কয় বছর বয়সে নামাজ-রোজা ফরজ হয়?
প্রশ্নঃ ৬৬৪৩৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কয় বছর এ নামাজ-রোজা ফরজ হয়
৪ জুলাই, ২০২৪
Sylhet
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ছেলে-মেয়েদের উপর নামাজ-রোজা ফরজ।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার লক্ষণ হলো, যখন একটি ছেলের বীর্যপাত হয় এবং মেয়েদের মাসিক হয় বা গর্ভবতী হয়। এই নিদর্শন প্রকাশ হওয়ার পর নামাজ-রোজা ফরজ হয়ে যায়।
যদি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কোন লক্ষণ না থাকে, তবে চান্দ্র মাস অনুসারে যখন তারা পনের বছর বয়সে উপনীত হবে, তখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে বিবেচিত হবে এবং তাদের উপর নামাজ-রোজা ফরয হবে।
তবে , রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিতামাতার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন যে, সন্তানের বয়স যখন সাত বছর হবে তখন তাদের সালাতের আদেশ দিতে হবে এবং দশ বছর বয়সে নামায না পড়ার জন্য তাদের প্রহার করতে। এবং যদি রোজা রাখার সামর্থ্য থাকে তবে রোজাও রাখতে বলবে।
হাদীস শরীফে এসেছে,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرُوا أَوْلاَدَكُمْ بِالصَّلاَةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِينَ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ " .
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের সন্তানরা সাত বছরে উপনীত হবে, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দেবে এবং তাদের বয়স যখন দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদেরকে মারপিট কর এবং তাদের (ছেলে-মেয়েদের) বিছানা পৃথক করে দিবে।
কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ (সুনানে আবু দাউদ)
হাদীস নং: ৪৯৫ আন্তর্জাতিক নং: ৪৯৫
হাদীসের লিংকঃ https://muslimbangla.com/hadith/14841
অন্যত্রে বর্ণিত হয়েছে,
أَرْسَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةَ عَاشُورَاءَ إِلَى قُرَى الأَنْصَارِ: «مَنْ أَصْبَحَ مُفْطِرًا، فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ وَمَنْ أَصْبَحَ صَائِمًا، فَليَصُمْ» ، قَالَتْ: فَكُنَّا نَصُومُهُ بَعْدُ، وَنُصَوِّمُ صِبْيَانَنَا، وَنَجْعَلُ لَهُمُ اللُّعْبَةَ مِنَ العِهْنِ، فَإِذَا بَكَى أَحَدُهُمْ عَلَى الطَّعَامِ أَعْطَيْنَاهُ ذَاكَ حَتَّى يَكُونَ عِنْدَ الإِفْطَارِ
আশূরার* সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেনঃ যে ব্যক্তি রোযা পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার রোযা অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন রোযা পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি রাযিঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন রোযা রাখতাম এবং আমাদের শিশুদের রোযা রাখাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরী করে দিতাম। যখন তাদের কেউ খাবারের জন্য কান্না করতো তখন তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ইফতার পর্যন্ত ভুলিয়ে রাখতাম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৯৬০
*মুহাররম মাসের দশ তারিখ। রমযানের রোযা ফরয হওয়ার আগে এই দিন রোযা পালন করার নির্দেশ ছিল।
https://muslimbangla.com/hadith/1836
এটাও জেনে রাখা উচিত যে,একটি ছেলের বয়ঃসন্ধির ন্যূনতম বয়স হলো, বারো বছর, যেখানে একটি মেয়ের বয়ঃসন্ধির ন্যূনতম বয়স হল নয় বছর৷
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (6/ 153):
"(بلوغ الغلام بالاحتلام والإحبال والإنزال) والأصل هو الإنزال (والجارية بالاحتلام والحيض والحبل) ولم يذكر الإنزال صريحاً؛ لأنه قلما يعلم منها (فإن لم يوجد فيهما) شيء (فحتى يتم لكل منهما خمس عشرة سنةً، به يفتى) لقصر أعمار أهل زماننا".
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি জাওয়াদ তাহের
মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১