আল্লাহর বিধান সম্পর্কে মুখ ফসকে আপত্তিকর কথা বলে ফেলার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭৩৫৩৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোন একজন মানুষের ছেলে সন্তান নাই , মেয়ে সন্তান আছে। তার সম্পত্তির ভাগ চাচারা পাবে। আল্লাহর এই আইনের ব্যাপারে কোন বিবাহিতা মহিলা যদি মুখ ফসকে বলে আল্লাহ ভুল করেছে যদিও তার অন্তরে এই বিশ্বাস নেই যে আল্লাহ ভুল করেছে, সে বিশ্বাস করে আল্লাহ সঠিক, পরবর্তীতে সে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে নামাজে সিজদায় ক্ষমাপ্রার্থনা করেছে। এখন এ ব্যাপারে ইসলামী বিধান কি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিতা নারী যদি আল্লাহ তাআলার মিরাসের বিধান সম্পর্কে অসতর্কতাবশত মুখ ফসকে ‘আল্লাহ ভুল করেছেন’ বলে ফেলেন, অথচ তাঁর অন্তরে আল্লাহর বিধানকে ভুল মনে করার কোনো বিশ্বাস নেই; বরং তিনি আল্লাহর বিধানকে সঠিক বলে বিশ্বাস করেন এবং পরবর্তীতে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে তাঁর ঈমান নষ্ট হয়েছে বলে গণ্য হবে না। ফলে তাঁর বিবাহও বিচ্ছেদ হবে না।
তবে আল্লাহ তাআলার বিধান সম্পর্কে এ ধরনের কথা বলা অত্যন্ত ভয়াবহ ও মারাত্মক গুনাহ। তাই বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আল্লাহ তাআলা দোয়া শিখিয়ে বলেন,
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই অথবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।” (সুরা বাকারা, আয়াত ২৮৬)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
إِنَّ اللَّهَ قَدْ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যে কাজে তাদের বাধ্য করা হয়, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২০৪৩)
সহীহ মুসলিমে এমন এক ব্যক্তির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যিনি হারিয়ে যাওয়া উট ফিরে পেয়ে আনন্দের আতিশয্যে ভুল করে বলে ফেলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা, আর আমি আপনার রব!’ অথচ তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ‘আপনি আমার রব, আর আমি আপনার বান্দা।’ আনন্দের তীব্রতায় তাঁর মুখ থেকে উল্টো কথা বের হয়ে গিয়েছিল। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭৪৭)
এ থেকে বোঝা যায়, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে মানুষকে ইচ্ছাকৃত অপরাধীর মতো বিবেচনা করা হয় না।
সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত নারীর উচিত আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করা, ভবিষ্যতে এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করা এবং বেশি বেশি নেক আমল করা। সম্ভব হলে দুই রাকাত সালাতুত তাওবা আদায় করবেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ
“নিশ্চয়ই নেক কাজগুলো পাপসমূহ দূর করে দেয়।” (সুরা হুদ, আয়াত ১১৪)
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا، فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ.
যদি কেউ গুনাহে লিপ্ত হাওয়ার পর উত্তমরূপে উযু করে নামাযে দণ্ডায়মান হয়ে দুই রাকআত নামায আদায় করে, অতঃপর ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাআলা তার ঐ গুনাহ মর্জনা করেন। -সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস ১৫২১; জামে তিরমিযী, হাদীস ৪০৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩৯৫।
শেষ কথা: আল্লাহ তাআলার বিধান সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলা অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়। তাই মুমিনের উচিত নিজের জবানকে সর্বদা হেফাজত করা। তবে কেউ যদি অসতর্কতাবশত এমন কথা বলে ফেলেন, অথচ অন্তরে আল্লাহর বিধানের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন এবং পরে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করেন, তাহলে তাঁর হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের জবানকে হেফাজত করুন, ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আমীন।
** البحر الرائق شرح كنز الدقائق » (5/ 134):
«والحاصل أن من تكلم بكلمة الكفر هازلا أو لاعبا كفر عند الكل ولا اعتبار باعتقاده كما صرح به قاضي خان في فتاويه ومن تكلم بها مخطئا أو مكرها لا يكفر عند الكل ومن تكلم بها عالما عامدا كفر عند الكل»
** «حاشية ابن عابدين = رد المحتار - ط الحلبي» (4/ 247):
«وما كان خطأ من الألفاظ ولا يوجب الكفر فقائله يقر على حاله، ولا يؤمر بتجديد النكاح ولكن يؤمر بالاستغفار والرجوع عن ذلك،»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন