যিনা-পরবর্তী বিয়ে ও সন্তানের বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৯৫৯৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, প্রশ্ন: একজন মুসলিম যুবক ও যুবতী বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক করার পর তাওবা ছারা বা সহ বিয়ে করলে, তা বৈধ হবে কি? বিয়ের আগের সম্পর্কের কারণে গর্ভে আসা সন্তান যদি বিয়ের পর জন্ম নেয়, তবে শরিয়ত মতে মিরাস ও ধর্মীয় হুকুম কী হবে? বিস্তারিত জানাবেন।
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নওগাঁ
৭৭ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক করা জঘন্যতম কবিরা গুনাহ। এর জন্য উভয়ের ওপর আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত হয়ে খাঁটি দিলে তওবা করা আবশ্যক।
যে যুবক ও যুবতী পরস্পরে এই পাপে লিপ্ত হয়েছে, পরবর্তীতে যদি তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবে তাদের এই বিবাহ বৈধ হবে।
সন্তানের পিতৃপরিচয় সাব্যস্ত হওয়ার শরয়ী মাপকাঠি
বিয়ের পর ছয় মাসের কম সময়ে সন্তান প্রসব হলে, ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী হওয়ার পর ওই নারীকে বিয়ে করার পর যদি বিয়ের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই সন্তানের জন্ম হয়, তবে ওই সন্তানের বংশধারা স্বামীর থেকে প্রমাণিত হবে না এবং শিশুটিকে শরিয়তের পরিভাষায় জেনার সন্তান হিসেবে গণ্য করা হবে।
পক্ষান্তরে, বিয়ের পর যদি ছয় মাস বা তার বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ওই গর্ভ থেকে সন্তানের জন্ম হয়, তবে সেই সন্তান বৈধ বংশধর হিসেবে প্রমাণিত হবে।
তবে যদি ওই পুরুষ ব্যভিচারের কথা প্রকাশ না করে সরাসরি সন্তানটিকে নিজের ঔরসজাত বলে স্বীকার করে নেন, সেক্ষেত্রে ফিকহী নীতিমালা অনুযায়ী সন্তানটির পিতৃপরিচয় সাব্যস্ত হবে।
পক্ষান্তরে, বিয়ের পর যদি ছয় মাস বা তার বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ওই গর্ভ থেকে সন্তানের জন্ম হয়, তবে সেই সন্তান বৈধ বংশধর হিসেবে প্রমাণিত হবে।
তবে যদি ওই পুরুষ ব্যভিচারের কথা প্রকাশ না করে সরাসরি সন্তানটিকে নিজের ঔরসজাত বলে স্বীকার করে নেন, সেক্ষেত্রে ফিকহী নীতিমালা অনুযায়ী সন্তানটির পিতৃপরিচয় সাব্যস্ত হবে।
আর জন্ম নেওয়া সন্তানটি আল্লাহর কাছে নিষ্পাপ; তার সাথে সাধারণ সন্তানের মতোই স্নেহ ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করতে হবে। অন্যান্য সাধারণ মুসলিম সন্তানের মতোই সে তারবিয়াত এবং ভরণপোষণ পাবে।
وفي بدائع الصنائع:
وعلى هذا يخرج ما إذا تزوج امرأة حاملا من الزنا أنه يجوز في قول أبي حنيفة ومحمد، ولكن لا يطؤها حتى تضع وقال أبو يوسف: (لا يجوز) وهو قول زفر.
(كتاب النكاح، فصل أن لا يكون بها حمل ثابت النسب من الغير، ج: ٢، ص: ٢٦٩، دار الكتب العلمية)
وعلى هذا يخرج ما إذا تزوج امرأة حاملا من الزنا أنه يجوز في قول أبي حنيفة ومحمد، ولكن لا يطؤها حتى تضع وقال أبو يوسف: (لا يجوز) وهو قول زفر.
(كتاب النكاح، فصل أن لا يكون بها حمل ثابت النسب من الغير، ج: ٢، ص: ٢٦٩، دار الكتب العلمية)
في الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (٣/٤٩):
"لو نكحها الزاني حل له وطؤها اتفاقا، والولد له ولزمه النفقة.
(قوله: والولد له) أي إن جاءت بعد النكاح لستة أشهر، مختارات النوازل، فلو لأقل من ستة أشهر من وقت النكاح لا يثبت النسب، ولا يرث منه إلا أن يقول: هذا الولد مني، ولا يقول: من الزنى، خانية. والظاهر أن هذا من حيث القضاء، أما من حيث الديانة فلا يجوز له أن يدعيه؛ لأن الشرع قطع نسبه منه، فلا يحل له استلحاقه به، ولذا لو صرح بأنه من الزنى لا يثبت قضاء أيضا، وإنما يثبت لو لم يصرح؛ لاحتمال كونه بعقد سابق أو بشبهة حملا لحال المسلم على الصلاح، وكذا ثبوته مطلقا إذا جاءت به لستة أشهر من النكاح؛ لاحتمال علوقه بعد العقد، وأن ما قبل العقد كان انتفاخا لا حملا، ويحتاط في إثبات النسب ما أمكن."
"لو نكحها الزاني حل له وطؤها اتفاقا، والولد له ولزمه النفقة.
(قوله: والولد له) أي إن جاءت بعد النكاح لستة أشهر، مختارات النوازل، فلو لأقل من ستة أشهر من وقت النكاح لا يثبت النسب، ولا يرث منه إلا أن يقول: هذا الولد مني، ولا يقول: من الزنى، خانية. والظاهر أن هذا من حيث القضاء، أما من حيث الديانة فلا يجوز له أن يدعيه؛ لأن الشرع قطع نسبه منه، فلا يحل له استلحاقه به، ولذا لو صرح بأنه من الزنى لا يثبت قضاء أيضا، وإنما يثبت لو لم يصرح؛ لاحتمال كونه بعقد سابق أو بشبهة حملا لحال المسلم على الصلاح، وكذا ثبوته مطلقا إذا جاءت به لستة أشهر من النكاح؛ لاحتمال علوقه بعد العقد، وأن ما قبل العقد كان انتفاخا لا حملا، ويحتاط في إثبات النسب ما أمكن."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন