রিসেলিংয়ের ব্যবসার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭১৪১৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, অন্যের প্রডাক্ট সেল করে প্রফিট নেওয়া কি জায়েজ হবে? আমি শপবেইস বিডির একজন রিসেলার।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
ShopBase BD-তে কিভাবে রিসেলিং করা হয় সেটা আমাদের জানা নাই। তাই সুনির্দিষ্ট উত্তর পেতে হলে, তাদের ব্যবসা পলিসি জানাতে হবে।
আমরা আপনাকে রিসেলিংয়ের মৌলিক বিধান জানিয়ে দিচ্ছি। আপনি আপনার পদ্ধতিতে এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজেন কোনো বিজ্ঞ আলিমকে আপনার ব্যবসা পদ্ধতি এবং আমাদের দেওয়া পদ্ধতি দেখিয়ে সমাধান নিন।
রিসেলিংয়ের দুইটি পদ্ধতি:
১ম পদ্ধতি: প্রথম সংস্থা বা কোম্পানি থেকে কোনো পণ্য রিসেলার ব্যক্তি ক্রয় করে নিজের দখলে আনার আগেই তা অন্যের কাছে বিক্রয় করে দেওয়া। (সহজ কথায়—নিজের কাছে নেই এমন পণ্য বিক্রি করা বা কোনো জিনিষ কেনার আগেই বিক্রি করে দেওয়া)
বিধান: এই পদ্ধতির বিধান হলো, এটা জায়েজ নেই। কেননা এর হাকিকত (কার্যত রূপ) হলো, ‘নিজেদের মালিকানায় নেই’ এমন পণ্যের বিক্রি করা। এব্যাপারে হাদীস শরীফে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। https://muslimbangla.com/hadith/24143
কেননা এতে ধোঁকা ও প্রতারণার সম্ভাবনা থাকে। বিক্রেতা পরবর্তীতে পণ্য পাবে কি না বা পেলেও পণ্যের যে গুণাবলির কথা উল্লেখ ছিল, সে ধরনের পণ্য ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে পারবে কি না- এসবের নিশ্চয়তা কম থাকে। তাই অনলাইনে হোক বা অফলাইনে, পণ্য বিক্রি করতে চাইলে আগে পণ্য ক্রয় করে নিজের হস্তগত হওয়ার পরই তা অন্যের কাছে বিক্রি করবে। তার আগে বিক্রি করা জায়েজ হবে না। কাজেই বুঝা গেল রিসেলিংয়ের এই পদ্ধতি বৈধ নয়।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে কোনো পণ্য কেনার জন্য উৎসাহিত করা হয় এবং তাকে প্রস্তুত করা হয় এবং সেখানে প্রথম ক্রেতার অনুমতিক্রমে/অবগতি সাপেক্ষে কমিশন গ্রহন করা হয়।
বিধান: নিম্নোল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে এই পদ্ধতির ক্রয় বিক্রয় বৈধ হবে।
১. যে পণ্য বা সেবার প্রচার করা হচ্ছে, তা অবশ্যই ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ এবং হালাল হতে হবে।
২. ক্রেতাকে যে ধরনের কেনাকাটা বা চুক্তির দিকে আহ্বান করা হচ্ছে, তার মধ্যে সুদের মতো কোনো অবৈধ বা নাজায়েজ উপাদান থাকা চলবে না।
৩. পণ্যের গুণাগুণ ও কার্যকারিতা প্রকাশে কোনো ধরনের মিথ্যা, প্রতারণা বা অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলা (অতিরঞ্জন) থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. পণ্যের গুণগত মান এবং এর দাম বাজারের সাধারণ মানদণ্ড ও প্রচলিত মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক।
৫. ক্রেতা আকর্ষণের জন্য কোনো অনৈসলামিক বা নিষিদ্ধ মাধ্যম—যেমন গান-বাজনা কিংবা জীবজন্তুর ছবি সংবলিত ভিডিও, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না।
৬. কমিশন এজেন্ট কেবল মৌখিক প্রচারণাই করবেন না, বরং কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তি সম্পাদন বা অন্য কোনো বাস্তব ও কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে মূল লেনদেনে সরাসরি যুক্ত থাকবেন।
৭. কাজের বিনিময়ে যে কমিশন দেওয়া হবে, তা উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আগে থেকেই সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকতে হবে।
অনলাইনে কেনাকাটায় ক্রেতাগণ সাধারণত পণ্য অর্ডার করার সময়ই অবগত থাকে যে, অনেক অনলাইন বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য মজুদ থাকে না; বরং অর্ডার পাওয়ার পর সে অন্যের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ডেলিভারি দেয়। তাই এক্ষেত্রে ক্রেতার অর্ডারটিকে ক্রয় না ধরে সরবরাহের আদেশ হিসাবে গণ্য করা যায়। এ হিসাবে তা নাজায়েয হবে না। এক্ষেত্রে পণ্য ডেলিভারির পর ক্রেতা এর মূল্য প্রদান করে তা বুঝে পাওয়ার মাধ্যমেই বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (6 / 63): مَطْلَبٌ فِي أُجْرَةِ الدَّلَّالِ: ... وَفِي الْحَاوِي: سُئِلَ مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أُجْرَةِ السِّمْسَارِ، فَقَالَ: أَرْجُو أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ وَإِنْ كَانَ فِي الْأَصْلِ فَاسِدًا لِكَثْرَةِ التَّعَامُلِ، وَكَثِيرٌ مِنْ هَذَا غَيْرُ جَائِزٍ، فَجَوَّزُوهُ لِحَاجَةِ النَّاسِ إِلَيْهِ
জামিয়া বিন্নুরী টাউন, করাচি, পাকিস্তান। https://www.banuri.edu.pk/readquestion/144108201303/14-04-2020
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন