জুমার খুতবার পর ইকামত দিয়ে নামাজ শুরু করতে অকারণে বিলম্ব হলে পুনরায় ইকামত দেওয়ার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০৪৮২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, প্রায় মসজিদেই জুমা পড়া হয় ১:৩০ আমাদের এখানেও তাই। আমাদের ইমাম সাহেব খুৎবা পড়ে শেষ করে ফেলছেন ১:২৪ তো ৫/৬ মিনিট বাকি থাকায় সেক্রেটারি সাহেব ইমামকে নামাজ পড়তে দেননি ৩০ হওয়ার পরে নামাজ পড়িয়েছেন ইমাম সাহেব। আমি এই বিয়টা স্থানীয় একজন আলেমকে বললাম উনি বললেন সমস্যা নেই। খুৎবা নাকি কখনো বাতিল হয়না।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী,
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো, যোহরের ওয়াক্ত (জুমার সময়) শুরু হয়েছে কি না।
যেহেতু ১:২৪ মিনিটে যোহরের ওয়াক্ত প্রবেশ করেছিল এবং খুতবা ওয়াক্তের মধ্যেই শেষ হয়েছে, তাই শুধু নির্ধারিত সময়ের ৫–৬ মিনিট আগে খুতবা শেষ হওয়ার কারণে ইমাম সাহেবকে নামাজ পড়াতে বাধা দেওয়া উচিত হয়নি। সময়ের ক্ষেত্রে ৫–৬ মিনিট এদিক-সেদিক হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। মসজিদে প্রচলিত সময়ের প্রতি লক্ষ রাখা ভালো; তবে শরয়ি কোনো কারণ ছাড়া এভাবে ইমাম সাহেবকে বাধা দেওয়া সমীচীন নয়।
তবে ইকামত দেওয়ার পর জামাত শুরু করতে দীর্ঘ বিলম্ব করা উচিত নয়। ফকিহগণ লিখেছেন, ইকামত ও নামাজের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি হলে ইকামত বাতিল হয়ে যায়। অনুরূপভাবে, ইকামতের পর নামাজের পরিপন্থী কোনো কাজ শুরু করলেও, যেমন পানাহার করা, ইকামত বাতিল হয়ে যায়। এ ধরনের ক্ষেত্রে পুনরায় ইকামত দিতে হবে।
সুতরাং, ইকামত দেওয়ার পর নামাজের পরিপন্থী কোনো কাজ, যেমন পানাহার, গল্পগুজব ইত্যাদি না করে থাকলে নতুন করে ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ইকামতের পর নামাজের পরিপন্থী কোনো কাজ করা হলে কিংবা দীর্ঘ বিরতি হলে পুনরায় ইকামত দিতে হবে।
শরঈ দলীল:
الدر المختار مع رد المحتار: (400/1، ط: دار الفکر)
الاقامۃ۔۔۔۔وينبغي إن طال الفصل أو وجد ما يعد قاطعا كأكل أن تعاد.
(قوله: وينبغي إلخ)۔۔۔۔أن تكرارها غير مشروع إذا لم يقطعها قاطع من كلام كثير أو عمل كثير مما يقطع المجلس في سجدة التلاوة اه
كما في الفتاوى الهندية: ومنها الخطبة قبلها حتى لو صلوا بلا خطبة أو خطب قبل الوقت لم يجز، كذا في الكافي الخطبة تشتمل على فرض وسنة فالفرض شيئان الوقت وهو بعد الزوال وقبل الصلاة حتى لو خطب قبل الزوال أو بعد الصلاة لا يجوز، هكذا في العيني شرح الهداية، والثاني ذكر الله تعالى. كذا في البحرالرائق اھـ ( ج ۱ ص ۱۴۶).
و في الهداية: ومنها الخطبة " لأن النبي صلى الله عليه وسلم ما صلاها بدون الخطبة في عمره " وهي قبل الصلاة بعد الزوال " به وردت السنة ( ج ۱ ص ۸۲)
وفي الدر المختار : (و) الرابع: (الخطبة فيه فلو خطب قبله وصلى فيه لم تصح اھـ ( ج ۲ ص ۱۴۷).
وفي رد المحتار: تحت (قوله الخطبة فيه أي في الوقت وهذا أحسن من قول الكنز والخطبة قبلها إذ لا تنصيص فيه على اشتراط كونها في الوقت. اھـ (ايضاً).
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন