যাকাত থেকে বাঁচার জন্য কৌশল অবলম্বন করা জায়েজ?
প্রশ্নঃ ১৪৫৩৪৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার স্ত্রীর কাছে ৫.৫ভড়ী স্বর্ন ও ৪ভীড় রুপা আছে ।কোন টাকা নাই। আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছি রুপার মালিক আমাকে করে দিতে যাতে যাকাতের নেছাব থেকে বাচা যায় ।
২৪ মার্চ, ২০২৬
বরিশাল
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ধন-সম্পদ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত, আর প্রতিটি নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক। সম্পদের শুকরিয়া হলো এর জাকাত আদায় করা। ইসলাম ধর্মে প্রত্যেক নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর জাকাত ফরজ। সামাজিক ক্ষেত্রে জাকাত একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপকভিত্তিক ব্যবস্থা। যদি প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি জাকাত প্রদান শুরু করে, তবে মুসলমানরা অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হতে পারবে। তাছাড়া জাকাত সম্পদ পবিত্রকরণ এবং বরকতের মাধ্যম। একে বোঝা মনে করা উচিত নয়; আড়াই শতাংশ জাকাত আদায় করা বাকি সাড়ে সাতানব্বই শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যম।
অতএব, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ব্যক্তির ওপর বছর পূর্ণ হওয়ার পর জাকাত আদায় করা আবশ্যক। কেবল জাকাত ফরজ হওয়ার বিধান থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার নিয়তে অন্যকে মালিক বানিয়ে দেওয়া সঠিক নয়।
জাকাত ফাঁকি দেওয়ার জন্য কোনো হিলা বা কৌশল অবলম্বন করা শরীয়তের দৃষ্টিতে মাকরূহ এবং এটি আল্লাহর নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা। আল্লাহ তাআলা সম্পদ দিয়েছেন বলেই জাকাত ফরজ হয়েছে; তাই অত্যন্ত সন্তুষ্ট চিত্তে জাকাত আদায়ের বিশেষ যত্ন নিন।
فتاویٰ شامی:
"وإذا فعله حيلة لدفع الوجوب كأن استبدل نصاب السائمة بآخر أو أخرجه عن ملكه ثم أدخله فيه، قال أبو يوسف لا يكره؛ لأنه امتناع عن الوجوب لا إبطال حق الغير.وفي المحيط أنه الأصح.وقال محمد: يكره، واختاره الشيخ حميد الدين الضرير؛ لأن فيه إضرارا بالفقراء وإبطال حقهم مآلا، وكذا الخلاف في حيلة دفع الشفعة قبل وجوبها.وقيل الفتوى في الشفعة على قول أبي يوسف، وفي الزكاة على قول محمد، وهذا تفصيل حسن شرح درر البحار.قلت: وعلى هذا التفصيل مشى المصنف في كتاب الشفعة، وعزاه الشارح هناك إلى الجوهرة."
(كتاب الزكاة، باب زكاة الغنم، ج:2، ص:284، ط: سعید)
بنایة شرح الهدایه :
"(الحيلة في إسقاط الزكاة) ش: فعند أبي يوسف - رحمه الله -: لا يكره، وعند محمد: تكره.وقيل: الفتوى على قول أبي يوسف في الشفعة، وعلى قول محمد في الزكاة، والله سبحانه وتعالى أعلم."
(كتاب الشفعة، باب ما يبطل به الشفعة، فصل الحيل في الشفعة، ج:11، ص:387، ط: دار الكتب العلمية)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১