বিড়ালের জরায়ু কেটে ফেলা কি জায়েয
প্রশ্নঃ ১৭৩৭২৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হযরত আমি জানতে চাচ্ছি যে আমার একটি মেয়ে বিড়াল আছে তার মরার আগপর্যন্ত আমি তাকে পালতে চাই তবে তার যাতে বাচ্চা না হয় এজন্য তার জরায়ু কেটে দিছি কারন এতো বাচ্চা রাখব কোথায় তা ছাড়া বাচ্চা গুলো অন্যদের বাসায় গিয়ে ক্ষতি করবে আর মানুষ তাদের কে আঘাত করবে তাই।
৮ নভেম্বর, ২০২৬
কেরাণীগঞ্জ
০ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামে বিনা প্রয়োজনে কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া বা তার অঙ্গহানি করা জায়েয নয়। তবে কোনো প্রাণীর বন্ধ্যাকরণে যদি শরিয়তসম্মত উপকার থাকে অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধের প্রয়োজন হয়, তাহলে ফিকহে হানাফি অনুযায়ী তা জায়েয।
আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহতে উল্লেখ রয়েছে,
خِصَاءُ السِّنَّوْرِ إِذَا كَانَ فِيهِ نَفْعٌ أَوْ دَفْعُ ضَرَرٍ لَا بَأْسَ بِهِ كَذَا فِي الْكُبْرَى.
বিড়ালকে বন্ধ্যাকরণ করাতে কোনো অসুবিধা নেই, যদি তাতে কোনো উপকার থাকে অথবা কোনো ক্ষতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্য থাকে। এভাবেই আল-কুবরা গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। (আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, ৫/৩৫৭)
সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় বিড়ালের অনাকাঙ্ক্ষিত বাচ্চা হওয়া প্রতিরোধ করা, বাচ্চাগুলোর যথাযথ পরিচর্যার ব্যবস্থা না থাকা এবং তাদের অবহেলা, নির্যাতন বা দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা দূর করার উদ্দেশ্যে বন্ধ্যাকরণ করানো জায়েয। তবে শর্ত হলো, অপারেশনটি অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে এমনভাবে করাতে হবে, যাতে বিড়ালটির অস্বাভাবিক কষ্ট বা প্রাণহানির আশঙ্কা না থাকে।
অতএব, প্রশ্নে বর্ণিত উদ্দেশ্যে যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদভাবে বিড়ালটির বন্ধ্যাকরণ করানো হয়ে থাকে, তাহলে তা নাজায়েয হয়নি।
الدر المختار:
وجاز (خصاء البهائم) حتى الهرّة، وأما خصاء الآدمي فحرام قيل والفرس، وقيدوه بالمنفعة وهي إرادة سمنها أو منعها من العض بخلاف بني آدم فإنه يراد به المعاصي فيحرم، أفاده الإتقاني عن الطحاوي.
(در مختار مع شامي، ج:5، ص:342، كتاب الحظر والإباحة)
عالمگيري:
اخصاء بني آدم حرام بالاتفاق۔ إلى قوله۔ وأما في غيره من البهائم فلا بأس به إذا كان فيه منفعة وإذا لم تكن منفعة أو دفع ضرر فهو حرام كذا في الذخيرة…
(عالمگيري، ج:6، ص:236، كتاب الكراهية، الباب التاسع عشر في الختان والخصاء الخ)
السنن الكبرى للبيهقي:
ويحتمل جواز ذلك إذا اتّصل به غرض صحيح كما روينا عن التابعين۔
(السنن الكبرى للبيهقي: 10/24)
(در مختار مع شامي، ج:5، ص:342، كتاب الحظر والإباحة)
عالمگيري:
اخصاء بني آدم حرام بالاتفاق۔ إلى قوله۔ وأما في غيره من البهائم فلا بأس به إذا كان فيه منفعة وإذا لم تكن منفعة أو دفع ضرر فهو حرام كذا في الذخيرة…
(عالمگيري، ج:6، ص:236، كتاب الكراهية، الباب التاسع عشر في الختان والخصاء الخ)
السنن الكبرى للبيهقي:
ويحتمل جواز ذلك إذا اتّصل به غرض صحيح كما روينا عن التابعين۔
(السنن الكبرى للبيهقي: 10/24)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন