কালেমা খতম ও কুরআন শরীফ হাত থেকে পড়ে যাওয়ার কাফফারা
প্রশ্নঃ ৪৭০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ১. আমাদের সমাজে প্রচলন আছে যে, মৃত ব্যক্তির জন্য ৭০ হাজার বার কালিমা তায়্যেবা পড়লে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়। আবার কেউ কেউ নিজ জীবদ্দাশায় এ উদ্দেশ্যে ৭০ হাজার বার কালিমা পড়ে। তবে কেউ মারা গেলে তার কবরের আযাব মাফ হওয়ার জন্য পড়ার রেওয়াজটা বেশি। মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা হল, এটি হাদীসে আছে কি না? আর এ আমল করলে কি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে? ২. আমাদের এলাকায় একথা প্রসিদ্ধ যে, যদি কোনো ব্যক্তির হাত থেকে অনিচ্ছায় ও ভুলবশত কুরআন শরীফ পড়ে যায়, তাহলে তা ওজন করে চাল বা গম ইত্যাদি সদকা করতে হয়। এ কথাটি মহিলাদের মাঝে বেশি প্রসিদ্ধ। তাই জানতে চাচ্ছি, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কেমন? আর আল্লাহ না করুন, কখনো এমনটি হয়ে গেলে আমাদের করণীয় কি? দয়া করে প্রশ্ন দুটির শরয়ী সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন। আল্লাহ আপনাদের উত্তম বিনিময় দিন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১. প্রশ্নোক্ত কথাটি সহীহ নয়। বরং এটি লোকমুখে প্রচলিত একটি কথা। যার কোনো দালীলিক ভিত্তি নেই। শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রাহ.-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি সহীহ বা যয়ীফ কোনো সনদেই বর্ণিত নেই।’ -মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ২৪/৩২৩
প্রকাশ থাকে যে, কালিমা তায়্যেবা পাঠ করা অনেক বড় সওয়াবের কাজ এবং হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী এটি উত্তম যিকির। একাধিক হাদীসে এ কালিমা পাঠের বহু ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এক হাদীসে এসেছে-
مَنْ قَالَ لَا إِلهَ إِلّا اللهُ صَادِقًا بِهَا دَخَلَ الْجَنّةَ.
‘যে ব্যক্তি এখলাসের সাথে لَا إِلهَ إِلّا اللهُ পাঠ করবে সে জান্নাতে যাবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৯৬৮৯; শরহু মুশকিলিল আছার, হাদীস ৪০০৩)
তাই নিজে কালিমা তায়্যেবা পাঠ করা কিংবা কোনো মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের জন্য পাঠ করা ভালো কাজ। কিন্তু প্রশ্নোক্ত সংখ্যা ও পদ্ধতির কোনো দালীলিক ভিত্তি নেই। তাই এ পদ্ধতি বর্জনীয়।
২. কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে তা ওজন করে চাল বা গম দেওয়ার কোনো বিধান শরীয়তে নেই; বরং সদকা দেওয়ার উদ্দেশ্যেও এক্ষেত্রে কুরআন মাজীদ ওজন করা একধরনের বেআদবী। কখনো অনিচ্ছাকৃত এমনটি হয়ে গেলে আল্লাহ তাআলার দরবারে ইসতেগফার করে নিবে। আর এক্ষেত্রে কুরআন মাজীদ ওজন না করে কেউ এমনিতেই কোনো কিছু সদকা করতে চাইলে তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৬০
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন