জিনের সাথে সহবাস করলে গোসল ফরজ হবে
প্রশ্নঃ ১৬৮৮৯৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, জিন ও মানুষের সহবাসের কারণে কি গোসল ফরজ হয়? অনেক সময় দেখা যায়, সহবাসের আলামত পাওয়া যায় না, বা বুঝাও অনেক কষ্টকর হয়। এ ক্ষেত্রে নামায ও রোযার জন্য করণীয় কি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সহবাসের কোনো স্পষ্ট শারীরিক আলামত (যেমন: কাপড়ে বা শরীরে বীর্যের চিহ্ন বা ভেজা ভাব) পাওয়া না গেলে—কেবল অনুভূতি, স্বপ্ন, দ্বিধা বা ভয়ের কারণে কোনো অবস্থাতেই গোসল ফরজ হবে না।
ফিকাহ শাস্ত্রের বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও ৩টি অবস্থা
ক. জাগ্রত অবস্থায় অদৃশ্য জিনের সহবাসের অনুভূতি হওয়া:
অনেক সময় জিনগ্রস্ত রোগী জাগ্রত বা অবচেতন অবস্থায় বিছানায় এমন চাপ বা স্পর্শের অনুভূতি পান যেন কেউ তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করছে, কিন্তু কোনো বাস্তব আলামত পাওয়া যায় না।
কেবল মনের অনুভূতি, শরীরের অসাড়তা বা ধারণার কারণে গোসল ফরজ হয় না।
দলিল: ফিকহে হানাফীর সুবিখ্যাত গ্রন্থ, রদ্দুল মুহতার [ফতোয়ায়ে শামী] (১/১৬১)-এ সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে:
«امْرَأَةٌ قَالَتْ: مَعِي جِنِّيٌّ يَأْتِينِي فِي النَّوْمِ مِرَارًا وَأَجِدُ فِي نَفْسِي مَا أَجِدُ لَوْ جَامَعَنِي زَوْجِي، لَا غُسْلَ عَلَيْهَا مَا لَمْ تُنْزِلْ»
অর্থ: কোনো নারী যদি এসে বলে যে, কোনো জিন তার কাছে এসে মিলন করে এবং সে তার স্বামীর সহবাসের মতো অনুভূতি অনুভব করে—তবুও তার ওপর কোনো গোসল ফরজ হবে না, যতক্ষণ না তার বাস্তব বীর্যপাত ঘটে।
যেহেতু অদৃশ্য জিনের কোনো জড় শরীর বা মানুষের মতো শারীরিক অঙ্গপ্রবেশ নিশ্চিতভাবে দেখা বা প্রমাণিত হয় না, তাই বীর্যপাত ছাড়া কেবল অনুভূতির ভিত্তিতে গোসল আবশ্যক হবে না।
খ. ঘুমের মধ্যে মিলনের স্বপ্ন দেখা:
যদি কেউ ঘুমের মধ্যে জিনের সাথে মিলনের স্বপ্ন দেখে বা জেগে ওঠার পর এমন সন্দেহ হয়, সেক্ষেত্রে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর যদি কাপড়ে বা শরীরে বীর্যের (বা যোনিপথের নির্গত পানির) স্পষ্ট আলামত বা ভেজা দাগ দেখা যায়, তবেই গোসল ফরজ হবে।
উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সুলাইম (রা.) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন: নারীর কি স্বপ্নদোষে গোসল ফরজ? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,
«نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ»
হ্যাঁ, যদি সে (কাপড়ে বা শরীরে) পানি/বীর্যের আলামত দেখতে পায়। (সহিহ বুখারি: ১৩০; সহিহ মুসলিম: ৩১৩)
যদি কোনো আলামত বা ভেজা ভাব না পাওয়া যায়, তবে কোনো গোসল করতে হবে না।
গ. জিন মানুষের বাস্তব রূপ ধারণ করে সরাসরি মিলন ঘটালে:
জিন যদি কখনো মানুষের রূপ ধারণ করে সশরীরে আসে এবং সাধারণ মানুষের মতোই যৌনাঙ্গ প্রবেশ করায়, কেবল তখনই বীর্যপাত না হলেও গোসল ফরজ হবে (যা অত্যন্ত বিরল ঘটনা)।
নামাজ ও রোজা
স্বাভাবিক অবস্থায় নামাজ রোজা ঠিকভাবে করতে হবে।
এটিকে শয়তানি ওয়াসওয়াসা বা মানসিক ভ্রান্তি মনে করে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করবেন এবং মাসনূন জিকির ও আয়াতুল কুরসী পাঠের অভ্যাস বজায় রাখবেন।
لمافی الهندیة:(۱/۱۵): لوقالت امرأة معی جنی یأتینی وأجد فی نفسی ماأجد إذاجامعنی زوجی لاغسل علیها۔
وفی الدر المختار(۱/۱۶۱): احتراز عن الجنی یعنی إذا لم تنزل و إذا لم یظهر لها فی صورة الآدمی۔
وفی الشامیةتحته : ففی المحیط لوقالت معی جنی یأتینی مرارا وأجد ماأجد إذا جا معنی زوجی لاغسل علیها لانعدام سببه وهو الإیلاج أوالاحتلام… أما إذا ظهر فی صورة آدمی وکذ ا إذا ظهر للرجل جنیة فی صورة آدمیة فو طئها وجب الغسل لوجود المجانسة الصوریة ۔(نجم الفتاوی ج۲/۸۹-۹۰)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন