বাবা মা যদি সন্তানকে অপবাদ দেয় তাহলে কি তাদের শাস্তি দিতে হবে?
প্রশ্নঃ ১৫৯৭৮৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কুরআন উল্লেখ আছে قوله تعالى: وصاحبهما في الدنيا معروفا তো প্রশ্ন হচ্ছে মা বাবা যদি নিজ সন্তানকে অপবাদ দেয় তাদের ব্যাপারে কি কোন কিসাস থাকবে ইমামদের মতানৈক্য সহকারে বললে উপকৃত হতাম।
৩ জুলাই, ২০২৬
Jhapua
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী নিচের হাদিসটি দেখুন।
عَنْ سُرَاقَةَ بْنِ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ، قَالَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقِيدُ الأَبَ مِنِ ابْنِهِ وَلاَ يُقِيدُ الاِبْنَ مِنْ أَبِيهِ ...... وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الأَبَ إِذَا قَتَلَ ابْنَهُ لاَ يُقْتَلُ بِهِ وَإِذَا قَذَفَ ابْنَهُ لاَ يُحَدُّ .
আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... সুরাকা ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি যে, তিনি পিতাকে হত্যার জন্য পুত্রের কিসাস নিতেন কিন্তু পুত্রকে হত্যার জন্য পিতার কিসাস নিতেন না। ....
আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, পিতা যদি পুত্রকে হত্যা করে তবে এর বদলায় পিতাকে হত্যা করা হবে না। এমনিভাবে পিতা যদি পুত্রের উপর যিনার তুহমত আরোপ করে তবে তার উপর মিথ্যা তুহমতের কারণে হদ প্রয়োগ করা হবে না।
জামে' তিরমিযী, নিহতের রক্তপণ সংক্রান্ত অধ্যায়
হাদীস নংঃ ১৩৯৯, আন্তর্জাতিক নং: ১৩৯৯
ওপরোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন ও শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা মুফতি সাঈদ আহামাদ পালনপুরী রহ. লিখেন,
باپ بیٹے کو قتل کرے تو قصاص لیا جائے گا یا نہیں؟
اگر کوئی شخص اپنی اولاد کو قتل کرے تو باپ کو اولاد کے قصاص میں قتل نہیں کیا جائے گا، اور برعکس صورت میں یعنی باپ کے قصاص میں اولاد کو قتل کیا جائے گا، یہ اجماعی مسئلہ ہے، اور وجہ فرق یہ ہے کہ باپ: اولاد کے وجود ظاہری کا سبب ہے پس اولا د اس کے عدم کا سبب نہیں بن سکتی ، یہ کفران نعمت ہے، علاوہ ازیں اولاد پر باپ کی شفقت بے پناہ ہوتی ہے اور ہمیشہ رہتی ہے ، ہیں وہ اپنی اولاد کو مل نہیں کر سکتا اس لئے احتمال ہے کہ دریرہ کوئی ایسی وجہ رہی ہو جس قتل جائز ہوا ہو یا اس نے عمد قتل نہ کیا ہو، اگر چہ بظاہر قتل عمد نظر آتا ہو، اور اولاد کا معاملہ اس کے برعکس ہے، اس کا باپ کی طرف میلان ایک وقت تک رہتا ہے پھر رفتہ رفتہ کم ہو جاتا ہے اور یہ قدرتی نظام ہے تا کہ اولا د کمانے کے لئے منتشر ہو اور دنیا آباد ہو، اور دوسری وجہ یہ ہے کہ باپ نے تو اولاد کو وجود بخشا ہے، اور اولاد نے باپ کو موت کی گھاٹ اتار دیا یہ کفرانِ نعمت ہے، پس اولاد کو تو باپ کے قصاص میں قتل کیا جائے گا مگر باپ کو قتل نہیں کیا جائے گا، مگر اس کا یہ مطلب نہیں کہ اس کو بس یونہی چھوڑ دیا جائے گا بلکہ انتظام مملکت کے پیش نظر جو سز ا مناسب ہوگی وہ دی جائے گی۔
"বাবা যদি সন্তানকে হত্যা করে তবে কেসাস (রক্তের বদলে রক্ত) নেওয়া হবে কি না?
কোনো ব্যক্তি যদি নিজের সন্তানকে হত্যা করে, তবে সন্তানের কেসাস হিসেবে বাবাকে হত্যা করা হবে না। কিন্তু এর বিপরীত ক্ষেত্রে, অর্থাৎ বাবার কেসাস হিসেবে সন্তানকে হত্যা করা হবে—এটি একটি সর্বসম্মত (ইজমাঈ) সিদ্ধান্ত। এই পার্থক্যের কারণ হলো, বাবা হলেন সন্তানের বাহ্যিক অস্তিত্বের কারণ। সুতরাং, সন্তান তার বাবার অস্তিত্বহীনতার (মৃত্যুর) কারণ হতে পারে না; এটি একটি চরম অকৃতজ্ঞতা (কুফরানে নেয়ামত)। এছাড়া, সন্তানের প্রতি বাবার স্নেহ থাকে অপরিসীম এবং চিরন্তন। তাই তিনি সাধারণত নিজের সন্তানকে হত্যা করতে পারেন না। এ কারণে এখানে একটি সম্ভাবনা থেকে যায় যে, পর্দার আড়ালে হয়তো এমন কোনো কারণ ছিল যার ফলে এই হত্যা বৈধ হয়ে গিয়েছিল, অথবা তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেননি—যদিও বাহ্যিকভাবে এটিকে ইচ্ছাকৃত হত্যা (ক্বাতলে আমদ) বলেই মনে হচ্ছে।
সন্তানের বিষয়টি এর উল্টো। বাবার প্রতি সন্তানের আকর্ষণ একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে, তারপর ধীরে ধীরে তা কমে যায়। আর এটিই প্রকৃতির নিয়ম, যাতে সন্তান উপার্জনের জন্য ছড়িয়ে পড়ে এবং পৃথিবী জনবহুল হয়। দ্বিতীয় কারণ হলো, বাবা সন্তানকে জীবন দিয়েছেন, আর সন্তান বাবাকে মৃত্যুর ঘাটে নামিয়ে দিল—এটি চরম অকৃতজ্ঞতা। সুতরাং, বাবার কেসাস হিসেবে সন্তানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, কিন্তু সন্তানের কেসাস হিসেবে বাবাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তাকে এমনিই ছেড়ে দেওয়া হবে; বরং রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার খাতিরে (তাযীর হিসেবে) যা উপযুক্ত মনে হবে, সেই শাস্তি তাকে দেওয়া হবে।"
তুহফাতুল আলমাঈ: (4/330-331)
وفي الدر المختار مع رد المحتار: صـ 171/10 (رشيديه باكستان) : ويسقط قود قد ورثه على أبيه اي أصله ، لأن الفرع لا يستوجب العقوبة على أصله.
وفي "بدائع الصنائع" ص5/500 (زكريا ديوبند) : فصل وأما الذي يرجع إليهما جميعاً فواحد وهو أن لا يكون القاذف أب المقترف ولا جده وإن علا، ولا أمه ولا جدته وإن علت فإن كان لا حد عليه لقول الله تعالى "ولا تقل لهما أف" والنهي عن التأليف نصا نهي عن الضرب دلالة. ولهذا لا يقتل به قصاصاً. ولقوله تبارك وتعالى "وبالوالدين إحسانا" والمطالب بالقذف ليس من الإحسان في شيء فكان منفياً بالنص ولأن توقير الأب واحترامه واجب شرعاً وعقلا. والمطالبة بالقذف للجد ترك التعظيم والاحترام فكان حراماً والله سبحانه وتعالى الموفق.
ما يشترط في القاذف والمقذوف معا: يشترط بالاتفاق ألا يكون القاذف أبا للمقذوف، ولا جده وإن علا، ولا أمه ولا جدته وإن علت. فإن كان كذلك، فلا حد عليه، للأوامر التي تطالب بالإحسان إلى هؤلاء، وفي إقامة الحد ترك للتعظيم والاحترام الواجب شرعا
المكتبة الشاملة .
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
উপারোক্ত হাদিস, তার ব্যাখ্যা এবং ফিকহি ইবারত থেকে নিশ্চয়ই আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন যে, পিতামাতা যদি সন্তানকে কোনো অপবাদ দেয়ও তাহলে তার শাস্তিস্বরূপ তাদের ওপর শরীয়তের হদ কায়েম করা হবে না।
তবে একথার অর্থ এই নয় যে, তাদের জন্য সন্তানকে এজাতীয় অপবাদ দেওয়া জায়েজ হবে। বরং আপন স্থানে এটা অবশ্যই গুনাহের কাজ।
করণীয়: কোনো পিতামাতা যদি এমনটি করেন তাহলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ না করে তাদের বিষয়টি ভালোভাবে বুঝাতে হবে। তাদের ভুলের ব্যাপারে তাদের মাঝে অনুশোচনাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে সমাজের কাছেও নিজেদের পবিত্রতার জানান দিতে হবে। তারপরেও বাবা মায়ের সাথে খারাপ আচর করা যাবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১