ইসলামী রাষ্ট্রে নেতৃত্ব কাদের হাতে থাকবে?
প্রশ্নঃ ১৬৯০০২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ,নিশ্চয়ই ইসলামি শরীয়াহর আলোকে রাষ্ট্রে আমি শাসিত হতে চাই,এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব দিবে কারা?ধর্মীয়ভাবে আমাদের আকিদাগত দ্বন্দ,আবার কওমী অঙ্গনের তাবলীগে বিভাজন,মাদ্রাসাছাত্রদের প্রথাগত শিক্ষার বাইরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতার কোন ব্যবস্থা করতে পারছি না
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নেতৃত্ব কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী, মাদরাসা বা ব্যক্তির বংশগত অধিকার নয়। বরং নেতৃত্বের জন্য এমন ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে, যিনি দ্বীনের জ্ঞান, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সামর্থ্যে অন্যদের তুলনায় অধিক উপযুক্ত।
এ জন্য আমাদের বর্তমান বাস্তবতায় প্রথমে প্রয়োজন হলো, যোগ্য ও বিশ্বস্ত আলেম, চিন্তাশীল ব্যক্তি, অভিজ্ঞ প্রশাসক, অর্থনীতিবিদ, সমাজের দায়িত্বশীল ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদের কাঠামো গড়ে তোলা। তারা পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে নেতৃত্বের জন্য নির্বাচন করবেন। অর্থাৎ নেতৃত্ব কেবল আলেমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন নয়; তবে নেতৃত্বের মূলনীতি ও শরীয়াহর বিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান, ন্যায়পরায়ণতা ও দ্বীনদারি অবশ্যই থাকতে হবে।
আমাদের বর্তমান সমাজের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে আকিদাগত মতভেদ, কওমী অঙ্গনে তাবলীগের বিভাজন, বিভিন্ন দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক দূরত্ব এবং মাদরাসার ছাত্র-আলেমদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা। এসব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহনশীলতা, ইলমি সংলাপ, মৌলিক বিষয়ে ঐক্য এবং যোগ্যতা তৈরির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
বিশেষভাবে মাদরাসার ছাত্র ও আলেমদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি ভাষা, আরবি ও উর্দু ভাষার দক্ষতা, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েবসাইট পরিচালনা, অনলাইন কনটেন্ট তৈরি ও সম্পাদনা, অনুবাদ, প্রুফরিডিং, লেখালেখি, প্রকাশনা, হিসাবরক্ষণ, ডাটা ব্যবস্থাপনা, অনলাইন শিক্ষা, গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা হওয়ার মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যেতে পারে। কেউ শিক্ষকতা ও গবেষণায় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, কেউ অনুবাদ ও লেখালেখিতে, কেউ প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারে, কেউ প্রকাশনা ও মিডিয়ায়, আবার কেউ হালাল ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন। এর উদ্দেশ্য দ্বীনি পরিচয় ও ইলম থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়; বরং দ্বীনি ইলমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি দক্ষতার সমন্বয় করে আলেমসমাজকে সম্মানজনক ও হালাল জীবিকার ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী করে তোলা। এতে তারা মানুষের কাছে হাত পাতার প্রয়োজন থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকবেন এবং দ্বীনি খেদমতও অধিক স্বাধীনতা ও স্থিরতার সঙ্গে করতে পারবেন। একই সঙ্গে মাদরাসাগুলোতে কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, স্বল্প পুঁজিতে হালাল উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ এবং আলেমদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে।
এভাবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু একজন শাসক তৈরি করা নয়; বরং এমন একটি যোগ্য সমাজ তৈরি করা, যেখানে আলেমরা দ্বীনের নেতৃত্ব দেবেন, বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা দিয়ে সহযোগিতা করবেন, অর্থনীতিবিদরা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দেবেন, প্রশাসকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন এবং সবাই শরীয়াহর মূলনীতি ও সামগ্রিক কল্যাণের অধীনে পরস্পরের সহযোগী হবেন। তখন নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তি বা দলের ক্ষমতা দখলের বিষয় না হয়ে একটি আমানত ও দায়িত্বে পরিণত হবে।
সুতরাং বর্তমান অবস্থায় আমাদের করণীয় হলো—মতভেদকে কেন্দ্র করে পরস্পরকে অযোগ্য বা বাতিল সাব্যস্ত না করে মৌলিক আকিদা ও শরীয়াহর বিষয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা, যোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদের একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পেশাগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা, আলেমসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যোগ্য, আমানতদার ও দূরদর্শী নেতৃত্ব তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ যোগ্য নেতৃত্ব হঠাৎ তৈরি হয় না; এর জন্য আগে যোগ্য মানুষ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সুস্থ অর্থনীতি এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হয়।
শরঈ দলীল:
ইমাম মাওয়ার্দী রহ. লিখেছেন:
وَالإِمَامَةُ تَنْعَقِدُ مِنْ وَجْهَيْنِ: أَحَدُهُمَا بِاخْتِيَارِ أَهْلِ الْعَقْدِ وَالْحَلِّ، وَالثَّانِي بِعَهْدِ الإِمَامِ مِنْ قَبْلُ
“ইমামত দুইভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমত, আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদের নির্বাচনের মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী ইমামের মনোনয়নের মাধ্যমে।”
সূত্র: আল-মাওয়ার্দী রহ., আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, বাবুল আওয়াল: ফি আকদিল ইমামাহ, পৃষ্ঠা ৭।
আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন:
فَإِذَا اجْتَمَعَ أَهْلُ الْعَقْدِ وَالْحَلِّ لِلِاخْتِيَارِ تَصَفَّحُوا أَحْوَالَ أَهْلِ الْإِمَامَةِ، فَقَدَّمُوا لِلْبَيْعَةِ مِنْهُمْ أَكْثَرَهُمْ فَضْلًا وَأَكْمَلَهُمْ شُرُوطًا
“আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ যখন নির্বাচনের জন্য একত্রিত হবেন, তখন তারা ইমাম হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের অবস্থা যাচাই করবেন এবং তাদের মধ্য থেকে যিনি অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ও শর্তাবলির দিক থেকে অধিক পূর্ণাঙ্গ, তাকে বাইআতের জন্য অগ্রাধিকার দেবেন।”
সূত্র: আল-মাওয়ার্দী রহ., আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, বাবুল আওয়াল: ফি আকদিল ইমামাহ, পৃষ্ঠা ৮।
ইমাম হওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে ইমাম মাওয়ার্দী রহ. বলেন:
أَحَدُهَا: الْعَدَالَةُ عَلَى شُرُوطِهَا الْجَامِعَةِ، وَالثَّانِي: الْعِلْمُ الْمُؤَدِّي إِلَى الِاجْتِهَادِ فِي النَّوَازِلِ وَالْأَحْكَامِ
“প্রথম শর্ত হলো—শরীয়তের নির্ধারিত শর্তসমূহসহ ন্যায়পরায়ণতা। দ্বিতীয় শর্ত হলো—এমন ইলম, যা নতুন উদ্ভূত বিষয় ও শরীয়তের বিধান সম্পর্কে ইজতিহাদ করার যোগ্যতা সৃষ্টি করে।”
সূত্র: আল-মাওয়ার্দী রহ., আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, বাবুল আওয়াল: ফি আকদিল ইমামাহ, ফাসলুশ শুরূতুল মু‘তাবারাহ ফি আহলিল ইমামাহ, পৃষ্ঠা ৭।
আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদের যোগ্যতা সম্পর্কেও ইমাম মাওয়ার্দী রহ. তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছেন:
أَحَدُهَا الْعَدَالَةُ الْجَامِعَةُ لِشُرُوطِهَا، وَالثَّانِي الْعِلْمُ الَّذِي يُتَوَصَّلُ بِهِ إِلَى مَعْرِفَةِ مَنْ يَسْتَحِقُّ الْإِمَامَةَ عَلَى الشُّرُوطِ الْمُعْتَبَرَةِ فِيهَا، وَالثَّالِثُ الرَّأْيُ وَالْحِكْمَةُ الْمُؤَدِّيَانِ إِلَى اخْتِيَارِ مَنْ هُوَ لِلْإِمَامَةِ أَصْلَحُ وَبِتَدْبِيرِ الْمَصَالِحِ أَقْوَمُ وَأَعْرَفُ
“প্রথমত, পূর্ণাঙ্গ ন্যায়পরায়ণতা। দ্বিতীয়ত, এমন জ্ঞান যার মাধ্যমে ইমাম হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়। তৃতীয়ত, এমন প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা, যার মাধ্যমে ইমামতের জন্য অধিক উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন করা এবং জনসাধারণের কল্যাণ পরিচালনায় অধিক যোগ্য ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়।”
সূত্র: আল-মাওয়ার্দী রহ., আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, বাবুল আওয়াল, ফাসলু ইজতামা‘আ আহলুল আকদি ওয়াল হাল লিতাসাফফাহু আহওয়াল আহলিল ইমামাহ। ([Islam Web][4])
আর রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সম্পর্কে ইমাম মাওয়ার্দী রহ. সর্বপ্রথম উল্লেখ করেছেন:
أَحَدُهَا حِفْظُ الدِّينِ عَلَى أُصُولِهِ الْمُسْتَقِرَّةِ وَمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ سَلَفُ الْأُمَّةِ
“প্রথম দায়িত্ব হলো, প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহ এবং উম্মতের সালাফের ইজমাকৃত বিষয়গুলোর ওপর দ্বীনকে সংরক্ষণ করা।”
সূত্র: আল-মাওয়ার্দী রহ., আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, বাবুল আওয়াল, ফিমা ইয়া’লামুহু মিনাল উমূম, পৃষ্ঠা ১৯।
অতএব ইসলামী শাসনব্যবস্থার আলোচনায় শুধু ‘কে শাসক হবে’—এই প্রশ্ন যথেষ্ট নয়; বরং তার আগে ‘কারা যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবে’, ‘যোগ্য নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য কী হবে’, ‘সমাজ কীভাবে সেই যোগ্যতা তৈরি করবে’ এবং ‘আলেম ও সাধারণ শিক্ষিত শ্রেণি কীভাবে পরস্পরের সহযোগী হবে’—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি। ইসলামী নেতৃত্ব মূলত একটি আমানত; তাই ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা দলীয় আধিপত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, আমানতদারি, শরীয়াহর জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ ۚ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا
[النساء: ٥٨]
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ ۖ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
[النساء: ٥٩]
وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ
[الشورى: ٣٨]
وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
[آل عمران: ١٥٩]
وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَاصْبِرُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
[الأنفال: ٤٦]
وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
[المائدة: ٨]
إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
[القصص: ٢٦]
قَالَ اجْعَلْنِي عَلَىٰ خَزَائِنِ الْأَرْضِ ۖ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ
[يوسف: ٥٥]
قَالَ رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
[إبراهيم: ٤٠]
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
[طه: ٢٥–٢٨]
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
«إِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ». قِيلَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا؟ قَالَ: «إِذَا وُسِّدَ الْأَمْرُ إِلَىٰ غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ».
رواه البخاري، رقم: ٥٩.
وقال صلى الله عليه وسلم:
«كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ».
رواه البخاري، رقم: ٨٩٣، ومسلم، رقم: ١٨٢٩.
وقال صلى الله عليه وسلم:
«إِنَّ الْمُقْسِطِينَ عِنْدَ اللَّهِ عَلَىٰ مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ، وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ، الَّذِينَ يَعْدِلُونَ فِي حُكْمِهِمْ وَأَهْلِيهِمْ وَمَا وَلُوا».
رواه مسلم، رقم: ١٨٢٧.
وقال صلى الله عليه وسلم:
«مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللَّهُ رَعِيَّةً، يَمُوتُ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ، إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ».
رواه البخاري، رقم: ٧١٥০، ومسلم، رقم: ١٤٢.
وقال صلى الله عليه وسلم:
«إِنَّ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَقْرَبَهُمْ مِنْهُ مَجْلِسًا إِمَامٌ عَادِلٌ، وَإِنَّ أَبْغَضَ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ وَأَبْعَدَهُمْ مِنْهُ مَجْلِسًا إِمَامٌ جَائِرٌ».
رواه الترمذي، رقم: ١٣٢٩.
وقال صلى الله عليه وسلم:
«إِذَا كَانَ ثَلَاثَةٌ فِي سَفَرٍ، فَلْيُؤَمِّرُوا أَحَدَهُمْ».
رواه أبو داود، رقم: ٢٦٠٨.
وقال صلى الله عليه وسلم:
«مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ شَيْئًا فَاحْتَجَبَ دُونَ حَاجَتِهِمْ وَخَلَّتِهِمْ وَفَقْرِهِمْ، احْتَجَبَ اللَّهُ دُونَ حَاجَتِهِ وَخَلَّتِهِ وَفَقْرِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ».
رواه أبو داود، رقم: ٢٩٤٨، والترمذي، رقم: ١٣٣٢.
وقال صلى الله عليه وسلم:
«مَنْ أَمَّرَ عَلَىٰ قَوْمٍ رَجُلًا وَفِيهِمْ مَنْ هُوَ أَرْضَىٰ لِلَّهِ مِنْهُ، فَقَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ».
رواه أحمد، رقم: ١٢١٧٨.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন