আল্লাহ তাআলা জালেমদেরকে কেন ধ্বংস করেন না!
প্রশ্নঃ ১৪২২১৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আল্লাহ কেন সরাসরি গজব দেন না কাফের জুলুমবাজ হত্যাকারীদের উপর ? মাজলুম এর দোয়া সরাসরি কবুল হয় এমন হাদিস এ আছে। এত মাজলুম এর দোয়া এত আলেমদের দোয়া কেন কবুল হচ্ছে না ? জালিম মানুষ হত্যা,রেপ করেই যাচ্ছে & প্রযুক্তি বাড়িয়ে চলেছে। কেন সরাসরি আল্লাহ এদের শেষ করছেন না?
৭ মার্চ, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দিয়েছেন। তিনি বলেন,
وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ ۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ
আর তুমি কখনো মনে করো না যে, জালিমরা যা করছে সে বিষয়ে আল্লাহ বেখবর। তিনি তো তাদের সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যেদিন চোখগুলো (ভয়ে) স্থির হয়ে যাবে। (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৪২)
অর্থাৎ, আল্লাহ দেখছেন। কিন্তু তাঁর বিচার করার নিজস্ব একটি সময়সূচী আছে। তিনি সাথে সাথে শাস্তি না দিয়ে জালিমকে ঢিল দেন।
কেন সরাসরি গজব আসে না?
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমকে দীর্ঘ অবকাশ দেন। অতঃপর যখন তাকে পাকড়াও করেন, তখন আর তাকে রেহাই দেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৮৬)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/4329
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ফেরাউন একদিনে ধ্বংস হয়নি। সে শত বছর জুলুম করেছে, নিজেকে রব দাবি করেছে। আল্লাহ তাকে সময় দিয়েছিলেন যাতে তার পাপের ঘড়া পূর্ণ হয় এবং তার ধ্বংস পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক চরম নিদর্শন হয়ে থাকে। বর্তমানের জালিমদের ক্ষেত্রেও আল্লাহ একই নীতি অবলম্বন করছেন।
মাজলুমের দোয়া অবশ্যই কবুল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু দোয়া কবুল হওয়া মানেই এই নয় যে সাথে সাথে আসমান থেকে আগুন এসে জালিমকে পুড়িয়ে দেবে। হাদিস অনুযায়ী দোয়া তিনভাবে কবুল হয়,
১. যা চাওয়া হয়েছে তা সাথে সাথে দেওয়া।
২. যা চাওয়া হয়েছে তার বদলে কোনো বড় বিপদ কাটিয়ে দেওয়া।
৩. দুনিয়াতে না দিয়ে আখেরাতের জন্য জমা রাখা।
দুনিয়াটা মুমিনের জন্য পরীক্ষার জায়গা। এখানে একজন মাজলুমের রক্ত বৃথা যায় না। যদি সে এখানে বিচার না পায়, তবে হাশরের ময়দানে আল্লাহ নিজে তার বিচার করবেন এবং এর বিনিময়ে তাকে এমন জান্নাত দেবেন যেখানে দুনিয়ার সব দুঃখ সে ভুলে যাবে।
আল্লাহ তাআলা কেবল আসমান থেকে ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করেন না, তিনি মুমিনদের মাধ্যমেই জালিমদের শাস্তি দিতে চান। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। (সূরা আর-রাদ, আয়াত: ১১)
বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর অনৈক্য, ঈমানি দুর্বলতা এবং আল্লাহর হুকুম থেকে দূরে সরে যাওয়া আল্লাহর সাহায্য বিলম্বে আসার অন্যতম কারণ। সাহাবায়ে কেরামের যুগেও জুলুম হয়েছে, কিন্তু তারা যখন নিজেদের ঈমান ও জিহাদের মাধ্যমে রুখে দাঁড়িয়েছেন, তখন আল্লাহর সাহায্য এসেছে।
আর জালিমদের প্রযুক্তিগত উন্নতি বা ক্ষমতার দাপট তাদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়। বরং এটি ইসতিদরাজ বা ফাঁদে ফেলা। আল্লাহ তাদের ভোগবিলাসের সুযোগ দেন যাতে তারা আরও বেশি অবাধ্য হয় এবং তাদের শাস্তি আরও কঠোর হয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১