চাঁদা বকেয়া রাখার কারণে আর্থিক দায় সাব্যস্ত করার শরয়ি বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৮১৮৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সন্মানিত মুফতি সাহেব! আমাদের সংগঠনে সদস্যদের থেকে মাসিক কিছু চাঁদা তুলে, সেটা দিয়ে আমরা অন্যদের পন্য কিনে দিয়ে সেখান থেকে নির্দিষ্ট কিছু লাভ করে থাকি৷ কিন্তহ কখনো কখনো সদস্যরা মাসিক চাঁদা দিতে বিলম্ব করে৷ তাই সদস্যদের প্রতি চাপ প্রয়োগ ও প্রতি মাসের চাঁদা প্রতি মাসে উত্তোলনের জন্য জরিমানা করা জায়েজ কি না? অথবা নিম্নে লিখিত সুরত গুলোর মধ্যে কোন একটা কার্যকর করার আলোচনা চলছে। এখন জানার বিষয় হলো কোন সুরত জায়েজ, আর কোন সুরত জায়েজ না এবং কেন? দলিল সহ বিস্তারিত জানতে চাই৷ ১ম সুরত - আমাদের সংগঠনে প্রতি ছয় মাস পর পর সেই ছয় মাসের সম্পূর্ণ লাভ লসের হিসাব করা হয় তো ওই হিসাবের আগে যেই সদস্য যে কয়েক মাসের চাঁদা বাকি রাখবে, সেই কয়েক মাসের লভ্যাংস থেকে বঞ্চিত হবে, কারন তার ঐ বাকি চাঁদা গুলো থেকে আমাদের প্রফিট আসেনাই৷ যদি ঐ সদস্য প্রতি মাসে বকেয়া না রেখে চাঁদা দিতেন, তাহলে সেই টাকা গুলো আমরা অন্যজনকে পন্য কিনে দেওয়ার মাধ্যমে তো লভ্যাংশ অর্জন করতে পারতাম। যেহেতু তার বকেয়া চাঁদা থেকে কোন লাভ করা যায়নি, সুতরাং সে ঐ কয়েক মাসের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হবে৷ ২য় সুরত - আমাদের সংগঠনে স্বতন্ত্র সদকা ফান্ড আছে যেখানে আমরা সদকা দিয়ে থাকি, এবং বহিরাগতদের সদকা গ্রহন করে থাকি এবং সেই অর্থ অসহায়দের মাঝে বিতরন করে থাকি৷ এখন যদি আমাদের কোন কোন সদস্য মাসিক চাঁদা দিতে বিলম্ব করে, সেক্ষেত্রে সংগঠন কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম করবে যে, তিনি যেই কয়েক মাসের চাঁদা বাকি রাখবেন, প্রতি মাসের জন্য তাঁকে আমাদের সদকা ফান্ডে ২০/৫০ টাকা সদকা দিতে হবে এটা বাধ্যতামূলক৷ সেই সদকা শুধুমাত্র অসহায়দের জন্যই খরচ হবে৷ ৩য় সুরত - যদি কোন সদস্য মাসিক চাঁদা বাকি রাখে৷ তাহলে তার প্রতি মাসের বকেয়ার জন্য অতিরিক্ত ৫০/১০০ টাকা করে জরিমানা বাধ্যতামূলক করা হবে, আর এই জরিমানার টাকা গুলো তার ঐ বকেয়া মাসের টাকা গুলোর প্রফিট ধরা হবে, এবং এই জরিমানার টাকা অন্যান্য লভ্যাংশের মত সকল সদস্যদের মাঝে বন্টন করা হবে৷ কারন সে যদি সঠিক সময়ে বকেয়াগুলো আদায় করতো, তাহলে সেটা দিয়ে কাউকে পন্য কিনে দেওয়ার মাধ্যমে তো প্রফিট অর্জন করতে পারতাম৷
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সদস্যদের নির্ধারিত সময়ে মাসিক চাঁদা আদায় করা জরুরি। তবে চাঁদা পরিশোধে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত টাকা জরিমানা হিসেবে গ্রহণ করা মূলত জায়েয নয়। তাই বকেয়া প্রতি মাসে ৫০/১০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করে তা সংগঠনের লাভ বা সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে না।
তবে কোনো সদস্য যে পরিমাণ চাঁদা যে সময় পর্যন্ত পরিশোধ করেনি, ঐ সময় তার ঐ টাকা সংগঠনের ব্যবসায় খাটেনি। তাই বকেয়া টাকার বিলম্বিত সময়ের লভ্যাংশ তাকে না দেওয়ার নিয়ম করা জায়েয হবে। তবে তার যথাসময়ে জমা দেওয়া অন্যান্য মূলধনের লভ্যাংশ থেকে তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।
সুতরাং-
১ম সুরত: জায়েয। সদস্যের যে পরিমাণ টাকা বকেয়া রয়েছে, তা যে সময় পর্যন্ত সংগঠনের ব্যবসায় খাটেনি, সে সময়ের বিপরীতে তাকে কোনো লভ্যাংশ দেওয়া হবে না। এটি বিলম্বের কারণে আরোপিত কোনো জরিমানা নয়; বরং যে মূলধন ব্যবসায় বিনিয়োগই হয়নি, তার বিপরীতে লাভ না পাওয়াই স্বাভাবিক শরয়ি বিধান। তবে যথাসময়ে পরিশোধ করা তার অন্যান্য টাকার লভ্যাংশ থেকে তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।
২য় সুরত: বিলম্বের কারণে সংগঠন কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে ২০/৫০ টাকা সদকা ধার্য করা জায়েয নয়। তবে কোনো সদস্য যদি আগেই স্বেচ্ছায় অঙ্গীকার করেন যে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দিলে নির্দিষ্ট অর্থ সদকা করবেন এবং সেই অর্থ সংগঠনের আয় বা সদস্যদের মধ্যে বণ্টন না করে কেবল অসহায়দের জন্য ব্যয় করা হবে- তাহলে এ বিষয়ে সমসাময়িক ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ তা শর্তসাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য বলেছেন, আবার কেউ তা قضائً বাধ্যতামূলক মনে করেননি। সুতরাং এ পদ্ধতিকে সর্বসম্মতভাবে জায়েয বলা যাবে না; মতভেদ থেকে বাঁচতে প্রথম সুরত অবলম্বন করাই অধিক নিরাপদ।
৩য় সুরত: জায়েয নয়। বিলম্বের কারণে ৫০/১০০ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে তা বকেয়া টাকার ‘প্রফিট’ হিসেবে গণ্য করে সকল সদস্যের মধ্যে বণ্টন করা বৈধ হবে না। কারণ নাম ‘প্রফিট’ হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বিলম্বের কারণে ধার্যকৃত জরিমানা।
অতএব, আপনাদের জন্য ১ম সুরত গ্রহণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি সদস্যদের সময়মতো চাঁদা আদায়ে বাধ্য করার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক কিস্তি বকেয়া হলে সদস্যপদ বাতিল করার নিয়ম করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তার মূলধন ও প্রাপ্য লভ্যাংশের শরয়ি হিসাব করে তার পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
المستندات الشرعية
** بحوث في قضايا فقهية معاصرة : 1/44
والحل الحقيقي لهذه المشكلة ما قدَّمناه في أول كلامنا في هذا الموضوع، ولكن ذلك إنَّما يفيد إذا أصبحت المصارف كلها تعمل على أسس شرعية، أما في الظروف الحاضرة التي لا توجد فيها المصارف الإسلامية إلا بعدد قليل بالنسبة إلى المصارف الربوية التقليدية التي هي مبثوثة في أنحاء العالم كله، فيمكن أن تلجأ المصارف الإسلامية إلى حل مؤقت آخر، وهو أن يلتزم المديون عند توقيعه على اتفاقية المرابحة أو الإجارة بأنه إن قصر في أداء واجبه المالي، فإنه سوف يتبرع بمبلغ معلوم النسبة من الدين إلى بعض الجهات الخيرية ، ويسلم ذلك المبلغ إلى المصرف ليصرف بالنيابة عنه إلى تلك الجهات؛ فإن قصر المديون في الأداء لزمه أداء هذا المبلغ إلى المصرف، ولكن هذه المبالغ لا تكون مملوكة للمصرف، ولا تكون جزءاً من دَخْلِه أو رِبْحه، وإنما تكون أمانة عنده للصرف إلى الجهات الخيرية
** «مجلة مجمع الفقه الإسلامي» (5/ 1125 بترقيم الشاملة آليا):
«وأما إذا التزم أنه إن لم يوفه حقه في وقت كذا، فعليه كذا وكذا لفلان، أو صدقة للمساكين، فهذا هو محل الخلاف، والمشهور أنه لا يقضى به، وقال ابن دينار: يقضى به، فلو أخذنا بقول ابن دينار لأن مقصود البنك من فرض التعويض هو الضغط على العميل بأن يوفي الثمن في وقته المحدد ويمكن هذا الضغط بهذا الطريق.»
** «الفتاوى العالمكيرية = الفتاوى الهندية» (2/ 167):
«وعند أبي يوسف - رحمه الله تعالى - يجوز التعزير للسلطان بأخذ المال وعندهما وباقي الأئمة الثلاثة لا يجوز كذا في فتح القدير. ومعنى التعزير بأخذ المال على القول به إمساك شيء من ماله عنده مدة لينزجر ثم يعيده الحاكم إليه لا أن يأخذه الحاكم لنفسه أو لبيت المال كما يتوهمه الظلمة إذ لا يجوز لأحد من المسلمين أخذ مال أحد بغير سبب شرعي كذا في البحر الرائق.»
** «حاشية ابن عابدين = رد المحتار» (4/ 61-62)
«وأفاد في البزازية أن معنى التعزير بأخذ المال على القول به إمساك شيء من ماله عنه مدة لينزجر ثم يعيده الحاكم إليه، لا أن يأخذه الحاكم لنفسه أو لبيت المال كما يتوهمه الظلمة إذ لا يجوز لأحد من المسلمين أخذ مال أحد بغير سبب شرعي.
... والحاصل أن المذهب عدم التعزير بأخذ المال،»
** فقهى مقالات : 1/129-130
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন