রমযান মাসে ফজরের নামায তাড়াতাড়ি পড়া!
প্রশ্নঃ ১৪৫৬৩৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রমজান মাসে ফজরের জামাত তাড়াতাড়ি পড়া এবং রমজান ব্যতীত অন্যান্য মাসে জামাত দেরি করে পড়া এই মর্মে ইসলামের বিধান কি? হাওয়ালা সহ জানতে চাই।
২৩ মার্চ, ২০২৬
Dhaka 1212
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আমাদের দেশে সাধারণ সময়ে ফজরের নামায সাধারণত ওয়াক্তের শেষ দিকে পড়া হয়, যখন চতুর্দিক কিছুটা আলোকিত হয়ে যায়। সহীহ হাদীসের আলোকে হানাফী মাযহাবে এই সময়ে ফজরের নামায আদায় করা মুস্তাহাব। কিন্তু রমযান মাসে দেখা যায়, ফজরের নামায ওয়াক্তের শুরুতে (একেবারে অন্ধকার থাকতে) আদায় করা হয়। রমযান মাসে ফজরের নামায ওয়াক্তের শুরুতে আদায় করা সুন্নাহ পরিপন্থী নয়; বরং এটি সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফিকহী দলীলের আলোকেই করা হয়।
হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীস থেকে রমযানে ফজরের নামায দ্রুত পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন:
تَّسَحَّرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلاةِ، قُلْتُ: كَمْ كَانَ بَيْنَ الأَذَانِ وَالسَّحُورِ؟ قَالَ: قَدْرُ خَمْسِينَ آيَةً.
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাহরি খেলাম, এরপরই (ফজরের) নামাযে দাঁড়ালাম। বর্ণনাকারী জিজ্ঞাসা করলেন, আযান ও সাহরির মাঝে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার মতো সময়ের ব্যবধান। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৯২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০৯৭)
পঞ্চাশ আয়াত পড়তে খুব অল্প সময় লাগে। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, নবীজী (সা.) সাহরি খাওয়ার পর খুব দ্রুতই ফজরের নামায আদায় করতেন।
বিখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন,
دَلَّ الْحَدِيثُ عَلَى تَغْلِيسِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ فِي رَمَضَانَ وَهُوَ عَمَلُ أَهْلِ دِيُوبَنْدَ.
এই হাদীস প্রমাণ করে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে অন্ধকার থাকা অবস্থায় (ওয়াক্তের শুরুতে) ফজরের নামায আদায় করতেন। আর এটাই দেওবন্দ অধিবাসীদের আমল। (আল-আরফুশ শাষী ১/১৫১; ফায়যুল বারী ২/১৩৫)
হানাফী মাযহাবে সাধারণ সময়ে ফজরের নামায বিলম্বিত করার অন্যতম প্রধান কারণ হলো যাতে বেশি মানুষ জামাতে শরীক হতে পারে। কিন্তু রমযান মাসের পরিস্থিতি ভিন্ন। রমযানে মানুষ সাহরি খাওয়ার জন্য জেগে থাকে। যদি নামায বিলম্বিত করা হয়, তবে অনেকে সাহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারে, ফলে জামাতে মুসল্লীর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী, যে সময়ে জামাত বড় হবে সেই সময়ে নামায পড়াই উত্তম।
সারকথা হলো, রমযান মাসে ফজরের নামায ওয়াক্তের শুরুতে বা অন্ধকার থাকতে আদায় করা সুন্নাহসম্মত। এটি নবীজী (সা.)-এর আমল এবং এতে মুসল্লীদের জন্য সহজসাধ্য হওয়ার বিষয়টিও লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
فیض الباری:
"قوله: (كنت أتسحر في أهلي، ثم يكون سرعة بي أن أدرك صلاة الفجر مع رسول الله صلى الله عليه وسلم) ولعل هذا التغليس كان في رمضان خاصةً، وهكذا ينبغي عندنا إذا اجتمع الناس، وعليه العمل في دار العلوم بديوبند من عهد الأكابر."
(كتاب الصلاة، باب وقت الفجر، ج:2، ص: 178، ط:دار الكتب العلمية بيروت)
وفیه ایضاً:
"حدثنا مسلم بن إبراهيم حدثنا هشام حدثنا قتادة عن أنس عن زيد بن ثابت - رضى الله عنه - قال تسحرنا مع النبى - صلى الله عليه وسلم - ثم قام إلى الصلاة. قلت كم كان بين الأذان والسحور قال قدر خمسين آية."
(كتاب الصوم، باب قدر كم بين السحور وصلاة الفجر، ج:3، ص:336، ط:دار الكتب العلمية بيروت)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১