বিয়ের পর মেয়েরা বাবার বাড়িতে নামাজের পদ্ধতি
প্রশ্নঃ ১৪৫২০৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার শশুর বাড়ী থেকে বাপের বাড়ি সফর এর দূরত্বে কিন্তু আমার বাবা তার সম্পত্তির কিছু অংশ আমার নামে লিখে দিয়েছে । কিন্তু আমি সেখানে নিয়মিত থাকী না। পাঁচ ছয় মাস পর পর যাওয়া আসা করি।এখন আমি কি বাবার বাড়িতে কছর সালাত আদায় করবো।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
জেনে রাখা উচিত, কোনো মেয়ে যদি বিয়ের পর বাবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে স্বামীর বাড়ি চলে গিয়ে থাকে এবং স্বামীর বাড়ি ও বাবার বাড়ির মাঝে সফরের দূরত্ব থাকে, এমতাবস্থায় মেয়ে তার বাবার বাড়িতে ১৫ দিনের কম সময়ের জন্য বেড়াতে আসলে মুসাফির হবে। আর বিদায় না নিয়ে থাকলে অর্থাৎ স্বামীর বাড়ি এবং বাবার বাড়িতে মিলিয়ে থাকার ইচ্ছা করলে সে কোনো বাড়িতেই মুসাফির হবে না। স্বামী যদি ঘর জামাই থাকে এবং স্ত্রী মাঝে মাঝে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায়, তবে শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী মুসাফির থাকবে। কিন্তু নিজ বাবার বাড়িতে অবস্থানরত সময় মুসাফির থাকবে না। তাই আপনি আপনার বাবার বাড়িতে জমি থাকা সত্ত্বেও মুসাফির বলে গণ্য হবেন ও কসর নামাজ পড়বেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ১১৬৬৪৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি আমার হাসবেন্ডসহ আমার বাবার বাড়িতেই থাকি। আমরা কেউই ইনকাম করি নাহ। মাসের অর্ধেক সময় বাবার বাড়ি আর শশুরবাড়ি থাকি। দুই বাড়ির দূরত্ব অনেক। আমি জানতে চাচ্ছি যে, আমাদের দুইজনেরই কোথায় কছরের নামায পরা উচিত? বাবার বাড়ি নাকি শশুড় বাড়ি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
বিয়ের পর নারীর জন্য স্বামীর বাড়ি কিংবা স্বামীর সঙ্গে অবস্থানের স্থানই স্থায়ী নিবাস। কাজেই বিবাহিত কোনো নারী যদি বাবার বাড়িকেই নিজের স্থায়ী/দীর্ঘাস্থায়ী নিবাস হিসেবে গ্রহন করে তাহলে তিনি সেখানে মুকিম হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সেটাকে স্থায়ী নিবাস নয় বরং বেড়ানোর ক্ষেত্র মনে করে বাবার বাড়িতে ১৫ দিনের কম থাকে এবং শ্বশুরবাড়ী এবং বাবার বাড়ির মাঝে সফরসম (78 কিমিপ্রায়) দূরত্ব হয় তাহলে তিনি সেখানে মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে।
তখন জোহর, আসর এবং ইশার (চার রাকাআত বিশিষ্ট) ফরজ নামাজের পরিবর্তে দুই রাকাআত কসর নামাজ পড়বেন। তবে তারা যদি স্থানীয় ইমামের পেছনে জামাআতে নামাজ পড়েন তবে তারা ইমামের অনুসরণে পুরো নামাজই আদায় করবেন। আবার ইমাম যদি মুসাফির হয় তবে ইমামের সঙ্গেই নামাজ শেষ করবে। একা একা নামাজ পড়লে কসর পড়বেন।
(আদ্দুররুল মুখতার মা’ আররাদ্দিল মুহতার ২/১২১,১২২)
আয়েশা রাযি. বলেন,
فُرِضَتِ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَأُقِرَّتْ صَلَاةُ السَّفَرِ، وَزِيدَ فِي صَلَاةِ الْحَضَرِ
মুকিম ও মুসাফির অবস্থায় নামায দু’দু রাক’আত ফরজ করা হয়েছিল। পরে সফরের নামায ঠিক রাখা হল কিন্তু মুকিমের নামাযে বৃদ্ধি করা হল। (বুখারী ১০৪০ মুসলিম ৬৮৫)
{ফাতাওয়া দারুল উলুম জাকারিয়া-২/৫১৪, ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ-৪/৪৮৩, আপকি মাসায়িল আওর উনকা হল-২/৩৮৩}
وَالْوَطَنُ الْأَصْلِيُّ هُوَ وَطَنُ الْإِنْسَانِ فِي بَلْدَتِهِ أَوْ بَلْدَةٍ أُخْرَى اتَّخَذَهَا دَارًا وَتَوَطَّنَ بِهَا مَعَ أَهْلِهِ وَوَلَدِهِ، وَلَيْسَ مِنْ قَصْدِهِ الِارْتِحَالُ عَنْهَا بَلْ التَّعَيُّشُ بِهَا وَهَذَا الْوَطَنُ يَبْطُلُ بِمِثْلِهِ لَا غَيْرُ، وَهُوَ أَنْ يَتَوَطَّنَ فِي بَلْدَةٍ أُخْرَى وَيَنْقُلَ الْأَهْلَ إلَيْهَا فَيَخْرُجَ الْأَوَّلُ مِنْ أَنْ يَكُونَ وَطَنًا أَصْلِيًّا حَتَّى لَوْ دَخَلَهُ مُسَافِرًا لَا يُتِمُّ (البحر الرائق، كتاب الصلاة، باب المسافر-2/136، حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح، باب صلاة المسافر-429، شرح منية المصلى-541)
কাজেই সম্মানিত প্রশ্নকারী! এখন আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে যে, আপনি আপনার পিত্রালয়ে কি হিসেবে থাকেন। মেহমান হিসবে না স্থায়ী নিবাস মনে করে। সেই হিসবেই হুকুম নির্ধারণ হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
উস্তাজুল ইফতা ওয়াল হাদিস,
জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন