পার্সোনাল বিকাশ নম্বরে টাকা গ্রনহ করে ক্যাশ আউটের টাকা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬০৪৯৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হযরত! আমার পার্সনাল বিকাশ নম্বরে কেউ খরচ সহ টাকা পাঠালে! আমি যদি দোকানে ক্যাশ আউট না করি বরং অন্যভাবে খরচ করার জন্য খরচসহ টাকাটা বিকাশেই রেখে দিই এবং মুল টাকাটা পকেট থেকে পাওনাদারকে দিয়ে দিই তাহলে খরচের টাকাটা যে রয়ে গেল সেটার মালিক কে হবে? যদি কেউ মালিক না থাকে তাহলে আমি কি ঐ টাকাটা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করতে পারবো?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
শরীয়তের একটি মূলনীতি হলো, কোনো মুসলমানের জন্য অনুমতি ছাড়া অন্যের মাল ভক্ষণ করা জায়েজ নাই। তবে যদি মালিক স্বাচ্ছন্দ্যে অনুমতি দিয়ে দেয় তাহলে তার জন্য সেই মাল হালাল হয়ে যায়।
এই মূলনীতির আলোকে— ক্যাশ আউটের খরচের টাকাটার মালিক আপনি নিজেই এবং টাকাটা আপনি আপনার ব্যক্তিগত কাজে খরচ করতে পারবেন। কেননা, ক্যাশ আউট চার্জের টাকাটি মূলত আপনার ক্যাশ আউট করার সুবিধার্থেই পাঠানো হয়েছিল। টাকাটি যখন আপনার বিকাশ ওয়ালেটে চলে এসেছে, তখন আপনি তার পূর্ণ মালিক হয়ে গেছেন।
তাছাড়া প্রেরক আপনাকে ক্যাশ আউটের খরচসহ টাকা পাঠিয়েছেন যেন ওই টাকা উত্তলনে আপনার পকেট থেকে বাড়তি কোনো টাকা খরচ না হয়। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সে যেই খাতে পাঠিয়েছে সেই খাতে যে এই পরিমাণ টাকা ব্যয় হয়। আপনি সেটা ক্যাশ আউট না করে বিকাশে রেখে দিয়ে নিজের পকেট থেকে তার চাহিদা পুরণ করার ফলে এতে প্রেরকের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং এতে তার কোনো আপত্তি থাকারও কথা নয়।
কাজেই প্রশ্নোক্ত অতিরিক্ত টাকা আপনার জন্য খরচ করা জায়েজ হবে।
উল্লেখ্য, বিকাশ প্রতিনিধিগণ মোটা অঙ্কের (8/10/15/20 হাজার) টাকা হলে ক্যাশ আউট না করে নিজেদের ব্যক্তিগত নম্বরে ক্যাশআউট চার্জসহ সেন্টমানি করে নিয়ে যান। পরে তারা সেই টাকা অন্যত্র সেন্ট মানি করে ব্যবসা করেন। যা বিকাশের নিজস্ব আইন পরিপন্থি। উপরিউক্ত মাসআলার সাথে এই মাসআলা সম্পৃক্ত নয়।
এসম্পর্কে জানতে নিচের রেফারেন্স উত্তরটি দেখুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ১৩৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি বিকাশের একজন এজেন্ট। অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে আমার দোকানে আসে। কেউ ক্যাশ আউট করতে আসলে বিকাশ এজেন্টগণ সাধারণত প্রতি হাজারে খরচ বাবদ ২০ টাকা রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত চার্জ হল ১৮.৫০। এখানে এজেন্টগণ ১.৫০ অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করে। আবার কারো ক্যাশ আউটের পরিমাণ বেশি হলে তাকে সেন্ড মানি করতে বলা হয়। এখানেও খরচ হিসেবে প্রতি হাজারে ২০ টাকা করে রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে সেন্ড মানির জন্য নির্ধারিত চার্জ হল পাঁচ টাকা। এক্ষেত্রে ২০ টাকা পুরোটাই অতিরিক্ত গ্রহণ করে থাকে। আর বলে- আমাদের তো টাকা ওঠাতে এত টাকা খরচ হবে। তাই আপনার থেকে রাখলাম। এক্ষেত্রে অনেকেই পরবর্তীতে ক্যাশ আউট না করে অন্যভাবে উক্ত টাকা ব্যবহার করে থাকে। অতএব হুযুরের কাছে উক্ত কারবারদুটির শরয়ী বিধান জানতে চাচ্ছি।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চার্জসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হয়। এর অতিরিক্ত কোনো টাকা দোকানী/এজেন্ট কর্তৃক নেওয়া আইনতও নিষেধ আর শরীয়তের দৃষ্টিতেও নাজায়েয। কারণ এজেন্ট মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানীর পক্ষ থেকে নিযুক্ত প্রতিনিধি বা উকীল। আর প্রতিনিধিরা দায়িত্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বাইরে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করা রিশওয়াত তথা উৎকোচের অন্তর্ভুক্ত, যা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর কেউ ক্যাশ আউট করতে আসলে তাকে পার্সোনাল নাম্বারে সেন্ড মানি করতে বলাও নীতি বহির্ভূত অন্যায় কাজ। এক্ষেত্রে এজেন্ট যদি পরবর্তীতে বাস্তবেই ক্যাশ আউট না করে তাহলে গ্রাহক থেকে ক্যাশ আউটের চার্জ গ্রহণ করাও জায়েয নয়। কারণ এজেন্ট পরবর্তীতে এ টাকা যদি কোথাও সেন্ড করে অথবা তা পণ্য খরিদ/মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করে তাহলে তার কোনোই খরচ হবে না। তাই অতিরিক্তও নিতে পারবে
না।
-শরহু আদাবিল কাযী, খাসসাফ ২/২৫-২৬; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৫/১৪০; ইলাউস সুনান ১৫/৬৪
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন