নেফাসের ৪০ দিন শেষ হওয়ার আবার রক্ত আসলে কী করণীয়?
প্রশ্নঃ ১৭০২৪২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর, আমার নেফাস শুরু হওয়ার পরে ৪০ দিনের দিন আমি পবিত্র হই। পবিত্র হওয়ার ৫ দিনের দিন আবার রক্তস্রাব দেখতে পাই।এবং তা অল্প অল্প করে ৪ দিন যাইতে থাকে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই রক্তস্রাব ইস্তেহাজা নাকি হায়েজ। আমি কোনটি ধরবো। দয়া করে উত্তর টা দিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার উল্লেখিত অবস্থায় ৪০ দিনের নিফাসের পর যে ৫ দিন পবিত্র থেকে পুনরায় ৪ দিন রক্ত দেখেছেন, তা ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে; এটি হায়েজ নয় । নিফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ৪০ দিন। নিফাস ও পরবর্তী হায়েজের মাঝে অথবা দুই হায়েজের মধ্যবর্তী সময়ে শরীয়তসম্মত ন্যূনতম পবিত্রতার মেয়াদ হলো পূর্ণ ১৫ দিন। নিফাসের ৪০ দিন পার হওয়ার পর যদি ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্রতা অর্জিত না হয়ে তার আগেই পুনরায় রক্ত আসে, তবে সেই রক্তকে কোনোভাবেই হায়েজ গণ্য করা যাবে না; বরং তা নিশ্চিতভাবে ইস্তেহাজার রক্ত ।
ইস্তেহাজার রক্ত চলাকালীন সময়ে নামায পড়া, রোযা রাখা ও কুরআন তিলাওয়াত করা ফরয। এই ৪ দিন রক্ত দেখে যদি আপনি হায়েজ মনে করে নামায ছেড়ে দিয়ে থাকেন, তবে ওই ৪ দিনের নামাযগুলো হিসাব করে দ্রুত কাযা আদায় করে নিতে হবে। রক্ত দেখা গেলে স্থান ধুয়ে পরিষ্কার করে প্রতিটি নামাযের ওয়াক্তে ওযু করে স্বাভাবিকভাবে নামায আদায় করতে হবে।
بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع 1/ 40
لا بد من معرفة مقدار الطهر الصحيح الذي يقابل الحيض، وأقله خمسة عشر يوما عندنا
حاشية ابن عابدين = رد المحتار - ط الحلبي1/ 285
(وأقل الطهر) بين الحيضتين أو النفاس والحيض (خمسة عشر يوما) ولياليها إجماعا (ولا حد لأكثره)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ১৭৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, জনৈক মহিলার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ৪০দিন স্রাব চালু ছিল। এরপর ১২ দিন পবিত্র থাকার পর আবার স্রাব চালু হয়েছে। এখন তার পবিত্রতার হুকুম কী?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
নেফাস ও পরবর্তী হায়েযের মাঝে ন্যূনতম ১৫ দিন পবিত্রতা থাকা শর্ত। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলার নেফাস শেষ হয়ে যাওয়ার ১২দিন পর যে স্রাব চালু হয়েছে তা হয়েয নয়, বরং ইস্তেহাযা। মহিলাটি এক্ষেত্রে আরো তিন দিনসহ মোট ১৫ দিন পবিত্রতা গণ্য করবে। আর ইস্তেহাযার হুকুম হল, নামায-রোযার বিরতি হয় না। তবে প্রতি ওয়াক্তের শুরুতে নতুন অযু করে নিতে হয়। আর যদি ১৫ দিন পরও স্রাব চলতে থাকে তাহলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছে অবস্থা জানিয়ে মাসআলা জেনে নেবে। কেননা ১৫ দিনের পর স্রাব আসলে তা হায়েয হতে পারে।
والله اعلم بالصواب
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন