সমিতির অর্থ বিনিয়োগ ও মুনাফা পুনঃবিনিয়োগ
প্রশ্নঃ ১৫২৪৭৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমরা সদস্যদের অর্থ দিয়ে বৈধ পণ্য নগদে ক্রয় করে মালিকানা গ্রহণের পর নির্ধারিত মুনাফায় বাকিতে বিক্রয় (বাই-মুয়াজ্জাল) করতে চাই। পাশাপাশি প্রশাসনিক খরচের জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ গ্রহণ ও মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পদ্ধতি শরীয়াহসম্মত কি না এবং কোনো সংশোধন প্রয়োজন হলে দয়া করে জানাবেন
১৯ মে, ২০২৬
ঢাকা ১২৩৬
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শরিয়া মোতাবেক শরিকানা ব্যবসা বৈধ। শরিকানা ব্যবসার ভিত্তিতে কয়েকজন সদস্য থেকে টাকা উঠিয়ে তা কোন বৈধ ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে কোন অসুবিধা নেই। তবে শর্ত হলো, অবশ্যই তা শরিয়তের নীতিমালার আলোকে হতে হবে। যেমন, সদস্যদের থেকে অর্থ নেওয়ার সময়ই প্রত্যেকের লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করতে হবে। এমনিভাবে ব্যবসায় কোন ক্ষতি হলে তা প্রত্যেকের পুঁজি অনুপাতে দায় বর্তাবে ইত্যাদি।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত বিবরণ মোতাবেক সদস্যদের থেকে শরিকানা ব্যবসার ভিত্তিতে অর্থ সংগ্রহ করে তা বৈধ ব্যবসায় বিনিয়োগ করা যাবে। সেক্ষেত্রে প্রশ্নে যে পদ্ধতি বলা হয়েছে তাও যথাযথ নিয়মে হলে বৈধ হবে। অর্থাৎ বৈধ কোন পণ্য ক্রয় করে নিজেদের মালিকানায় (রিস্কে) নিয়ে মেয়াদ নির্ধারণ করে নির্ধারিত মুনাফায় বিক্রি করা যাবে। এক্ষেত্রে সমিতি (বিক্রেতা) এবং ক্রেতা (সমিতির কাছ থেকে যিনি পণ্য কিনবেন)-এর মধ্যকার চুক্তি সুস্পষ্ট হতে হবে। তা এভাবে-
১. পণ্যের মূল্য চুক্তির সময়ই সুনির্দিষ্ট হতে হবে।
২. কিস্তির মেয়াদ নির্দিষ্ট হতে হবে।
৩. কোন কারণে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হলে পূর্বনির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত কোন কিছুই নেওয়া যাবে না। এমনিভাবে মেয়াদের পূর্বে পরিশোধ করার কারণেও মূল্যের মধ্যে কম বেশি করা যাবে না।
দ্বিতীয় বিষয়-
ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করাও বৈধ। শুধুমাত্র ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজন পরিমাণ খরচ নিতে অসুবিধা নেই। তবে এর থেকে সদস্যদের কাউকে আলাদা বাড়তি কোন সুবিধা দেওয়া যাবে না। সব ক্ষেত্রেই হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আয়-ব্যয়-খরচ ইত্যাদি সকল সদস্যের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। যেন কারও মধ্যে কোন সন্দেহের অবকাশ না থাকে।
তৃতীয় বিষয়
মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে সকল সদস্যের সম্মতি থাকলে বিনিয়োগ করতে অসুবিধা নেই। তবে এক্ষেত্রেও হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মুনাফার পূর্ণাঙ্গ হিসাব সকলের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। অন্তত বছরে একবার ব্যবাসর পূর্ণাঙ্গ হিসাব-কিতাব সদস্যদের সামনে পেশ করা কর্তব্য। তাহলে আর কারও কোন সন্দেহের অবকাশ থাকবে না।
সর্বপরি প্রতিটি পদক্ষেপে শতভাগ স্বচ্ছতা ও আমানতদারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
من المستندات الشرعية
** ﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ﴾ [النساء: 29]
** ﴿وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ﴾ [البقرة: 275]
** «سنن الترمذي» رقم 1275
عن أبي هُرَيْرَةَ، قال: نَهَى رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عن بَيْعَتَيْنِ في بيْعَةٍ.
وقال الترمذي : والعملُ على هذا عندَ أهلِ العِلمِ. وقد فَسَّرَ بَعْضُ أهلِ العِلمِ، قالوا: بَيْعَتَيْنِ في بَيْعَةٍ، أن يَقولَ: أبِيعُكَ هذا الثَّوبَ بِنَقْدٍ بِعَشْرَةٍ، وبِنَسيئةٍ بِعِشْرِينَ، ولا يُفارِقُهُ على أَحَدِ البَيْعَيْنِ، فإذا فَارَقَهُ على أَحدِهِما، فلا بَأسَ إذا كانَتِ العُقْدَةُ على واحدٍ مِنْهُمَا.
** رد المحتار : (5/ 111):
«قَالَ فِي جَامِعِ الْفُصُولَيْنِ: شَرَاهُ وَلَمْ يَقْبِضْهُ حَتَّى بَاعَهُ الْبَائِعُ مِنْ آخَرَ بِأَكْثَرَ فَأَجَازَهُ الْمُشْتَرِي لَمْ يَجُزْ؛ لِأَنَّهُ بَيْعُ مَا لَمْ يَقْبِضْ.»
** مجلة الأحكام العدلية» (ص50):
«الفصل الثاني: في بيان المسائل المتعلقة بالنسيئة والتأجيل
(الْمَادَّةُ 245) الْبَيْعُ مَعَ تَأْجِيلِ الثَّمَنِ وَتَقْسِيطِهِ صَحِيحٌ
(الْمَادَّةُ 246) يَلْزَمُ أَنْ تَكُونَ الْمُدَّةُ مَعْلُومَةً فِي الْبَيْعِ بِالتَّأْجِيلِ وَالتَّقْسِيطِ
(الْمَادَّةُ 247) إذَا عُقِدَ الْبَيْعُ عَلَى تَأْجِيلِ الثَّمَنِ إلَى كَذَا يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً أَوْ إلَى وَقْتٍ مَعْلُومٍ عِنْدَ الْعَاقِدَيْنِ كَيَوْمِ قَاسِمَ أَوْ النَّيْرُوزَ صَحَّ الْبَيْعُ»
** «مجلة الأحكام العدلية» (ص262):
«الْمَادَّةُ (1365) لَا يُشْتَرَطُ فِي الشَّرِيكَيْنِ شَرِكَةَ عِنَانٍ أَنْ يَكُونَ رَأْسُ مَالِهِمَا مُتَسَاوِيًا فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ رَأْسُ مَالِ أَحَدِهِمَا أَزْيَدَ مِنْ رَأْسِ مَالِ الْآخَرِ ،
«الْمَادَّةُ (1367) عَلَى أَيِّ وَجْهٍ شُرِطَ تَقْسِيمُ الرِّبْحِ فِي الشَّرِكَةِ الصَّحِيحَةِ يُرَاعَى ذَلِكَ الشَّرْطُ عَلَى كُلِّ حَالٍ إذَا كَانَ مُوَافِقًا لِلشَّرْعِ.»
** رد المحتار : (4/ 326)
«لأنه لا أجر للشريك في العمل بالمشترك»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১