জাদুগ্রস্ত অবস্থায় তালাক ও নামাজের বিধান
প্রশ্নঃ ১৬১৯০৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর, আশা করি ভালো আছেন। আমার প্রশ্ন ছিল হলো, কালো জাদুর বসে যদি কেউ নামাজ/কুরআন তেলাওয়াত ছেড়ে দেয়, বা ভালো ভাবে করতে না পারে। ঝগড়া করে, অশান্তি করে , তালাক দেয় বা আত্মহত্যা করে তাহলে এটার দায় ভার কার থাকবে বা আত্মহত্যা কারী কি নির্দোষ হবে নাকি দোষি হবে ?
১৯ জুলাই, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যদি জাদুর প্রভাবে মানুষ এমনভাবে জ্ঞানশূন্য হয়ে যায় যে, তার কথা বা কাজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না এবং সুস্থ হওয়ার পর সে কিছুই মনে করতে পারে না, তাহলে সে অবস্থায় তার তালাক, অন্যান্য কথাবার্তা বা কার্যকলাপের শরয়ী হুকুম কার্যকর হবে না। এ অবস্থায় নামাজ, তিলাওয়াত ইত্যাদি আদায় করতে না পারলেও সে গুনাহগার হবে না।
যদি জাদুর কারণে ব্যক্তি সম্পূর্ণ জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়, ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে না পারে এবং এ অবস্থায় টানা ছয় ওয়াক্ত নামাজ অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে ওই নামাজগুলো মাফ; সুস্থ হওয়ার পর কাজাও ওয়াজিব নয়। তবে ছয় ওয়াক্তের কম হলে সুস্থ হওয়ার পর সেগুলোর কাজা আদায় করতে হবে।
তবে শর্ত হলো, স্বামীর শপথ করে বলতে হবে যে, সে জাদুর প্রভাবে ছিল এবং সে নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এবং তার এসব বিষয় মনেও নেই।
কিন্তু যদি জাদুর কারণে কষ্ট, অস্থিরতা বা মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, অথচ তার জ্ঞান ও বুঝশক্তি ঠিক থাকে এবং সে নিজ ইচ্ছায় বা কষ্টের তাড়নায় কোনো কাজ করে যেমন, তালাক দেয় বা নামাজ ইত্যাদি আদায় না করে, তাহলে সেই কাজের দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে। সে ক্ষেত্রে তালাকও সংঘটিত হবে এবং নিজের কাজের জন্য তাকেই জবাবদিহি করতে হবে। পাশাপাশি নামজ গুলোও কাজা করতে হবে।
আত্মহত্যার ক্ষেত্রেও একই বিধান। যদি সম্পূর্ণ জ্ঞানশূন্য অবস্থায় ঘটে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ্। কিন্তু জ্ঞান-বুদ্ধি ঠিক থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করলে তা কবীরা গুনাহ এবং এর দায়ভার তার নিজের ওপরই বর্তাবে।
(فتاوی شامی: 3/243، کتاب الطلاق، ط: سعید)
"قال في التلويح: الجنون اختلال القوة المميزة بين الأمور الحسنة والقبيحة المدركة للعواقب، بأن لا تظهر آثاره وتتعطل أفعالها، إما لنقصان جبل عليه دماغه في أصل الخلقة، وإما لخروج مزاج الدماغ عن الاعتدال بسبب خلط أو آفة، وإما لاستيلاء الشيطان عليه وإلقاء الخيالات الفاسدة إليه بحيث يفرح ويفزع من غير ما يصلح سببا. اهـ."
(وفیہ أیضاً: کتاب الطلاق، مطلب فی طلاق المدہوش ،244/3،ط: سعید)
"وسئل نظماً فيمن طلق زوجته ثلاثاً في مجلس القاضي وهو مغتاظ مدهوش، أجاب نظماً أيضاً بأن الدهش من أقسام الجنون فلا يقع، وإذا كان يعتاده بأن عرف منه الدهش مرةً يصدق بلا برهان. اهـ. قلت: وللحافظ ابن القيم الحنبلي رسالة في طلاق الغضبان قال فيها: إنه على ثلاثة أقسام: أحدها أن يحصل له مبادئ الغضب بحيث لايتغير عقله ويعلم ما يقول ويقصده، وهذا لا إشكال فيه. والثاني أن يبلغ النهاية فلا يعلم ما يقول ولا يريده، فهذا لا ريب أنه لا ينفذ شيء من أقواله ... فالذي ينبغي التعويل عليه في المدهوش ونحوه إناطة الحكم بغلبة الخلل في أقواله وأفعاله الخارجة عن عادته، وكذا يقال فيمن اختل عقله لكبر أو لمرض أو لمصيبة فاجأته: فما دام في حال غلبة الخلل في الأقوال والأفعال لا تعتبر أقواله وإن كان يعلمها ويريدها لأن هذه المعرفة والإرادة غير معتبرة لعدم حصولها عن الإدراك صحيح كما لا تعتبر من الصبي العاقل."
(وفیہ أیضاً: 2 / 100)
جعل في السراج المسألة على أربعة أوجه إن زاد المرض على يوم وليلة وهو لا يعقل فلا قضاء إجماعا وإلا وهو يعقل قضى إذا صح إجماعا، وإن زاد وهو يعقل أو لا وهو لا يعقل فعلى الخلاف.
(وفیہ أیضاً: 2 / 102)
(ومن جن أو أغمي عليه) ولو بفزع من سبع أو آدمي (يوما وليلة قضى الخمس وإن زاد وقت صلاة) سادسة (لا) للحرج.
(فتاوی ہندیہ: کتاب الصلاۃ، الباب الرابع عشر في صلاة المريض، ج: 1، صفحہ:137، ط: دار الفکر)
"و من أغمي عليه خمس صلوات قضى، و لو أكثر لايقضي، و الجنون كالإغماء و هو الصحيح، ثم الكثرة تعتبر من حيث الأوقات عند محمد -رحمه الله تعالى- وهو الأصح، هذا إذا دام الإغماء و لم يفق في المدة أما إذا كان يفيق ينظر فإن كان لإفاقته وقت معلوم مثل أن يخف عنه المرض عند الصبح مثلًا فيفيق قليلًا ثم يعاوده فيغمى عليه تعتبر هذه الإفاقة فيبطل ما قبلها من حكم الإغماء إذا كان أقل من يوم وليلة، وإن لم يكن لإفاقته وقت معلوم لكنه يفيق بغتةً فيتكلم بكلام الأصحاء، ثمّ يغمى عليه فلا عبرة بهذه الإفاقة، كذا في التبيين. ولو أغمي عليه بفزع من سبع أو آدمي أكثر من يوم وليلة يسقط عنه القضاء بالإجماع."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী তাওহীদুল ইসলাম
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১