স্যালারি বিক্রির নামে সুস্পষ্ট সুদের চুক্তি
প্রশ্নঃ ১৫২১১৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি সৌদি আরবে একজন প্রবাসী।এখানে সেলারি কেনা-বেচা হয়।এটা কি জায়েয হবে? ধরুন,একমাসে ৩০০ ঘন্টা কাজ করলে কম্পানি প্রতি ঘন্টা ৭ রিয়াল দরে মোট ২১০০ রিয়াল দিবে। ইমারজেন্সি কারনে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন। এখন আমি যদি ৬ রিয়াল দরে মোট ১৮০০ রিয়ালে বিক্রি করি সেটা জায়েয হবে কি?
১৬ মে, ২০২৬
Hanak ৪৮৫১২
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
একই মুদ্রা কম বেশি করে বিক্রি করা জায়েয নেই। যেমন টাকার বিনিময়ে টাকা কম বেশি করে লেনদেন করা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা তা স্পষ্ট সুদি লেনদেন। এমনিভাবে রিয়ালের বিনিময়ে কম বেশি করে রিয়ালের ক্রয়-বিক্রয়ও নাজায়েয ও হারাম।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি নির্ধারিত মেয়াদান্তে ২১০০ রিয়াল দেওয়ার চুক্তি করে কারও থেকে নগদ ১৮০০ রিয়াল গ্রহণ করা হয়, তাহলে তা স্পষ্ট সুদি চুক্তি। কেননা তা সুস্পষ্টভাবে ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুদ দেওয়ারই নামান্তর। আর যে কোন প্রকার সুদি লেনদেন মারাত্মক অন্যায় ও গুনাহের কাজ। যদিও নাম দেওয়া হচ্ছে স্যালারি বিক্রি, কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঋণের বিনিময়ে সুদের চুক্তি; যা কোনভাবেই বৈধ নয়। এমন চুক্তি কিছুতেই করা যাবে না। করে থাকলে অবিলম্বে চুক্তি ভঙ্গ করে ফিরে আসতে হবে।
একান্ত প্রয়োজনে করজে-হাসানা তথা সুদমুক্ত ঋণ লেনদেন করা যেতে পারে। সামর্থবান ব্যক্তিরও উচিত, প্রয়োজনে সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে মুসলিম ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানো। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজনের দিক বিবেচনায়, করজে হাসানা তথা সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করা দান-সদাকার চাইতেও উত্তম।
মোটকথা কোনভাবেই সুদি লেনদেনের সাথে যুক্ত হওয়া যাবে না। কারণ, সুদদাতা ও সুদ গ্রহীতা উভয়ই গুনাহগার। উভয়ের উপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নত করেছেন। তাই এ ধরণের লেনদেন থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকেরই কর্তব্য।
সুদ বা সুদি লেনদেনের নিষেধাজ্ঞা ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছু প্রমাণ পেশ করা হলো-
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
** وَاَحَلَّ اللّٰہُ الۡبَیۡعَ وَحَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ
অথচ আল্লাহ বিক্রিকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। -সুরা বাকারা, আয়াত নং ২৭৫
প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ আরও দু’টি আয়াত
** یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَذَرُوۡا مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰۤوا اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ * فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا فَاۡذَنُوۡا بِحَرۡبٍ مِّنَ اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ۚ وَاِنۡ تُبۡتُمۡ فَلَکُمۡ رُءُوۡسُ اَمۡوَالِکُمۡ ۚ لَا تَظۡلِمُوۡنَ وَلَا تُظۡلَمُوۡنَ.
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা যদি প্রকৃত মুমিন হয়ে থাক, তবে সুদের যে অংশই (কারও কাছে) অবশিষ্ট রয়ে গেছে, তা ছেড়ে দাও।
তবুও যদি তোমরা (তা) না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর তোমরা যদি (সুদ থেকে) তাওবা কর, তবে তোমাদের মূল পুঁজি তোমাদের প্রাপ্য। তোমরাও (কারও প্রতি) জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না। -সুরা বাকারা, আয়াত নং ২৭৮-২৭৯
সুদি লেনদেনের সরাসরি জড়িত সকলের উপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
** عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: لَعَنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ الربا، وموكله، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ.» (صحيح مسلم : رقم الحديث 1598)
হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নত করেছেন- সুদখোর, যে সুদ দেয়, যে সুদ লেখে এবং এর (সুদি লেনদেনের) উভয় সাক্ষী- এদের উপর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯৮
অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-
**كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً فَهُوَ رِباً. (الجامع الصغير (سيوطي) : رقم الحديث 9728)
প্রত্যেক এমন ঋণ যার মধ্যে ঋণদাতার জন্য কোন (দুনিয়াবি) সুবিধা-উপকারিতা রয়েছে, তা-ই সুদ। -জামে সগীর সুয়ূতী, হাদীস নং ৯৭২৮
** «حجة الله البالغة» (2/ 164)
وكذلك الربا، وهو القرض على أن يؤدي إليه أكثر أو أفضل مما أخذ سحت باطل
** الدر المختار مع رد المحتار (5/ 166):
وفي الخلاصة القرض بالشرط حرام والشرط لغو بأن يقرض على أن يكتب به إلى بلد كذا ليوفي دينه.
وفي الأشباه كل قرض جر نفعا حرام فكره للمرتهن سكنى المرهونة بإذن الراهن.»
«(قوله كل قرض جر نفعا حرام) أي إذا كان مشروطا كما علم مما نقله عن البحر، وعن الخلاصة»
** «السنن الكبرى - البيهقي» (5/ 573 ط العلمية) 10933:
عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً فَهُوَ وَجْهٌ مِنْ وُجُوهِ الرِّبَا " مَوْقُوفٌ»
** تكملة فتح الملهم : (1/359) دار القلم
أخرج الحارث ابن أبي أسامة في مسنده عن علي رضي الله موقوفا : كل قرض جر منفعة فهو ربا. ذكره السيوطي في الجامع الصغير. وضعفه المناوي في فيض القدير، ولكن جعله العزيزي في السراج المنير حسنا لغيره لتعدد طرقه.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১