ইদের রাতের ইবাদত
প্রশ্নঃ ১৪৫৭৫৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ইদের রাতের আমল??
২৩ মার্চ, ২০২৬
লালপোল
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামি পরিভাষায় ঈদের রাতকে লাইলাতুজ জায়েজা বা পুরস্কারের রাত বলা হয়। পুরো মাস ইবাদত করার পর বান্দা এই রাতে আল্লাহর কাছ থেকে তার প্রতিদান বুঝে নেয়।
☰
Ajker Patrika
হোম
>
ইসলাম
ঈদের রাতে যে ৫ আমল করবেন
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৩০
ঈদের রাতে যে ৫ আমল করবেন
সিয়াম সাধনার মাস শেষ হওয়ার পরপরই আমাদের মাঝে আনন্দ ও প্রশান্তির বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদ। কিন্তু আমরা অনেকেই ঈদের কেনাকাটা ও আনন্দের প্রস্তুতিতে এতটাই মগ্ন হয়ে যাই যে, ঈদের রাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো ভুলে যাই। অথচ এই রাত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার গ্রহণের সময়।
ঈদের নামাজের কাজা আদায় করতে হয় কীভাবে?
ঈদের নামাজের কাজা আদায় করতে হয় কীভাবে?
ঈদের রাতের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত
ইসলামি পরিভাষায় ঈদের রাতকে লাইলাতুজ জায়েজা বা পুরস্কারের রাত বলা হয়। পুরো মাস ইবাদত করার পর বান্দা এই রাতে আল্লাহর কাছ থেকে তার প্রতিদান বুঝে নেয়।
১. অন্তর জীবিত থাকার সুসংবাদ: হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করবে, কিয়ামতের সেই ভয়ংকর দিনেও তার অন্তর মরবে না, যেদিন মানুষের অন্তর ভয়ে মারা যাবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৮২)
২. দোয়া কবুলের পাঁচটি রাতের একটি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাঁচটি রাত এমন রয়েছে যে রাতে কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না:
রজব মাসের প্রথম রাত
শাবানের ১৫ তম রাত (শবে বরাত)
জুমার রাত
ঈদুল ফিতরের রাত
ঈদুল আজহার রাত (মুসনাদ আহমাদ)
ঈদের রাতে ৫টি জরুরি করণীয় আমল
১. নতুন চাঁদ দেখে দোয়া পড়া: শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা সুন্নত। চাঁদ দেখার সময় নবীজি (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন—‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল ইয়ুমনি ওয়াল ইমান, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম; রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ। (জামে তিরমিজি)
২. তাকবির পাঠ করা: ঈদের রাতে ও ঈদের নামাজে যাওয়ার পথে বেশি বেশি তাকবির বলা সুন্নত। এটি ঈদের রাতের আমেজ ও সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
তাকবির: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
৩. নফল ইবাদত ও নামাজ: ঈদের রাতে অন্তত দুই বা চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করা উচিত। সারা রাত জাগতে না পারলেও শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করা বরকতময়।
৪. কোরআন তিলাওয়াত: এই রাতে সুরা ইয়াসিন, সুরা রহমান বা সুরা মুলক তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
৫. তওবা ও ইস্তিগফার: রমজান পরবর্তী জীবনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং বিগত দিনের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাওয়ার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।
হযরত আবূ উমামা আল বাহেলী (রা.) এর হাদীস-
سنن ابن ماجه ت الأرنؤوط (2/ 658)
1782 – حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْمَرَّارُ بْنُ حَمُّويَهَ، حَدّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، قَالَ:”مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلَّهِ، لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ”
হযরত আবূ উমামা (রা.) রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন। যে ব্যক্তি ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আযহার রাতে (সাওয়াবের নিয়তে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে, সে ব্যক্তির হৃদয় ঐ দিন মৃত্যুবরণ করবে না যেদিন অন্য হৃদয়গুলো মৃত্যুবরণ করবে। (অর্থাৎ কিয়ামতের দিবশে তার কোন ভয় থাকবে না)। ইবনে মাজা-২/৬৫৮, হাদীস-১৭৮২।
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) এর হাদীস-
الترغيب والترهيب (1/ 248)
374- أخبرنا أبو الفتح الصحاف، أنا أبو سعيد النقاش الحافظ، أنا أبو ذر: الحسين بن الحسن بن علي الكندي بالكوفة، ثنا الحسين بن أحمد المالكي، ثنا سويد بن سعيد،ثنا عبد الرحيم بن زيد العَمِّي، عن أبيه، عن وهب بن منبه، عن معاذ بن جبل -رضي الله عنه- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من أحيا الليالي الخمس وجبت له الجنة، ليلة التروية، وليلة عرفة، وليلة النحر،وَلَيْلَة الْفطر وليلة النصف من شعبان)) .
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। তারবিয়ার রাত (জিলহাজ্জ মাসের ৮ তারিখের রাত), আরাফার রাত, কুরবানী দিবসের রাত এবং ঈদুল ফিত্বরের রাত ও শবে বরাতের রাত। আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল আসবাহানী-১/২৪৮, লিল মুনজেরী-২/৯৮, হাদীস-১৬৫৬।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১