পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগের বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০৪৮৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ধরুন কোনো মহিলা মিথ্যা ধর্ষণ অভিযোগ করছে কোনো পুরুষ এর ব্যাপারে। তাহলে শরীয়া সমাধান কি?
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Dhaka
৪৯ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা জঘন্য কবীরা গুনাহ। ইসলামে মানুষের ইজ্জত-আবরু ও সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো ব্যক্তি, পুরুষ হোক বা নারী, অন্য কোনো নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদ আরোপ করতে পারবে না। অপবাদের ধরন ও বিষয়ভেদে এর শরয়ী হুকুম ও শাস্তি ভিন্ন।
বিশেষত কোনো নির্দোষ, চরিত্রবান ব্যক্তির ওপর ব্যভিচার বা ধর্ষণের অপবাদ আরোপ করা শরীয়তের পরিভাষায় ‘কযফ’-এর অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী আদালতে কযফ শরয়ীভাবে প্রমাণিত হলে এবং তার নির্ধারিত শর্ত পূর্ণ হলে, কুরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী এর জন্য ৮০ বেত্রাঘাত, সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য হওয়া এবং ফাসিক সাব্যস্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
আর যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত না করে, তাদেরকে তোমরা আশিটি বেত্রাঘাত কর এবং কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর তারাই হলো ফাসিক। (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৪)যদিও উক্ত আয়াতে বিশেষভাবে নারীদের প্রতি অপবাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ফুকাহায়ে কেরাম পুরুষের প্রতি ব্যভিচারের অপবাদকেও কযফের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং কোনো নির্দোষ পুরুষের বিরুদ্ধে ব্যভিচার বা ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করাও কযফের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে, যখন শরয়ীভাবে কযফের শর্তসমূহ পূর্ণ হয়।
অতএব, প্রশ্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে কোনো নারী যদি কোনো নির্দোষ পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করে, তাহলে যদি তার অভিযোগ দ্বারা শরয়ী অর্থে ব্যভিচারের অপবাদ উদ্দেশ্য হয় এবং কযফের অন্যান্য শর্ত পূর্ণ হয়, তবে তা কযফ হিসেবে গণ্য হবে এবং কযফের শরয়ী বিধান প্রযোজ্য হবে।
আর যদি কোনো ব্যক্তি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, প্রতারণা ইত্যাদির মিথ্যা অপবাদ দেয়, সেগুলোও অত্যন্ত গুরুতর গুনাহ ও জুলুম; তবে এগুলোকে শরয়তের পরিভাষায় ‘কযফ’ বলে ৮০ বেত্রাঘাতের একই হুকুম দেওয়া যাবে না। এসব অপবাদের হুকুম ও শাস্তি বিষয়, প্রমাণ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পৃথক হবে এবং বিচারিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সুতরাং সাধারণ নীতি হলো, কোনো নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হারাম ও মারাত্মক গুনাহ; আর ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ বিশেষভাবে কযফ, যার জন্য শরীয়তে নির্ধারিত হদ রয়েছে।
যে ব্যক্তি এ ধরনের মিথ্যা অপবাদে লিপ্ত হয়েছে, তার জন্য জরুরি হলো, অপবাদ থেকে সম্পূর্ণরূপে ফিরে আসা, যার ওপর অপবাদ আরোপ করা হয়েছে তার কাছে যথাসম্ভব ক্ষমা প্রার্থনা করা, নিজের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি দূর করার চেষ্টা করা এবং আল্লাহ তা‘আলার দরবারে খাঁটি অন্তরে তওবা করা।
وفي مرقاة المفاتيح:
عن ابن عباس مرفوعاً: «لكن البينة على المدعي واليمين على من أنكر». قال النووي: هذا الحديث قاعدة شريفة كلية من قواعد أحكام الشرع، ففيه: أنه لا يقبل قول الإنسان فيما يدعيه بمجرد دعواه، بل يحتاج إلى بينة، أو تصديق المدعى عليه. (٧/٢٥٠، باب الاقضية والشهادات، ط: امدادية)
عن ابن عباس مرفوعاً: «لكن البينة على المدعي واليمين على من أنكر». قال النووي: هذا الحديث قاعدة شريفة كلية من قواعد أحكام الشرع، ففيه: أنه لا يقبل قول الإنسان فيما يدعيه بمجرد دعواه، بل يحتاج إلى بينة، أو تصديق المدعى عليه. (٧/٢٥٠، باب الاقضية والشهادات، ط: امدادية)
وفي العناية شرح الهداية:
«القذف في اللغة الرمي، وفي اصطلاح الفقهاء نسبة من أحصن إلى الزنا صريحا أو دلالة (إذا قذف الرجل رجلا محصنا أو امرأة محصنة بصريح الزنا) ۔۔۔۔۔۔(وطالب المقذوف بالحد) وعجز القاذف عن إثبات ما قذفه به (حده الحاكم ثمانين سوطا إن كان حرا لقوله تعالى {والذين يرمون المحصنات} [النور: 4] إلى أن قال {فاجلدوهم ثمانين جلدة} [النور: 4] الآية، والمراد) بقوله {والذين يرمون} [النور: 6] (الرمي بالزنا بالإجماع) وإليه الإشارة في النص لأنه شرط أربعة من الشهداء وهو مختص بالزنا.»
(كتاب الحدود، باب حد القذف، ٥/٣١٦، ط: دار الفكر)
«القذف في اللغة الرمي، وفي اصطلاح الفقهاء نسبة من أحصن إلى الزنا صريحا أو دلالة (إذا قذف الرجل رجلا محصنا أو امرأة محصنة بصريح الزنا) ۔۔۔۔۔۔(وطالب المقذوف بالحد) وعجز القاذف عن إثبات ما قذفه به (حده الحاكم ثمانين سوطا إن كان حرا لقوله تعالى {والذين يرمون المحصنات} [النور: 4] إلى أن قال {فاجلدوهم ثمانين جلدة} [النور: 4] الآية، والمراد) بقوله {والذين يرمون} [النور: 6] (الرمي بالزنا بالإجماع) وإليه الإشارة في النص لأنه شرط أربعة من الشهداء وهو مختص بالزنا.»
(كتاب الحدود، باب حد القذف، ٥/٣١٦، ط: دار الفكر)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১