ব্যবসায় হারাম ও মিথ্যা পরিহার করে হালাল পন্থা অবলম্বন করা অপরিহার্য
প্রশ্নঃ ১৬০৫৭৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুআলাইকুম , আমি হজ্জ করে এসেছি। আমার ব্যবসায় একজন পাটনার আছে আমাদের ২জনে এখানে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে আমার টাকাটা পুরো ব্যাংক থেকে নেয়া আর আমার ব্যবসায় টা গাড়ির আমার এখানে ২৫ জন কমচারি আছে।গাড়ি ব্যবসা জন্য গাড়ি রেজিষ্ট্রেশন এর কাজে ঘুষের লেনদেন করতে হয়।কোষল করে কিছু মিথ্যা বলতে হয়
৯ জুলাই, ২০২৬
Madinah ৪২৩১১
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তাআলা আপনার হজ্জ কবুল করুন এবং হজ্জের শিক্ষা দ্বারা জীবনকে সম্পূর্ণভাবে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করার তাওফীক দান করুন।
আপনার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবসার মূলধন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের মাধ্যমে এসেছে। প্রচলিত ব্যাংকের ঋণ সুদভিত্তিক হওয়ায় এ ধরনের ঋণ থেকে অবিলম্বে পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা অপরিহার্য। কেননা, যে কোনো প্রকার সুদি লেনদেনে জড়ানো ইসলামে কঠোরভাবে হারাম এবং এটি কবীরা গুনাহ।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
** وَاَحَلَّ اللّٰہُ الۡبَیۡعَ وَحَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ
অথচ আল্লাহ বিক্রিকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। -সুরা বাকারা, আয়াত নং ২৭৫
প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ আরও দু’টি আয়াত
** یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَذَرُوۡا مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰۤوا اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ * فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا فَاۡذَنُوۡا بِحَرۡبٍ مِّنَ اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ۚ وَاِنۡ تُبۡتُمۡ فَلَکُمۡ رُءُوۡسُ اَمۡوَالِکُمۡ ۚ لَا تَظۡلِمُوۡنَ وَلَا تُظۡلَمُوۡنَ.
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা যদি প্রকৃত মুমিন হয়ে থাক, তবে সুদের যে অংশই (কারও কাছে) অবশিষ্ট রয়ে গেছে, তা ছেড়ে দাও।
তবুও যদি তোমরা (তা) না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর তোমরা যদি (সুদ থেকে) তাওবা কর, তবে তোমাদের মূল পুঁজি তোমাদের প্রাপ্য। তোমরাও (কারও প্রতি) জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না। -সুরা বাকারা, আয়াত নং ২৭৮-২৭৯
এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الربا، وموكله، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নত করেছেন- সুদখোর, যে সুদ দেয়, যে সুদ লেখে এবং এর (সুদি লেনদেনের) উভয় সাক্ষী- এদের উপর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯৮
এ ছাড়া, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজে ঘুষের লেনদেন করা এবং কাজ আদায়ের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াও বৈধ নয়; বরং নাজায়েয ও গুনাহের কাজ। একান্ত নিরুপায় অবস্থায় নিজের বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়ার কিছু সীমিত অবকাশের কথা ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন; কিন্তু এমন কোনো ব্যবসা বা পেশা গ্রহণ করা, যেখানে নিয়মিত ঘুষ দেওয়া, ঘুষের ব্যবস্থা করা বা মিথ্যা বলার প্রয়োজন হয়- এটি কোনো ঈমানদার ও নেক আমলের জীবন যাপন করতে ইচ্ছুক মুসলিমের জন্য কাম্য নয়।
ঘুষ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবন আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِيَ.
রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা- উভয়ের ওপর লানত করেছেন। -সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস: ৩৫৮০; জামে তিরমিযী, হাদীস: ১৩৩৭
মিথ্যা সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন-
إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ صِدِّيقًا وَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ كَذَّابًا
সত্যবাদিতা নেকীর দিকে পথ প্রদর্শন করে আর নেকী জান্নাতের পথের নির্দেশ দেয়। কোন মানুষ সত্য কথা রপ্ত করতে থাকলে অবশেষে আল্লাহর কাছে (সত্যবাদী) হিসেবে (তার নাম) লিপিবদ্ধ হয়। আর মিথ্যা পাপের পথে পরিচালিত করে এবং জাহান্নামের দিকে পথ দেখায়। কোন মানুষ মিথ্যা বলতে থাকলে এমনকি আল্লাহর কাছে (তার নাম) মিথ্যাবাদীরূপে লিপিবদ্ধ করা হয়। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৯৪; সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৬০৭
তাই আপনার উচিত, যত দ্রুত সম্ভব সুদি ঋণমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা এবং এমন ব্যবসায়িক পদ্ধতি গ্রহণ করা, যেখানে হারাম কাজে জড়াতে না হয়।
বৈধ পন্থায় গাড়ির ব্যবসা করা নিঃসন্দেহে হালাল; কিন্তু যদি বাস্তবে এ ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে নিয়মিত হারাম কাজে লিপ্ত হতে হয়, তাহলে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
মনে রাখতে হবে, হারামের সংমিশ্রণযুক্ত বিরাট বড় ব্যবসা, অঢেল ধন-সম্পদ ও বিত্তবৈভবের চেয়ে স্বল্প পরিসরের হালাল উপার্জন আল্লাহর নিকট অনেক বেশি প্রিয় ও বরকতময়। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হারাম ত্যাগ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম ও বরকতময় বিকল্প দান করেন। তাই হজ্জের পর জীবনের প্রকৃত পরিবর্তনের অন্যতম নিদর্শন হলো- হারাম লেনদেন বর্জন করে সম্পূর্ণ হালাল উপার্জনের পথে ফিরে আসা।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১