বিবাহিতা নারীর অন্যত্র বিবাহের হুকুম
প্রশ্নঃ ১৬৯৬৮১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার স্ত্রীকে তালাক না করিয়ে মেয়ের বাবা জোর করে অন্য একটি ছেলের সাথে বিয়ে দেয় ।২৩ বসর পরে ছেলেটি মারা যায়।এখন মেয়েটি প্রথম স্বামীর কাছে আবার আশ্রয় চায়। প্রথম বিবাহের সমস্ত কাগজপত্র সেভাবেই আছে। তারা কি কখনো মিলতে পারবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো নারী এক স্বামীর বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে তালাক বা শরয়ীভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে বিবাহ করা জায়েয নয়। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় অন্যত্র বিবাহ হলেও তা সহিহ হবে না; বরং সে প্রথম স্বামীর স্ত্রী হসাবে বহাল থাকবে। কারণ কুরআনে বিবাহিত নারীদের অন্য পুরুষের জন্য বিবাহে গ্রহণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ . . .
অর্থ: “সেই সকল নারীও (তোমাদের জন্য হারাম), যারা অন্য স্বামীদের বিবাহাধীন আছে।” (সূরা আন-নিসা: ২৪)
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা যদি সঠিক হয় এবং প্রথম স্বামী তাকে কখনো তালাক দেননি, খোলা হয়নি এবং শরয়ীভাবে প্রথম বিবাহের সমাপ্তিও ঘটেনি, তাহলে মেয়ের বাবা জোর করে তাকে অন্যত্র বিবাহ দিলেও দ্বিতীয় বিবাহ সহীহ হয়নি। বরং সে এখন প্রথম স্বামীর স্ত্রী হসাবে থাকবে। কারণ সে তখনও প্রথম স্বামীর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিল।
২৩ বছর একসঙ্গে থাকার বিধান:
দ্বিতীয় বিবাহ যেহেতু সহীহ হয়নি, তাই ওই ব্যক্তির সঙ্গে ২৩ বছর স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করাও শরয়ী বৈবাহিক সম্পর্ক হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে ২৩ বছরের পুরো সময় তারা গুনাহের মধ্যে লিপ্ত ছিল এবং তাদের এ গুনাহের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করা আবশ্যক।
বর্তমানে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আসার বিধান:
দ্বিতীয় ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর, যদি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে প্রথম স্বামী কখনো তালাক দেননি এবং প্রথম বিবাহ শরয়ীভাবে বহাল ছিল, তাহলে প্রথম স্বামীর সঙ্গে পূর্বের বিবাহই বহাল থাকবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহ করার প্রয়োজন হবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন