সিনেমা না দেখে শুধু শুনলে কি গুনাহ হবে
প্রশ্নঃ ১৬৭৯৭৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি যখন ঘরের কাজ করি,তখন আমি বেশিরভাগ সময় ইউটিউবে হরর মুভির এক্সপ্লানেশন শুনি,যেহেতু আমার হরর মুভির প্রতি অনেক বেশি আকর্ষণ,আগে মুভি দেখতাম, তারপর এক্সপ্লানেশন দেখতাম,কিন্তু এখন শুধু শুনি ভিডিও দেখি না,মাঝেমাঝে অন্যান্য মুভিরও শুনি। তো এটা কি আমার জন্য জায়েজ হবে?
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকা ১২৩০
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ভিডিও না দেখে কেবল অডিও শুনলেও ইউটিউবে হরর মুভির এক্সপ্লানেশন শোনা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়; বরং এটি গুনাহের কাজ।
চোখের গুনাহ থেকে বাঁচলেও এই শোনার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা শরিয়তে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
ইউটিউবের প্রায় প্রতিটি হরর মুভির বর্ণনায় রোমাঞ্চ ও ভয় সৃষ্টির জন্য তীব্র, রহস্যময় ও ভীতিকর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার করা হয়।
ইসলামে বাদ্যযন্ত্র ও গান-বাজনা শোনা সম্পূর্ণ হারাম।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের মাঝে অবশ্যই এমন কিছু দলের আবির্ভাব ঘটবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (সহিহ বুখারি: ৫৫৯০)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/5189
অতএব, এক্সপ্লানেশনের সাথে আসা মিউজিক শোনা স্বতন্ত্র একটি কবিরা গুনাহ।
অনলাইনের তথ্য মতে হরর মুভিগুলোর প্রায় ৯০% প্লট দাঁড়িয়ে থাকে অনৈসলামিক ও কুফরি বিশ্বাসের ওপর। যেমন, মানুষ মারা যাওয়ার পর তার ‘ভূত’ বা ‘আত্মা’ ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং প্রতিশোধ নিচ্ছে। অথচ কুরআনের স্পষ্ট আকিদা হলো, মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা ‘আলমে বারযাখে’ আবদ্ধ হয়ে যায়, দুনিয়ায় ফিরে এসে এমন কিছু করার ক্ষমতা কারও নেই (সূরা আল-মুমিনুন: ৯৯-১০০)
মুভিতে দেখানো হয় শয়তান বা ভূত মানুষের ওপর যখন ইচ্ছা আক্রমণ করছে এবং মানুষ ক্রুশ বা কোনো তান্ত্রিক মন্ত্র দিয়ে তা তাড়াচ্ছে। এ ধরনের শিরকি ও কুফরি ভাবনা শুনতে শুনতে মানুষের অবচেতন মনে শয়তানের অসীম ক্ষমতার ভয় ঢুকে যায়, যা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলকে ধ্বংস করে।
ইসলাম এমন সব কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বিষয় নিয়ে মেতে থাকাকে নিষিদ্ধ করেছে যার কোনো দুনিয়াবি বা আখেরাতের ফায়দা নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সফল মুমিনের গুণ হিসেবে বলেছেন:
«وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ»
এবং যারা অনর্থক ও অর্থহীন বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। (সূরা আল-মুমিনুন: ৩)
ভয়ংকর কাল্পনিক গল্পের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ মনের ভেতর অপ্রয়োজনীয় অস্থিরতা তৈরি করে, নামাজ ও ইবাদত থেকে স্বাদ কেড়ে নেয় এবং অন্তরকে কঠিন করে ফেলে।
যেহেতু আপনি ভিডিও দেখা ছেড়ে দিয়েছেন, তাই এই বাকি অংশটুকুও আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দিন। ঘরের কাজের সময় নবীদের জীবনী, সিরাত সিরিজ বা তাফসির শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন; এতে মানসিক বিনোদনও হবে, অশেষ সওয়াবও অর্জিত হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১