স্ত্রী বলল, “আপনি কি আমাকে তালাক দিয়েছেন?”—স্বামী বলল, “হ্যাঁ”; তালাক হবে কি?
প্রশ্নঃ ১৬০৯১০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি কয়েকবার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বলি।একবার তিনি বলেন,দিলাম।আরেকবার যখন বলেছিলাম বলেন,নেও,আমি বলি কি নিব বলল তুমি যেটা চাইছো পরে জানান তালাকের নিয়ত ছিলনা।আরেকবার রেগে বলেন,তোরে রাখতামনা,তালাক দেম(দিব),পরে বলেন ভয় দেখাতে বলেছেন। এতে কি তালাক হয়েছে?হলে কয় তালাক?আমরা এখনো একসাথে রয়েছি
১২ জুলাই, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় বোন, যদি আপনি তালাক চাওয়ার পর আপনার স্বামী উত্তরে "দিলাম" বলে থাকেন, তাহলে এক তালাক পতিত হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে পরে তিনি “আমার তালাকের নিয়ত ছিল না” বললেও শরিয়তের দৃষ্টিতে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। অন্যগুলোর মাধ্যমে তালাক হয়নি।
সুতরাং স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে। এরপর ইদ্দতের মধ্যে (তিন হায়েজ, গর্ভবতী হলে গর্ভপাত পর্যন্ত) স্ত্রীকে মৌখিকভাবে,
যেমন স্বামী স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে বলবে, "আমি তোমাকে রুজু করলাম", "আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম" বা এ ধরনের স্পষ্ট বাক্য। এর মাধ্যমে রুজু সম্পন্ন হয়ে যাবে।
একইভাবে স্বামী-স্ত্রীসুলভ আচরণ যেমন সহবাস ইত্যাদির দ্বারাও রুজু হয়ে যায়।
এরপরে আপনার হাতে আরও দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে।
আর যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তাহলে রুজুর সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতিতে নতুন মোহর নির্ধারণ করে পুনরায় বিবাহ করলেই বৈবাহিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়ে যাবে।
الفتاوى الهندية (1 / 356):
"وَفِي الْمُنْتَقَى امْرَأَةٌ قَالَتْ لِزَوْجِهَا طَلِّقْنِي فَقَالَ الزَّوْجُ قَدْ فَعَلْت طَلُقَتْ فَإِنْ قَالَتْ زِدْنِي فَقَالَ فَعَلْت طَلُقَتْ أَيْضًا رَوَى إبْرَاهِيمُ عَنْ مُحَمَّدٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - قِيلَ لِرَجُلٍ أَطَلَّقْت امْرَأَتَك ثَلَاثًا قَالَ نَعَمْ وَاحِدَةً قَالَ الْقِيَاسُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ وَلَكِنَّا نَسْتَحْسِنُ وَنَجْعَلُهَا وَاحِدَةً وَفِيهِ إذَا قَالَتْ الْمَرْأَةُ طَلِّقْنِي ثَلَاثًا فَقَالَ الزَّوْجُ قَدْ أَبَنْتُك فَهَذَا جَوَابٌ وَهِيَ ثَلَاثٌ كَذَا فِي الْمُحِيطِ.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি তাউহিদুল ইসলাম
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১