শিয়াকে বিবাহ করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৩৬৯৮৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন কে ভালবাসি। ছেলেটা শিয়া সম্প্রদায়ের। আমার কি উচিত এখন? বিয়ে করতে চাই ছেলেটাকে
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ওয়েস্ট বেঙ্গল ৭৪৩৪৩৮
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী বোন!
আপনার প্রশ্নের উত্তরটি আমরা কিছুটা বিস্তারিত দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
১। বিবাহ একটি মহৎ ইবাদত। এটা নিছক সামাজিক কোনো রীতিনীতি নয়। নয় কোনো ছেলে খেলাও। যেখানে আমরা জীবনের নূন্যতম বিষয়েও পরিবারের সাথে আলোচনা করে থাকে সেখানে বিবাহের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ, গুরুগম্ভীর ও দূরদৃষ্টি সম্পৃক্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া কি উচিত?
আরেকটি বিষয় যা না বললেই নয়। তাহলো আমাদের অভিজ্ঞতায় বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যারা bf/gf বা এজাতীয় কোনো সম্পর্কে জড়িত পড়ে তাদেরই এজাতীয় বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়। অথচ নারীপুরুষের বিবাহপূর্ব যেকোনো সম্পর্ককে শরীয়ত কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। একারণেই পর্দার বিধান দিয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, মানুষ হারাম সম্পর্ককে ভালোবাসার ছদ্মাবরণে আপন করে নিয়েছে। এর ফলে যেমনিভাবে ধ্বংস হচ্ছে ব্যক্তিজীবন তেমনি পরিবার, সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে হারাম সম্পর্কের সূচনার মধ্য দিয়ে আসা (যদিও বিয়ে করে বৈধ পদ্ধতিতেই সন্তান গ্রহন করা হয়) আমাদের কোমলমতি সন্তানগুলোও। বাবা মায়ের অবৈধ সম্পর্কে কুপ্রভাব থেকে সন্তানরাও মুক্ত থাকে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন। এর ভয়াবহা উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
কাজেই আবেগ তাড়িত না হয়ে আবেগ কন্ট্রোল করে শরীয়তসম্মত পন্থায় পারিবারের পরামর্শক্রমে বিষয়গুলোর সুরাহা করা আবশ্যক। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে দীনের সহিহ বুঝ ও সুভবুদ্ধি দান করুন।
২। শিয়া ইসনা আশারিয়া উম্মতের হক্কানী উলামাগণের সর্বসম্মত ফাতওয়া মতে কাফের। তাদের সাথে বিবাহ শাদী করা সুন্নী মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণরূপে হারাম।
ইসনা ইশারারিয়া শিয়া বলতে উদ্দেশ্য হল, যারা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাঃ কে সাহাবী মানতে নারাজ। তাকে গালাগাল করে। হযরত আয়শা সিদ্দীকা রাঃ এর উপর ব্যাভিচারের অপবাদ আরোপ করে, হযরত উমর রাঃ, হযরত উসমান রাঃ কে গাদ্দার বলে অপবাদ আরোপ করে। তাদের উপর লানত বর্ষণ করে। এমন আকীদা সম্পন্ন শিয়ারা কাফের। তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত ও ইরানী শিয়ারা সাধারণত এমন কুফরী আকীদা সম্পন্নই হয়ে থাকে।
আপনি যাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন তিনি যদি উপরিউক্ত আকীদার অনুসারী শিয়া হয়ে থাকে। তাহলে আপনাদের বিবাহ শুদ্ধ হবে না। কারণ, কাফেরের সাথে মুসলমানদের বিয়ে শুদ্ধ হয় না।
যদি লোকটি শিয়াদের ভ্রান্ত মতবাদ থেকে তওবা করে নতুন করে মুসলমান হয়, এবং সুন্নী মুসলমানদের মত আকীদা পোষণ করে তাহলেই কেবল তার সাথে বিবাহ শুদ্ধ হবে। অন্যথায় নয়।
أن الرافضى إن كان ممن يعتقد الألوهية فى على أو أن جبرئيل غلط فى الوحى، أو كان ينكر صحبة الصديق، أو يقذف السيدة الصديقة، فهو كافر لمخالفة القواطع المعلومة من الدين بالضرورة (رد المحتار، كتاب النكاح، فصل فى المحرمات-4/135)
نعم لا شك فى تكفير من قذف السيدة عائشة رضى الله عنها، أو أنكر صحبة الصديق، أو اعتقد الألوهية فى على أن أن جبرئيل غلط فى الوحى، أو نحو ذلك من الكفر الصريح المخالف للقرآن (رد المحتار، كتاب الجهاد، باب المرتد-6/378، الفتاوى الهندية-2/264، جديد-2/276)
الرَّافِضِيُّ إذَا كَانَ يَسُبُّ الشَّيْخَيْنِ وَيَلْعَنُهُمَا وَالْعِيَاذُ بِاَللَّهِ، فَهُوَ كَافِرٌ………وَلَوْ قَذَفَ عَائِشَةَ – رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا – بِالزِّنَا كَفَرَ بِاَللَّهِ……..
مَنْ أَنْكَرَ إمَامَةَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -، فَهُوَ كَافِرٌ، وَعَلَى قَوْلِ بَعْضِهِمْ هُوَ مُبْتَدِعٌ وَلَيْسَ بِكَافِرٍ وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ كَافِرٌ، وَكَذَلِكَ مَنْ أَنْكَرَ خِلَافَةَ عُمَرَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – فِي أَصَحِّ الْأَقْوَالِ كَذَا فِي الظَّهِيرِيَّةِ.
وَيَجِبُ إكْفَارُهُمْ بِإِكْفَارِ عُثْمَانَ وَعَلِيٍّ وَطَلْحَةَ وَزُبَيْرٍ وَعَائِشَةَ – رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ – ……….وَيَجِبُ إكْفَارُ الرَّوَافِضِ فِي قَوْلِهِمْ بِرَجْعَةِ الْأَمْوَاتِ إلَى الدُّنْيَا، وَبِتَنَاسُخِ الْأَرْوَاحِ وَبِانْتِقَالِ رُوحِ الْإِلَهِ إلَى الْأَئِمَّةِ وَبِقَوْلِهِمْ فِي خُرُوجِ إمَامٍ بَاطِنٍ وَبِتَعْطِيلِهِمْ الْأَمْرَ وَالنَّهْيَ إلَى أَنْ يَخْرُجَ الْإِمَامُ الْبَاطِنُ وَبِقَوْلِهِمْ إنَّ جِبْرِيلَ – عَلَيْهِ السَّلَامُ – غَلِطَ فِي الْوَحْيِ إلَى مُحَمَّدٍ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – دُونَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -، وَهَؤُلَاءِ الْقَوْمُ خَارِجُونَ عَنْ مِلَّةِ الْإِسْلَامِ وَأَحْكَامُهُمْ أَحْكَامُ الْمُرْتَدِّينَ (الفتاوى الهندية، كتاب السير، التاسع فى احكام المرتدين، مطلب موجبات الكفر انواع-2/264، جديد-2/276-277
কাজেই ব্যক্তিগত আবেগকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে ইসলামি বিধান অনুযায়ী বিবাহ করুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক বুঝার এবং মানার তাওফিক দান করুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১