসজিদে ছিল তাদের নিয়ে আপনার সালাত আদায়ের কথা শুনেছে, তাই তারা জমা হয়েছে, যেন আপনি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বললেন, হে আয়েশা তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আজ নবী (সা) বের হবেন না। তিনি বলেন, আমি তা-ই করলাম, এবং নবী (সা) সতর্কাবস্থায় রাত্রি যাপন করলেন। আর মানুষরাও তাদের স্ব স্ব অবস্থানে থাকল। এমনকি নবী (সা) ফজরের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি বলেন, তারপর রাসূল (সা) বললেন, হে মানুষেরা! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহর কসম। আমি অসতর্কাবস্থায় গত রাত্রি যাপন করি নি এবং গতরাতে তোমাদের অবস্থাও আমার অজানা ছিল না। বরং আমি এ আশঙ্কা করেছি যে, তা তোমাদের উপর ফরয হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা তোমাদের স্কন্ধে এমন আসন তুলে নাও যা আদায় করতে পারবে। কেননা আল্লাহ্ ততক্ষণ পর্যন্ত বিরক্তিবোধ করেন না যতক্ষণ না তোমরা বিরক্তিবোধ কর। বর্ণনাকারী বলেন, আয়েশা (রা) বলতেন, আল্লাহর নিকট প্রিয়তম আমল হচ্ছে যা সর্বদা করা হয় যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।
এ হাদীসটি মুহাম্মদ ইবন নসর আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন, আর মুসলিম ও আহমদ হাদীসটি যাইদ ইবনে সাবিত (রা) থেকেও বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(2) باب ما جاء فى سببها وجواز فعلها جماعة فى المسجد
(1113) عن أبى سلمة بن عبد الرَّحمن بن عوف عن عائشة زوج النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قالت كان النَّاس يصلُّون فى مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم فى رمضان باللَّيل أوزاعًا يكون مع الرَّجل شئ من القرآن فيكون معه النَّفر الخمسة أو السِّتة
أو أقل من ذلك أو أكثر فيصلُّون بصلاته قالت فأمرنى رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلةً من ذلك أن أنصب له حصيرًا على باب حجرتى ففعلت فخرج إليه رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم بعد أن صلَّى العشاء الآخرة قالت فاجتمع إليه من فى المسجد فصلى بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلًا طويلًا ثمَّ انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخل وترك الحصير على حاله فلمَّا أصبح النَّاس تحدَّثوا بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بمن كان معه فى المسجد تلك اللَّيلة قالت وأمسى المسجد راجًّا بالنَّاس فصلَّى بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء الآخرة ثمَّ دخل بيته وثبت النَّاس قالت فقال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شأن النَّاس يا عائشة؟ قالت فقلت له يا رسول الله سمع النَّاس بصلاتك البارحة بمن كان فى المسجد فحشدوا لذلك لتصلِّى بهم قالت فقال اطوعنَّا حصيرك يا عائشة قالت ففعلت وبات رسول الله صلى الله عليه وسلم غير غافل وثبت النَّاس مكانهم حتَّى خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الصُّبح فقالت فقال أيُّها النَّاس أما والله ما بتُّ والحمد لله ليلتى هذه غافلًا وما خفى علىَّ مكانكم ولكنىِّ تخوَّفت أن يفترض
عليكم فاكلفوا من الأعمال ما تطيقون، فإنَّ الله لا يملُّ حتَّى تملُّوا، قال وكانت عائشة تقول إنَّ أحب الأعمال إلى الله أدومها وإنَّ قلَّ.
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান