বুখারি শরিফের খতমের আয়োজন করা
প্রশ্নঃ ১৭৩৭২৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বুখারী শরিফের খতমের আয়োজন করা কি ইসলামে বৈধতা আছে?
৮ নভেম্বর, ২০২৬
চট্টগ্রাম
০ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সহিহ বুখারি শরিফের দরস বা পাঠ সমাপ্ত হলে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়, দোয়া-মুনাজাত এবং ইলমি আলোচনা উপলক্ষে কোনো আয়োজন করা মূলত জায়েয। তবে এ আয়োজনকে শরিয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিশেষ কোনো আমল বা আবশ্যকীয় রীতি মনে করা যাবে না।
ইমাম নববি (রহ.) তাঁর আল-আযকার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,
ইমাম নববি (রহ.) তাঁর আল-আযকার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,
كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ إِذَا خَتَمَ الْقُرْآنَ جَمَعَ أَهْلَهُ وَدَعَا
আনাস ইবনে মালিক (রা.) যখন কুরআন খতম করতেন, তখন তাঁর পরিবার-পরিজনকে একত্র করতেন এবং দোয়া করতেন। (আল-আযকার, পৃ. ৯৭)
উল্লেখ্য, এ বর্ণনাটি কুরআন খতমের পর একত্র হওয়া ও দোয়া করার বিষয়ে; এটি সরাসরি বুখারি শরিফের খতমের দলিল নয়। তবে খতম উপলক্ষে একত্র হওয়া ও দোয়া করার বৈধতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এর থেকে সমর্থন নেওয়া যেতে পারে।
সুতরাং বুখারি শরিফের খতম উপলক্ষে দোয়া-মুনাজাত, ইলমি আলোচনা ও আপ্যায়নের আয়োজন করা জায়েয। তবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
উল্লেখ্য, এ বর্ণনাটি কুরআন খতমের পর একত্র হওয়া ও দোয়া করার বিষয়ে; এটি সরাসরি বুখারি শরিফের খতমের দলিল নয়। তবে খতম উপলক্ষে একত্র হওয়া ও দোয়া করার বৈধতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এর থেকে সমর্থন নেওয়া যেতে পারে।
সুতরাং বুখারি শরিফের খতম উপলক্ষে দোয়া-মুনাজাত, ইলমি আলোচনা ও আপ্যায়নের আয়োজন করা জায়েয। তবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
খতমে বুখারির অনুষ্ঠানে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
১. প্রতিবছর নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখে খতমের আয়োজন করাকে শরিয়ত-নির্ধারিত বিশেষ আমল মনে করা যাবে না। তবে শিক্ষাবর্ষ বা প্রশাসনিক সুবিধার্থে একটি দিন নির্ধারণ করায় অসুবিধা নেই।২. সম্মিলিত দোয়া করা জায়েয; কিন্তু খতমে বুখারির পর সম্মিলিত দোয়াকে আবশ্যক কিংবা বিশেষভাবে প্রমাণিত সুন্নত মনে করা যাবে না।
৩. আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা জায়েয; তবে এ উপলক্ষে অপচয়, লোকদেখানো আয়োজন, ঋণগ্রস্ত হওয়া কিংবা শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা অনুচিত।
৪. কেউ কোনো কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারলে তাকে দোষারোপ করা বা তার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা যাবে না।
মোটকথা, বুখারি শরিফের খতম উপলক্ষে ইলমি মাহফিল, দোয়া-মুনাজাত ও আপ্যায়নের আয়োজন করা জায়েয। তবে এটিকে শরিয়ত-নির্ধারিত বিশেষ ইবাদত বা আবশ্যকীয় রীতি মনে করা যাবে না এবং এর সঙ্গে কোনো অনৈসলামিক প্রথা যুক্ত করা যাবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন