মসজিদে মোবাইল ব্যবহারে শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৭১৭১৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর মসজিদে কেউ যদি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মোবাইল চালায় তাহলে কি গুনাহ হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর এবং আমাদের পবিত্র ইবাদতগাহ। এটি আল্লাহর ইবাদত, যিকির ও দ্বীনি আমলের জন্য নির্ধারিত পবিত্র স্থান। তাই মসজিদের আদব ও সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। মসজিদের আদব-শিষ্টাচার বজায় রেখে একান্ত প্রয়োজনীয় বৈধ কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে মোবাইল ব্যবহার করা, খেল-তামাশায় ব্যস্ত থাকা, অপ্রয়োজনীয় দুনিয়াবি কথাবার্তা বলা, ছবি-ভিডিও দেখা কিংবা এমনভাবে মোবাইল ব্যবহার করা, যাতে অন্য ইবাদতকারীর কষ্ট হয় বা তার ইবাদতে সামান্যও ব্যাঘাত ঘটে তা জায়েয নয়। বরং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে এ ধরনের অনর্থক ব্যবহার থেকে বিরত থাকা জরুরি।
মসজিদে আসার আগে সম্ভব হলে মোবাইল ফোন বাড়ি, অফিস ইত্যাদিতে রেখে আসা উত্তম। তা সম্ভব না হলে মসজিদে প্রবেশের আগেই মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া অথবা অন্তত সাইলেন্ট করে দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে মোবাইলের রিংটোন ও মেসেজ অ্যালার্ট এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না, যাতে গান-বাজনা বা শরীয়তবিরোধী কোনো বিষয় থাকে। এতে ভুলবশত মসজিদে মোবাইল বেজে গেলেও গান-বাজনা বাজানোর গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে।
মসজিদে ফোনে কল এলে
মসজিদে কোনো জরুরি ফোন এলে যথাসম্ভব মসজিদের বাইরে গিয়ে ফোনে কথা বলতে হবে। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে কোনো নিরিবিলি স্থানে গিয়ে প্রয়োজন পরিমাণে খুব নিচু আওয়াজে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলা যেতে পারে। তবে মুসল্লিদের মাঝে বসে ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরী; কারণ এতে অন্য মুসল্লীদের ইবাদত ও নামাযে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে এবং তাদের কষ্ট হতে পারে। বিশেষত কেউ ইবাদতে মগ্ন থাকলে কিংবা জামাতের সময় হলে এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকা জরুরি।
মসজিদে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ইত্যাদি যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার
মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে একান্ত প্রয়োজনীয় বার্তা আদান-প্রদান ও যোগাযোগ করা জায়েয। তবে এগুলোতে জীবন্ত প্রাণীর ছবি-ভিডিও, গান-বাদ্য কিংবা কোনো অনৈতিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অপ্রয়োজনীয়ভাবে মেসেজ আদান-প্রদান করা থেকে বিরত থাকবে।
মসজিদে ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি ব্যবহার
মসজিদে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময় যদি জীবন্ত প্রাণীর ছবি বা ভিডিও দেখা হয়, তাহলে তা মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদার পরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি স্বতন্ত্র গুনাহের কারণও হবে। তাই এ ধরনের কাজ থেকে মসজিদে তো বটেই, মসজিদের বাইরেও বিরত থাকা জরুরি।
সুতরাং, মসজিদে মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, প্রয়োজনীয় বৈধ কাজে মসজিদের আদব বজায় রেখে এবং অন্য মুসল্লীদের ইবাদতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে। পক্ষান্তরে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, খেল-তামাশা, ছবি-ভিডিও দেখা এবং অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এমন ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা আবশ্যক।
الأدلة الشرعية
القرآن الکریم: (النور، الآیة: 36)
فِیْ بُیُوْتٍ اَذِنَ اللّٰهُ اَنْ تُرْفَعَ وَ یُذْكَرَ فِیْهَا اسْمُهٗۙ-یُسَبِّحُ لَهٗ فِیْهَا بِالْغُدُوِّ وَ الْاٰصَالِ
القرآن الکریم: (لقمان، الآیة: 6)
" وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ"
مشکوٰۃ المصابیح: (رقم الحدیث: 4810)
"وعن جابر قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " الغناء ينبت النفاق في القلب كما ينبت الماء الزرع " . رواه البيهقي في " شعب الإيمان۔"
المستدرك على الصحيحين: (رقم الحدیث: 7916، ط: دار الكتب العلمية)
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يأتي على الناس زمان يتحلقون في مساجدهم وليس همهم إلا الدنيا ليس لله فيهم حاجة فلا تجالسوهم.
(مشكاة المصابيح: كتاب اللباس، باب التصاوير، 1274/2، ط: المكتب الإسلامي)
"عن عبد الله بن مسعود قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: أشد الناس عذاباً عند الله المصورون."
(شعب الایمان للبیہقی: الصلاۃ، فصل المشي الی المساجد، 387/4، ط : مکتبة الرشد)
"قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يأتي على الناس زمان يكون حديثهم في مساجدهم في أمر دنياهم، فلا تجالسوهم، فليس لله فيهم حاجة."
(فتاوی ہندیہ: کتاب الکراهية، الباب الخامس فی آداب المسجد و القبلة و المصحف وما کتب فیه شیء من القرآن، 321/5، ط: رشيدية)
"الجلوس في المسجد للحديث لايباح بالاتفاق؛ لأن المسجد ما بني لأمور الدنيا، وفي خزانة الفقه ما يدل على أن الكلام المباح من حديث الدنيا في المسجد حرام. قال: و لايتكلم بكلام الدنيا، و في صلاة الجلابي الكلام المباح من حديث الدنيا يجوز في المساجد، و إن كان الأولى أن يشتغل بذكر الله تعالى."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন