আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

১৪- রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ২৫৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ১১৩৪-২
- রোযার অধ্যায়
১৮. আশুরার কোন দিন রোযা রাখা হবে
২৫৩৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তবে মুহাররমের নবম তারিখেও রোযা পালন করব। আবু বকর (রাহঃ) বলেন, নবম তারিখই হচ্ছে আশূরার দিন।
كتاب الصيام
باب أَىُّ يَوْمٍ يُصَامُ فِي عَاشُورَاءَ
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، - لَعَلَّهُ قَالَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لأَصُومَنَّ التَّاسِعَ " . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ قَالَ يَعْنِي يَوْمَ عَاشُورَاءَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা স্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরামের আপত্তি পেশ করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওফাতের কিছুকাল পূর্বে এ কথাটি বলেছিলেন। এতটুকু পূর্বে যে, এর পর তাঁর জীবদ্দশায় মুহাররম মাস আর আসেই নাই, আর এজন্য এ নতুন সিদ্ধান্তের উপর আমল করা আর হুযুর (ﷺ)-এর জীবনে সম্ভব হয়নি। কিন্তু উম্মত পথনির্দেশ পেয়ে গেল যে, এ ধরনের হিস্যাদারী ও সাদৃশ্য থেকে বেঁচে থাকা চাই। যেমন তিনি এ উদ্দেশ্যে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে, ইন্‌শাআল্লাহ্ আগামী বছর আমরা নবম তারিখে রোযা রাখব।

মুহাররম মাসের নয় তারিখে রোযা রাখার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, এর দু'টি অর্থ হতে পারে। (১) আমরা আগামীতে ১০ তারিখের স্থলে ৯ই মুহাররম এ রোযা রাখব। (২) আগামীতে ১০ তারিখের সাথে আমরা ৯ তারিখেও রোযা রেখে নিব এবং এভাবে আমাদের এবং ইয়াহুদী ও নাসারাদের আমলের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাবে। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, আশুরা দিবসের সাথে এর আগে নয় তারিখের রোযাও রেখে নেওয়া চাই। আর যদি কোন কারণে নয় তারিখে রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরের দিন অর্থাৎ, ১১ তারিখে রোযা রেখে নেওয়া হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
সহীহ মুসলিম - হাদীস নং ২৫৩৮ | মুসলিম বাংলা