আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১০- বৃষ্টি প্রার্থনার নামায
হাদীস নং: ১৯৫৮
আন্তর্জাতিক নং: ৮৯৯-২
- বৃষ্টি প্রার্থনার নামায
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
১৯৫৮। আবু তাহির (রাহঃ) ......... নবী সহধর্মিনী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে দিন ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হত সেদিন নবী (ﷺ) বলতেন, হে আল্লাহ! আমি মেঘের কল্যাণ কামনা করছি এবং এর মধ্যে যেসব কল্যাণ রয়েছে এবং যে কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছে তাও এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি এর ক্ষতি, ধ্বংস থেকে এবং যে মন্দ কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে তা থেকে। আকাশে যখন বিজলী চমকায়, বজ্রের বিকট গর্জন হয়, তখন তাঁর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে যেত, রং পরিবর্তন হয়ে যেত। তিনি পেরেশান হয়ে ঘরে প্রবেশ করতেন আবার বের হতেন এবং আগে বাড়তেন ও পিছনে হটে যেতেন। যখন বর্ষণ হয়ে যেত তখন তার চেহারায় আনন্দ ফুটে উঠত।
আয়িশা (রাযিঃ) তা অনুভব করতে পেরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, এতে তিনি উত্তর দিলেন হে আয়িশা! আমার আশঙ্কা হয়, এমন হতে পারে যেমন হুদ (আলাইহিস সালাম) এর কওম বলেছিল, যখন তারা মেঘমালাকে তাদের উপত্যকার দিকে আসতে দেখল, তখন তারা বলতে লাগল, এ প্রসারিত মেঘমালা, আমাদের উপর বারি বর্ষণ করবে।
আয়িশা (রাযিঃ) তা অনুভব করতে পেরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, এতে তিনি উত্তর দিলেন হে আয়িশা! আমার আশঙ্কা হয়, এমন হতে পারে যেমন হুদ (আলাইহিস সালাম) এর কওম বলেছিল, যখন তারা মেঘমালাকে তাদের উপত্যকার দিকে আসতে দেখল, তখন তারা বলতে লাগল, এ প্রসারিত মেঘমালা, আমাদের উপর বারি বর্ষণ করবে।
كتاب صلاة الاستسقاء
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ جُرَيْجٍ، يُحَدِّثُنَا عَنْ عَطَاءِ، بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَصَفَتِ الرِّيحُ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ " . قَالَتْ وَإِذَا تَخَيَّلَتِ السَّمَاءُ تَغَيَّرَ لَوْنُهُ وَخَرَجَ وَدَخَلَ وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ فَإِذَا مَطَرَتْ سُرِّيَ عَنْهُ فَعَرَفْتُ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ . قَالَتْ عَائِشَةُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ " لَعَلَّهُ يَا عَائِشَةُ كَمَا قَالَ قَوْمُ عَادٍ ( فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا) " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ-ভীতি নবী করীম ﷺ-এর মনে অত্যন্ত প্রবল ছিল। তিনি দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য যাবতীয় কষ্ট হাসিমুখে বরণ করতেন। মানব জাতির কল্যাণের জন্য তিনি তাদেরকে আল্লাহর পয়গাম কবুল করার আহ্বান জানাতেন। কিন্তু তারা তাঁর বাণীকে স্বাগতম জানানোর পরিবর্তে তাঁকে নানাবিধ কষ্টদান করত। অতীতের জাতিসমূহ তাদের পয়গম্বরগণের সাথে যেরূপ মন্দ আচরণ করত, তাঁর জাতিও তাঁর সঙ্গে সেরূপ আচরণ করেছে। তাঁর পয়গাম প্রত্যাখ্যান করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাঁকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করেছে। শেয়াবে আবি তালিবে তাঁকে নযরবন্দী করে রেখেছে। বন্দী জীবনের অবসানের পর তিনি পার্শ্ববর্তী শহর তায়েফে গমন করেও কোন ফল পাননি। আল্লাহর দীন কবুল করার জন্য তিনি যে আহ্বান জানিয়েছেন তার জবাব দেশবাসী নির্মম প্রত্যাখ্যান ও অসহনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে দিয়েছে। তাঁকে হত্যা করার জন্য তারা উদ্যত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেছেন। দূরবর্তী মদীনায় গিয়েও তিনি শান্তি পাননি। মক্কার শাসকগণ তাঁর বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ তের বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সত্ত্বেও নবী করীম ﷺ তাঁর কওমের মানুষকে ভালবাসতেন। তিনি আশঙ্কা করতেন যে, তাঁর জাতি আল্লাহর দীনকে প্রত্যাখ্যান করায় আল্লাহর গযব তাদের উপর নেমে আসতে পারে। তাই আসমান মেঘাচ্ছন্ন হলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করতেন তাদের মঙ্গলের জন্য। হাদীসে সূরা আল-আহকাফের ২৪ নং আয়াতের যে উল্লেখ রয়েছে, তাতে আদ জাতির ধ্বংসকালীন অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব মেঘের আকৃতি ধারণ করে তাদের উপর নাযিল হয়েছিল। আদ জাতির অবস্থা বর্ণনা করে প্রকারান্তরে নবী ﷺ-এর বিরুদ্ধবাদীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তারা নবী ﷺ-এর বিরোধিতা ত্যাগ না করে, তাহলে তাদের উপরও আল্লাহর আযাব যে কোন সময় নাযিল হতে পারে। পবিত্র কুরআনের একাধিক স্থানে এ ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাই মেঘ দেখলে নবী করীম ﷺ খুব বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত হতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)