চাচির সম্পত্তি থেকে কি ভাতিজারা মিরাস পাবে?
প্রশ্নঃ ১৭০৩৫০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার এক আত্মীয় তার কোন ছেলে নেই দুই মেয়ে আছে । তারা বসাবসের জন্য খুব কষ্ট করে অল্প একটু জমি তার স্ত্রীর নামে কিনেছে এখন এই জমি কি তার ভাতিজারা ভাগ পাবে এবং কতটুকু পাবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
প্রশ্নোক্ত জমি যদি তার স্ত্রীর নামে ক্রয় করা হয়ে থাকে এবং ক্রয়ের মাধ্যমে স্ত্রীকেই ওই জমির মালিক করা হয়ে থাকে, তাহলে জমিটির মালিক স্ত্রী। সুতরাং স্বামী মারা যাওয়ার পর ওই জমি তার মিরাসি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং তার ভাতিজারাও ওই জমি থেকে কোনো মিরাস পাবে না। কারণ এটি তার চাচার সম্পত্তি নয়; বরং তার চাচির নিজস্ব সম্পত্তি।
তবে ওই ব্যক্তির নিজের কোনো সম্পত্তি থাকলে, তার মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তি শরিয়ত অনুযায়ী ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হবে। প্রশ্নে উল্লিখিত ওয়ারিশ যদি শুধু স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ভাতিজারা হয় এবং অন্য কোনো নিকটতর ওয়ারিশ না থাকে, তাহলে স্ত্রী ১/৮, দুই মেয়ে সম্মিলিতভাবে ২/৩, আর অবশিষ্ট ৫/২৪ (প্রায় ২০.৮৩%) ভাতিজারা আসাবা হিসেবে পাবে।
অতএব, স্ত্রীর নামে থাকা জমিতে ভাতিজাদের কোনো মিরাস নেই; কিন্তু চাচার নিজস্ব সম্পত্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে ভাতিজারা অবশিষ্ট অংশের ওয়ারিশ হতে পারে।
১. দুই মেয়ের অংশ
আল্লাহ তাআলা বলেন—
فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ ...
“যদি শুধু দুই বা ততোধিক কন্যা থাকে, তবে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে; আর যদি একজন কন্যা হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক।” —সূরা আন-নিসা, ৪:১১
অতএব, মৃত ব্যক্তির দুই মেয়ে থাকলে তাদের সম্মিলিত ফরজ অংশ ২/৩।
২. স্ত্রীর অংশ
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ ۚ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ
“তোমাদের সন্তান না থাকলে তোমরা যা রেখে যাও, তার এক-চতুর্থাংশ তাদের (স্ত্রীদের); আর তোমাদের সন্তান থাকলে তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ পাবে।”—সূরা আন-নিসা, ৪:১২
এখানে যেহেতু মৃত ব্যক্তির দুই মেয়ে আছে, তাই স্ত্রী পাবেন ১/৮।
৩. অবশিষ্ট অংশ নিকটতম পুরুষ আসাবার
ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
“নির্ধারিত ফরজ অংশগুলো তাদের প্রাপকদের দিয়ে দাও; এরপর যা অবশিষ্ট থাকে, তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।”
—সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৭৩২/৬৭৩৫
https://muslimbangla.com/hadith/6276
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন